দ্য ওয়াল ব্যুরো : গত ১৬ জানুয়ারি থেকে ভারতে সেরাম ইনস্টিটিউটের তৈরি কোভিশিল্ড ও ভারত বায়োটেকের তৈরি কোভ্যাক্সিন টিকা দেওয়া শুরু হয়েছে। শনিবার সেরাম ইনস্টিটিউটের সিইও আদার পুনাওয়ালা বলেন, আগামী জুনের মধ্যে তাঁরা আরও একটি ভ্যাকসিন আনতে পারবেন বলে আশা করছেন। তার নাম কোভোভ্যাক্স। আমেরিকার সংস্থা নোভাভ্যাক্সের সঙ্গে যৌথভাবে ওই প্রতিষেধক তৈরি করছে সেরাম। ব্রিটেনে পরীক্ষা করে দেখা গিয়েছে, ওই টিকা করোনার বিরুদ্ধে ৮৯.৩ শতাংশ সুরক্ষা দিতে পারে।
পুনের সেরাম ইনস্টিটিউট ইতিমধ্যে ভারতে ওই ভ্যাকসিন পরীক্ষার জন্য অনুমতি চেয়েছে। আদার পুনাওয়ালা টুইট করে বলেন, "নোভাভ্যাক্সের সঙ্গে যৌথভাবে আমরা যে ভ্যাকসিন বানিয়েছি, তা যথেষ্ট কার্যকরী হয়েছে। আমরা ভারতে ওই ভ্যাকসিন পরীক্ষার জন্য আবেদন করেছি। আশা করছি, ২০২১ সালের জুনের মধ্যে কোভোভ্যাক্স বাজারে এসে যাবে।"
https://twitter.com/adarpoonawalla/status/1355421280539791360
আগামী এপ্রিল থেকে মাসে চার থেকে পাঁচ কোটি ভ্যাকসিন তৈরি করবে নোভাভ্যাক্স। প্রথমে করোনাভাইরাসের যে স্ট্রেন দেখা গিয়েছিল, তাতে ৯৫.৬ শতাংশ কার্যকরী হচ্ছিল ওই প্রতিষেধক। করোনার নতুন ব্রিটেন স্ট্রেনের বিরুদ্ধে তা ৮৫.৬ শতাংশ কার্যকর হচ্ছে।
গত বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ওয়ার্ল্ড ইকনমিক ফোরামের মঞ্চে বলেন, করোনাকে জয় করেছে ভারত। অনেকেই আশঙ্কা করেছিলেন, ভারতে ভয়ংকর রূপ নেবে অতিমহামারী। কিন্তু তা হয়নি। একইসঙ্গে তিনি বলেন, এখনও পর্যন্ত ভারতে তৈরি দু'টি ভ্যাকসিন মানুষকে দেওয়া হচ্ছে। আগামী দিনে আরও মেড ইন ইন্ডিয়া ভ্যাকসিন আসবে।
প্রধানমন্ত্রীর কথায়, "গতবছর ফেব্রুয়ারি-মার্চ মাসে অনেক বিশেষজ্ঞ বলেছিলেন, বিশ্ব জুড়ে অতিমহামারীতে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হবে ভারত। এদেশে সুনামির মতো আছড়ে পড়বে করোনা। তাঁদের ধারণা ছিল, ভারতে ২০ লক্ষ মানুষ করোনায় মারা যাবেন। কিন্তু মানুষের সহায়তায় আমরা সেই আশঙ্কা বাস্তব হতে দিইনি।"
মোদীর দাবি, যে দেশগুলি সবচেয়ে বেশি সংখ্যক মানুষের জীবন বাঁচাতে সক্ষম হয়েছে, ভারত তাদের অন্যতম। ভারতে বিশ্বের ১৮ শতাংশ মানুষ বাস করেন। এদেশে করোনা নিয়ন্ত্রণে আসায় সারা বিশ্বই বিরাট বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে।
টিকাকরণের প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভারতে বিশ্বের সর্ববৃহৎ ভ্যাকসিনেশন প্রকল্প চালু হয়েছে। মাত্র ১২ দিনে ২৩ লক্ষ স্বাস্থ্যকর্মী টিকা নিয়েছেন। ভারত থেকে অন্য দেশেও ভ্যাকসিন পাঠানো হয়েছে। সেই সব দেশের মানুষও করোনা থেকে রক্ষা পেয়েছেন।
বিশ্বে করোনা আক্রান্তের সংখ্যায় আমেরিকার পরেই রয়েছে ভারত। দেশে মোট আক্রান্তের সংখ্যা কোটি ছাড়িয়েছে। সেপ্টেম্বর মাসের মাঝামাঝি সময়ে সংক্রমণ শিখরে পৌঁছেছিল। তারপর থেকেই তা কমতে শুরু করেছে। দেশে একাধিক জায়গায় হার্ড ইমিউনিটি তৈরি হয়েছে বলেও জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা।