
শেষ আপডেট: 1 December 2022 01:55
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বৃহস্পতিবার গুজরাতে বিধানসভা নির্বাচনের (Gujarat Assembly Election) প্রথম দফার ভোট। ১৮২ আসনের গুজরাত বিধানসভায় এদিন ভোট নেওয়া হবে ৮৯টি আসনে। দু’দফার নির্বাচনে ৫ ডিসেম্বর ভোট গ্রহণ করা হবে বাকি আসনগুলিতে। প্রথম দফায় ভাগ্য নির্ধারিত হবে ৭৮৮জন প্রার্থীর।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের (Amit Shah) রাজ্যে বিজেপি (BJP) টানা ২৭ বছর ক্ষমতায়। এরমধ্যে ১৪ বছর রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন মোদী। তিনি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর বিগত সাড়ে আট বছরে দল ও সরকারের কাজ বারে বারেই প্রশ্নের মুখে পড়েছে। তবে প্রতিবারই পরিস্থিতি সামলে দিয়েছেন মোদী-শাহ জুটি।
এবারও পালা বদলের আশা কম, এমনই আভাস মিলেছে প্রাক নির্বাচনী সব সমীক্ষায়। এর পাশাপাশি সমীক্ষায় দ্বিতীয় স্থানে রাখা হয়েছে কংগ্রেসকে। সামান্য কয়েকটি আসন পেয়ে তৃতীয় স্থানে থাকতে পারে আম আদমি পার্টি।
যদিও আপের উপস্থিতি ঘিরে গুজরাতের ভোট এবার অন্য মাত্রা পেয়েছে। ভোটের ময়দানে বরাবর দ্বিমুখী লড়াইয়ের সাক্ষী এই রাজ্যে এবার প্রচারে জোর টক্কর দিয়েছে অরবিন্দ কেজরিওয়ালের দল।
অন্যদিকে, প্রচারে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সক্রিয় উপস্থিতিও বাড়তি রাজনৈতিক মাত্রা দিয়েছে এবারের নির্বাচনকে। মোদীর প্রচারের বহর ও নিষ্ঠা দেখে অনেকেরই মনে হয়েছে, ২০২৪-এর লোকসভা ভোটের আগে প্রধানমন্ত্রী যেন নিজের রাজ্যের ভোটকেই সেমিফাইনাল হিসাবে দেখছেন।
প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও দাবি করেছেন, ভোটের বাক্সে প্রতিষ্ঠান বিরোধিতার তত্ত্ব ফের মিথ্যা প্রমাণ করতে চলেছে গুজরাত। অন্যদিকে, কংগ্রেস এবং আপের দাবি, চেনা মাঠে এটাই মোদীর শেষ লড়াই। গুজরাত দিয়ে শুরু হবে প্রধানমন্ত্রীর পিছু হঠার পালা।
সেই সম্ভাবনা মিথ্যা প্রমাণে প্রধানমন্ত্রীর মতোই নিজের রাজ্যে পড়ে আছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাহও। গুজরাতের এই নির্বাচন তাঁরও অগ্নিপরীক্ষা বলা চলে।
পাঁচ বছর আগের ভোটে গুজরাত দেখেছিল মোদী বনাম রাহুল গান্ধীর লড়াই। তৎকালীন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল বিজেপিকে শক্ত চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিয়েছিলেন। মাত্র নয়টি আসনের ব্যবধানে সরকারে টিকে থাকতে সক্ষম হয় পদ্ম শিবির। কিন্তু প্রাপ্ত আসন একশোর নিচে নেমে যায় তাদের। এবার 'ভারত জোড়ো যাত্রা' নিয়ে ব্যস্ত রাহুল গুজরাতে সভা করেছেন মাত্র দুটি। কংগ্রেসও কৌশল বদলে বড় সমাবেশের পরিবর্তে বাড়ি বাড়ি প্রচারে জোর দিয়েছে।
মল্লিকার্জুন খাড়্গে কংগ্রেসের সভাপতি হওয়ার পর গুজরাত দ্বিতীয় রাজ্য যেখানে বিধানসভার ভোট হচ্ছে। এর আগে ভোট হয়েছে হিমাচল প্রদেশে। গুজরাতে শেষ প্রহরে প্রচারে গিয়ে খাড়্গে বিতর্কে জড়িয়েছেন রাবণকে জড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী সম্পর্কে মন্তব্য করে।
অমিত শাহের দাবি, এবার ফল হবে চমকপ্রদ। রেকর্ড জয় হাসিল করবে বিজেপি। দ্বিতীয় স্থানে থাকবে কংগ্রেস। আর খাতাই খুলতে পারবে না আপ।
শাহের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই ভাষণে হিংসা ও ঘৃণা ছড়ানোর অভিযোগ জমা পড়েছে নির্বাচন কমিশনের কাছে। কমিশন গুজরাটের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক পি ভারতীর রিপোর্ট তলব করে। তবে এখনও নিজেদের সিদ্ধান্ত জানায়নি দিল্লির কমিশন কর্তারা। আজ প্রথম দফার ভোট গ্রহণের সময় শাহ রাজ্যের অন্যত্র প্রচার চালাবেন।
ভারতী জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার ৫০ শতাংশ বুথে ওয়েব কাস্টিং করা হবে। অর্থাৎ কমিশনের কর্তারা তো বটেই, সাধারণ মানুষও ঘরে বসে ওই সব বুথের ভোটগ্রহণ চাক্ষুষ করতে পারবেন। তিনি জানিয়েছেন, নিরাপত্তা কঠোর করতে কেন্দ্রীয় আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে সব বুথে।
সিইও জানিয়েছেন, কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। প্রথম দফায় ভোটার সংখ্যা ২,৩৯,৭৬,৭৬০ জন।
ভারতের জি-২০-র সভাপতিত্বকালে ঐক্যভাবনার মধ্য দিয়ে উন্নয়নই হবে আমাদের মূল লক্ষ্য