বরাত নেই, বউবাজারের সোনাপট্টি 'আনন্দচক'-এ স্তব্ধ স্যাকরার ঠুকঠাক
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ‘প্রথম ও দ্বিতীয় লকডাউনে বহু কারিগর কাজ ছেড়ে চলে গেছেন (gold business)। কেউ সবজি বিক্রি করছেন, কেউ করছেন দারোয়ানের চাকরি। এগুলো ওদেরই ড্রয়ার ছিল।’ ফাঁকা ড্রয়ারগুলোর দিকে আঙুল দেখিয়ে বললেন, নিত্যরঞ্জন রায়।
বউবাজারের (bo
শেষ আপডেট: 29 August 2021 10:31
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ‘প্রথম ও দ্বিতীয় লকডাউনে বহু কারিগর কাজ ছেড়ে চলে গেছেন (gold business)। কেউ সবজি বিক্রি করছেন, কেউ করছেন দারোয়ানের চাকরি। এগুলো ওদেরই ড্রয়ার ছিল।’ ফাঁকা ড্রয়ারগুলোর দিকে আঙুল দেখিয়ে বললেন, নিত্যরঞ্জন রায়।
বউবাজারের (boubazar) বিপিন বিহারী গাঙ্গুলি স্ট্রিটের ছোট্ট গলি ‘আনন্দচক’। একটা খুপরি ঘরে বসে সোনার আংটিতে ঠুকঠুক করে হাতুড়ি চালাচ্ছিলেন নিত্যরঞ্জন রায়। হলুদ বাল্বটা সিলিং থেকে নেমে এসেছে তাঁর ড্রয়ারের পাশের জলচৌকির ওপর। ছোট খুপরি ঘরে হলদেটে আলো–আঁধারি। কিন্তু নিত্যরঞ্জনের চোখেমুখে শুধুই অন্ধকার। নাম ‘আনন্দচক’। কিন্তু স্বর্ণশিল্পীরা জানালেন, আনন্দের বদলে এখন সর্বক্ষণ আশঙ্কা ঘুরে বেড়ায় সেখানে।
আরও পড়ুনঃ জাতীয় সঙ্গীত গাইছে একরত্তি 'সেনা', মিষ্টি গলা শুনলে গলে যাবেন আপনিও
সোনারপুরের বাসিন্দা নিত্যরঞ্জন বললেন, ‘গত দু’বছরে আমাদের কাজের পরিমাণ অনেক কমে গেছে। যেকারণে ফাঁকা হচ্ছে আনন্দচক সহ বউবাজারের বহু স্বর্ণশিল্পীর কারখানা।’
বউবাজারে প্রায় দেড়লক্ষ স্বর্ণশিল্পী রয়েছেন। যারমধ্যে চারশোজন ছিলেন আনন্দচকে। এখন সেই সংখ্যাটা আড়াইশোতে এসে দাঁড়িয়েছে। জানালেন স্বর্ণশিল্পী প্রদীপ রায়। বললেন, ‘নতুন ছেলেরা আর এই কাজে আসতে চাইছেন না। এই লাইনে আর কিছু নেই। তলানিতে এসেছে ঠেকেছে।’ আরও বললেন, ‘আগে দোকানদার ও মালিকের মধ্যে একটা ভালো সম্পর্ক ছিল। বিশ্বাস ছিল। এখন তা আর নেই। বড় শো–রুমের অর্ডার নিতে গেলে আগে সোনা জমা দিতে হয়। তারপর কাজ মেলে। বেশিরভাগ পক্ষে অত টাকা নিয়ে কাজে আসা সম্ভব নয়। তাই আসছে না কেউ।’
স্বর্ণশিল্পী কৃষ্ণ কর্মকার বললেন, ‘একদম কাজ নেই। শো–রুম গুলো এখন বাইরে থেকে গয়না আনাচ্ছে। এজন্য আমাদের কাজ কমে গেছে। করোনার পর থেকে অবস্থা আরও খারাপ। কোনও সংস্থা থেকে কোনও সাহায্য করেনি। কাজ ছেড়ে অনেকেই ভ্যান চালাচ্ছে, মাছ বিক্রি করছে। পরিস্থিতির কোনও উন্নতির লক্ষণ নেই।’
এক প্রবীণ শিল্পী জানালেন, ‘স্বর্ণশিল্পী বাঁচাও সমিতি আমাদের জন্য কিছুই করেনি। রোজগার একই রয়েছে। জিনিসপত্রের দাম বেড়েছে। সোনার দাম বাড়ছে। এরইমধ্যে আবার হলমার্ক নিয়েও সরকারি বাধা। সবমিলিয়ে আমরা ভালো নেই।’
পড়ুন দ্য ওয়ালের সাহিত্য পত্রিকা 'সুখপাঠ'