দ্য ওয়াল ব্যুরো: 'আমিও চৌকিদার'। এই স্লোগান দিয়েই শনিবার থেকে নির্বাচনী প্রচার শুরু করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সোশ্যাল মিডিয়াতেও ঝড় তুলেছেন, সমস্ত বিজেপি নেতারা নিজেদের নামের আগে চৌকিদার লিখে। কিন্তু এই প্রচার ঝড়ই জোর ধাক্কা খেল ছোট্ট একটি প্রশ্নের মুখে।
'চৌকিদার, আমার ছেলে কোথায়?'-- প্রশ্ন তুললেন ফতেমা নাফিস। নাজিবের মা। বছর তিনেক আগে নাজিব আহমেদের নাম গণমাধ্যমের শিরোনামে এসেছিল নিখোঁজ সংবাদ হিসেবে। দিল্লির জহরলাল নেহেরু ইউনিভার্সিটির (জেএনইউ) ছাত্র নাজিব হঠাৎই এক দিন উধাও হয়ে যায় হস্টেল থেকে। তার মা ফতেমা নাফিসের অভিযোগ, ছেলে নিখোঁজ হওয়ার পিছনে হাত রয়েছে বিজেপির ছাত্র সংগঠন এবিভিপি-র। সিবিআই অবশ্য তদন্তে নেমে নাজিবের কোনও খোঁজই পায়নি বলে দাবি করেছে।
তিন বছর ধরে ছেলেকে হারিয়ে উৎকণ্ঠা আর কষ্টের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন ফতেমা। এর মধ্যেই মোদীর চৌকিদার স্লোগানের জেরে সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে দাবি উঠেছে, সমাজের সব ক্ষেত্রের চৌকিদার।
রবিবার মোদীর উদ্দেশে ফতেমা টুইট করেন, "আপনি যদি চৌকিদার হন, তা হলে বলুন, আমার ছেলে নাজিব কোথায়? কেন অভিযোগ পাওয়ার পরেও এবিভিপি গুন্ডাদের গ্রেফতার করা হল না কেন? তিন তিনটি গোয়েন্দা সংস্থা আমার ছেলেকে খুঁজে বার করতে পারল না কেন?"-- এ দিন টুইটে প্রশ্ন তোলেন তিনি।
দেখে নিন নাজিবের মায়ের সেই টুইট।
https://twitter.com/FatimaNafis1/status/1106869917805092864
২৭ বছরের নাজিব আহমেদ জেএনইউ-এর বায়োটেকনোলজি বিভাগের পড়ুয়া ছিল। ২০১৬ সালের ১৫ অক্টোবর এবিভিপি-র একদল ছাত্রের সঙ্গে সংঘর্ষের পরে নিখোঁজ হয়ে যায় সে। তার নিখোঁজ হওয়ার এফআইআর-এর ভিত্তিতে রুজু হওয়া মামলায় ন'জন ছাত্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে। মামলায় স্পেশ্যাল ইনভেস্টিগেশন টিম (সিট) গঠন করে তদন্তের নির্দেশ দেয় দিল্লি আদালত। তদন্তে নামে সিবিআই-ও।
দু'বছর পরে, গত বছরের অক্টোবর মাসে সিবিআই আদালতকে জানিয়ে দেয়, সব রকম তদন্তের পরেও নাজিবের খোঁজ পায়নি তারা। নাজিবের মা ফতেমা নাফিস অভিযোগ তোলেন, রাজনৈতিক চাপে প্রভাবিত হয়েছে সিবিআই।
২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের সময়েই নিজেকে দেশের চৌকিদার হিসেবে তুলে ধরেছিলেন নরেন্দ্র মোদী। পাঁচ বছর পরে ফের লোকসভা ভোটের দামামা বেজেছে। ফের প্রচারে নেমে নিজেকে চৌকিদার বলে দাবি করেছেন তিনি।
এই পরিস্থিতিতে তাঁর 'চৌকিদারি' বড় ধাক্কা খেল এক অসহায় মায়ের প্রশ্নের মুখে। ছেলে কোথায় জানতে চেয়েছেন ফতেমা। যদিও এখনও কোনও উত্তর পাননি তিনি।