
শেষ আপডেট: 21 October 2022 06:40
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কাশী অর্থাৎ বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয় (BHU) বলে কথা। কথায় কথায় ফুটে ওঠে সাম্প্রদায়িক অসহিষ্ণুতার ঘটনা। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই পান থেকে চুন খসলে অসহিষ্ণু হয়ে ওঠে গেরুয়া শিবির।
সেই জগৎ বিখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয় গত দু’দিন ধরে অস্থির পরীক্ষার প্রশ্নপত্র (exam question) নিয়ে। তাতে গরুর মাংস রান্না (cooking beef) নিয়ে দুটি প্রশ্ন ছিল। আর তাতেই ক্ষিপ্ত পরীক্ষার্থীদের একাংশ। তারা উপাচার্যের পদত্যাগ দাবি করে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চেয়েছে। তাদের অভিযোগ হিন্দু ভাবাবেগকে আঘাত করতেই গরুর মাংস রান্না নিয়ে প্রশ্ন করা হয়েছে।
গত পরশু ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিপার্টমেন্ট অফ ভোকেশনাল কোর্সেসের হোটেল ম্যানেজমেন্ট সংক্রান্ত বিষয়ের পরীক্ষা। তাতেই ছিল গরুর মাংস রান্না করা সংক্রান্ত দুটি প্রশ্ন। পরীক্ষার্থীদের একাংশের বক্তব্য, গরুর মাংস রান্না নিয়ে কেন প্রশ্ন দেওয়া হয়েছে?
আসলে উত্তরপ্রদেশে যোগী আদিত্যনাথের সরকার ক্ষমতাসীন হওয়ার পর থেকে গরুর মাংস একপ্রকার অচ্ছুৎ হয়ে গিয়েছে। রাজ্য সরকার গো-হত্যা বন্ধে কঠোর আইন করেছে। গরুর মাংস বেচাকেনা, খাওয়ার উপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। তার জেরে গরুর মাংস বিক্রি, খাওয়ার ঘটনায় মারধর, গণহত্যার মতো ঘটনাও ঘটে গিয়েছে বিগত কয়েক বছরে। ফলে, গরুর মাংস নিয়ে বিতর্কের তাওয়া গরম হয়ে আছে সেই থেকে।
সেই গরুর মাংস রান্না নিয়ে প্রশ্ন আসায় উপাচার্য কেন পড়ুয়াদের সমালোচনার মুখে পড়েছেন? আসলে এ বছর এপ্রিলে ক্যাম্পাসে শিক্ষক ও ছাত্রদের একাংশের আয়োজিত ইফতার পার্টিতে যোগ দিয়েছিলেন উপাচার্য সুধীরকুমার জৈন। উপাচার্যের উপর তখন থেকেই ক্ষিপ্ত হিন্দুত্ববাদী শিবির। তাতে শামিল হয় বিদ্যার্থী পরিষদের সদস্যরা। প্রতিবাদ করে শিক্ষকদের একাংশও।
প্রশ্ন নিয়ে আপত্তির জবাবে হোটেল ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ক্যাটারিং সার্ভিসের এক শিক্ষক বলেন, আমরা ছাত্রছাত্রীদের বিশ্ব-বাজারের চাকরির জন্য তৈরি করতে চাইছি। সে জন্য গরুর মাংস রান্নার বিষয়ে জানাটা জরুরি।
আপত্তি উত্থাপন করা পড়ুয়ারা তা মানতে নারাজ। তাদের বক্তব্য, গরুর মাংস খাওয়াতে উৎসাহ দিতেই প্রশ্ন দুটি করা হয়েছে। এ জন্য দোষীদের সাজা না দেওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়া হলে বড় আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে।
ইতিমধ্যে সামাজিক মাধ্যমে প্রচার শুরু করা হয়েছে দোষীদের সাজা দাবি করে। আন্দোলনে যোগ দিয়েছে অন্য বিভাগের পড়ুয়ারাও। ইতিহাসের ছাত্র রাকেশ চতুর্বেদী বলেন, আমাদের ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত করা হয়েছে। উপাচার্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়া পর্যন্ত আমরা পিছু হঠছি না। এর আগে ইফতার পার্টিতেও যোগ দিয়েছিলেন তিনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অরুণ কুমার বলেন, আমাদের কাছে কিছু অভিযোগ জমা পড়েছে। আমরা সেগুলি খতিয়ে দেখছি। মুখ খোলেননি উপাচার্য।
ভোটের বাদ্যি বাজতেই ধর্ষকের দ্বারে বিজেপি, সেই গুরমিতের আশীর্বাদ প্রার্থী হরিয়ানার নেতারা