কলকাতার প্রায় ২ হাজার ৫০০টি দুর্গাপুজো কমিটি মূর্তি, সাজসজ্জা, আলো এবং আয়োজনের জন্য প্রায় ২০০ কোটি টাকা খরচ করেছে। রাজ্যজুড়ে এই খরচ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪৫০ কোটি টাকায়।
.jpg.webp)
ছবি- এআই নির্মিত
শেষ আপডেট: 4 October 2025 18:06
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দুর্গাপুজো (DURGAPUJA 2025) কেবল ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি বাংলার অর্থনীতির অন্যতম একটি কেন্দ্র। এবার বৃষ্টি এবং জিএসটি ২.০-র প্রভাব থাকলেও ৬৫ হাজার কোটি টাকার ব্যবসা হয়েছে। শুধু কলকাতায় ব্যবসা হয়েছে মোটের ৭০ শতাংশ। অর্থনীতিবিদদের কথায়, 'গত বছরের তুলনায় ব্যবসার মূল্যগত লেনদেন অন্তত ৮–১০ শতাংশ বেড়েছে।'
২০১৯ সালে ব্রিটিশ কাউন্সিলের একটি গবেষণায় দেখা গিয়েছিল কলকাতার দুর্গাপুজোর অর্থনীতি (Durgapuja Economics) ছিল প্রায় ৩৩ হাজার কোটি টাকা। গত বছর ব্যবসা হয়েছিল ৫৫- ৫৭ হাজার কোটি টাকা। এবার যদিও বৃষ্টি এবং GST প্রভাবের কারণে কিছুটা ধাক্কা লেগেছে, তবু শপিং মল ও খাবার-দ্রব্য খাতে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি দেখা গেছে।
কলকাতার প্রায় ২ হাজার ৫০০টি দুর্গাপুজো কমিটি মূর্তি, সাজসজ্জা, আলো এবং আয়োজনের জন্য প্রায় ২০০ কোটি টাকা খরচ করেছে। রাজ্যজুড়ে এই খরচ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪৫০ কোটি টাকায়। এই অর্থ দিয়ে কারিগর, শ্রমিক এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা মাসব্যাপী কাজ চালাতে পারছেন।
খাবার ও পানীয় খাতে ( Food & Beverage Sector) এবার সবচেয়ে বেশি ব্যবসা হয়েছে। রেস্তরাঁগুলিতে গ্রাহক সংখ্যা ২০-২৫ শতাংশ বেড়েছে। HRAEI সভাপতি সুদেশ পোদ্দার জানিয়েছেন, রেস্তরাঁ থেকে আয়ের পরিমাণ ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা, যার ৬০ শতাংশ এসেছে কলকাতা (Kolkata) থেকে। শহরের একাধিক আউটলেটে রেকর্ড ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।
কলকাতার ৮টি বড় মল মিলিয়ে প্রায় ৯০০ কোটি টাকার ব্যবসা করেছে, যা গত বছরের তুলনায় ৮-১০ শতাংশ বেশি। ব্যবসায়ীদের মতে, 'সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় ব্যবসা ভালো হয়েছে।' অ্যাক্রোপলিস মল-এ ভিড় ১০–১৫ শতাংশ বেড়েছে। মার্লিন গ্রুপ এবং সাউথ সিটি মল-ও রেকর্ড ভিড় ও বিক্রির খবর পাওয়া গেছে।
তবে প্রচলিত বাজারে আয়ের ক্ষেত্রে প্রভাব পড়েছে। বৃষ্টির কারণে আয় প্রায় ২০ শতাংশ কমেছে। Confederation of West Bengal Trade Associations জানিয়েছে, গড়িয়াহাট, হাতিবাগান ও নিউ মার্কেটের পুজোর আয় দাঁড়িয়েছে ৮০০ কোটি টাকা। সেপ্টেম্বরের শুরুতে অনেক মানুষ GST সুবিধা পেতে কেনাকাটা স্থগিত রেখেছিলেন।
সবশেষে বলা যায়, দূর্গাপুজো কেবল একটি উৎসব নয়, এটি বাংলার অর্থনীতি, কারিগর, রেস্তরাঁ এবং ব্যবসায়ীদের জন্যও জীবিকা ও সুযোগের উৎস।