দ্য ওয়াল ব্যুরো: গুণগত মানে উৎরাতে পারেনি। ভারতীয়দের জন্যও কি সুরক্ষিত এইসব ব্র্যান্ডের ওষুধ? বহুল ব্যবহৃত এমন ৪৭টি ব্র্যান্ডকে চিহ্নিত করল কেন্দ্রীয় ড্রাগ কন্ট্রোল যাদের প্রয়োগ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। অ্যাবট হেলথ কেয়ার রিসার্চ, ম্যানকাইন্ড ফার্মা-সহ দেশ-বিদেশের প্রথম সারির কয়েকটি ওষুধ নির্মাতা সংস্থা পড়ছে এই তালিকার আওতায়।
সেন্ট্রাল ড্রাগস স্ট্যান্ডার্ড কন্ট্রোল অর্গানাইজেশন বা কেন্দ্রীয় ড্রাগ কন্ট্রোল সূত্রে খবর, অ্যাবট ইন্ডিয়ার বানানো ইউডিলিফ ৩০০ বাইল অ্যাসিড, ম্যানকাইন্ড ফার্মার আয়রন সাপ্লিমেন্ট ফেরিকাইন্ড-এম, টরেন্ট ফার্মার রক্তচাপ কমানোর ওষুধ লর্ভাস এসআর— এই ওষুধগুলি ড্রাগ-টেস্টের মাপকাঠি উৎরাতে পারেনি। কাজেই রোগীদের উপর এই ওষুধগুলির বিরূপ প্রতিক্রিয়া হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
কেন্দ্রীয় ড্রাগ কন্ট্রোলের দাবি, অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, দুই বা তিনটি ওষুধ মিশিয়ে এই ওষুধগুলি তৈরি হয়। তাই কোনও রোগীর একটি ওষুধ দরকার হলেও তাঁকে অন্য ওষুধ খেতে হয়, প্রয়োজন না থাকলেও। যা আসলে ওষুধের অতিরিক্ত ব্যবহার। যার ফলে দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতির মুখোমুখি হন রোগীরা। তা ছাড়াও রিসার্চ ল্যাবোরেটরিতে এইসব ব্র্যান্ডের ওষুধ তাদের যোগ্যতার পরীক্ষাতেও ডাহা ফেল করেছে। অ্যাবট, ম্যানকাইন্ড, টরেন্টের মতো ব্র্যান্ডগুলির এই বিশেষ কয়েকটি ওষুষকে নিম্নমানের বলেই চিহ্নিত করেছেন কেন্দ্রীয় ড্রাগ কন্ট্রোলের বিশেষজ্ঞরা।
প্রথম সারির কয়েকটি ব্র্যান্ড ছাড়াও আরও ৩৪টি ওষুধ নির্মাতা সংস্থা রয়েছে ড্রাগ কন্ট্রোলের আতস কাচের তলায়। যাদের মধ্যে রয়েছে জ্যাকসন ল্যাবোরেটরিজ, অরিস্তো ফার্মাসিউটিক্যালস, জিম ল্যাবোরেটরিজ, কোভালেন্ট ল্যাবোরেটরিজ, জুভেন্টাস হেলথকেয়ার, ম্যাক্সমেড লাইফসায়েন্সেস, মন্টেক বায়োফার্মা, রাজস্থান অ্যান্টিবায়োটিকস, হিন্দুস্তান ল্যাবোরেটরিজ, জি ল্যাবোরেটরিজ-সহ অনেক নামীদামি সংস্থাই।

কেন্দ্রীয় ড্রাগ কন্ট্রোলের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অ্যাবটের ইউডিলিফ ৩০০ ড্রাগের প্রথম ব্যাচের (০১০৯২৪D৭)সব ওষুধই নিম্নমানের। ম্যানকাইন্ডের আয়রন সাপ্লিমেন্টেও ড্রাগের ডোজ প্রয়োজনের তুলনায় কম। টরেন্টের লর্ভাস এসআর (সিএক্স২৩এফ০১১) ব্যাচের ওষুধগুলিও পরীক্ষায় পাশ করতে পারেনি।
যদিও এই অভিযোগ উড়িয়ে মার্কিন ওষুধ নির্মাতা সংস্থা অ্যাবটের মুখপাত্র জানিয়েছেন, “রোগীদের সুরক্ষার কথা ভেবেই ভারতে আমাদের শাখা সংগঠনগুলিকে সতর্ক করা হয়েছে।’’ টরেন্টের মুখপাত্রের দাবি, লর্ভাস এসআর নামে যে ওষুধের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে সেটি আসলে বানায় রাশিয়ার একটি ওষুধ কোম্পানি। তাঁর দাবি, সেখানকার মানুষজনের শারীরিক অবস্থা বিচার করেই রক্তচাপের ওই ওষুধ বানানো হয়েছে। ভারতের রোগীদের জন্য সেই প্রোডাক্ট উপযোগী নাও হতে পারে, তার মানে এটা নয় যে ওষুধের মান খারাপ।
এর আগে র্যানিটিডাইন গোত্রের অম্বলের ওষুধ নিয়ে সতর্ক করেছিল আমেরিকার ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন তথা এফডিএ। এফডিএ একটি বিবৃতিতে জানিয়েছিল, র্যানিটিডাইন গোত্রের কিছু ওষুধে নাইট্রোসেমাইনের একটি ইমপিউরিটি তথা ভেজাল পাওয়া গেছে। যাকে বলা হচ্ছে, এন-নাইট্রোসোডিমেথিল্যামাইন (N-nitrosodimethylamine (NDMA)। পরীক্ষা করে দেখা গিয়েছে এটি ক্যানসারের কারণ হতে পারে।