দ্য ওয়াল ব্যুরো : প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী পি চিদম্বরমের ছেলে কার্তি চিদম্বরমের নামে আদালতে ইডি অভিযোগ করেছিল, তিনি জেরা এড়ানোর জন্যই বার বার বিদেশে যাচ্ছেন। তাঁর জন্য এয়ারসেল-ম্যাক্সিস মামলার তদন্ত ঠিকমতো এগচ্ছে না। তাঁকে যেন আর বিদেশে যাওয়ার অনুমতি না দেওয়া হয়। সুপ্রিম কোর্ট ইডির কথা না শুনে বুধবার কার্তিকে বিদেশে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছে। কিন্তু সেই সঙ্গে বলেছে, তদন্তকারী সংস্থার সঙ্গে তিনি যদি সহযোগিতা না করেন, তাহলে ‘বাধ্য হয়েই তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে’। তিনি আইন নিয়ে খেলা করলে বরদাস্ত করা হবে না।
সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ বলেন, আপনি যেখানে খুশি যেতে পারেন। আপনার যা ইচ্ছা তাই করতে পারেন। কিন্তু আইনের সঙ্গে খেলা করবেন না। যদি তদন্তকারীদের সঙ্গে সামান্যতম অসহযোগিতা করেন, তাহলে পরিণাম খারাপ হবে।
সুপ্রিম কোর্ট কার্তিকে নির্দেশ দিয়েছে মার্চ মাসের ৫, ৬, ৭ ও ১২ তারিখে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কার্তিকে ইডি-র অফিসে হাজির হতে হবে। বিদেশে যাওয়ার আগে তাঁকে সুপ্রিম কোর্টে জমা রাখতে হবে ১০ কোটি টাকা।
কার্তি সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জানিয়েছিলেন, একটি টেনিস টুর্নামেন্ট দেখার জন্য তিনি ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসে ব্রিটেন, ফ্রান্স, স্পেন ও জার্মানিতে যেতে চান। গত সপ্তাহে ওই মামলার শুনানির সময় বিচারপতি ইডিকে জিজ্ঞাসা করেন, তারা কবে কার্তিকে জেরা করতে চায়।
কার্তির বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি মামলায় তদন্ত করছে ইডি এবং সিবিআই। তার মধ্যে এয়ারসেল ম্যাক্সিস মামলায় এক নম্বর অভিযুক্ত পি চিদম্বরম। দু’নম্বর অভিযুক্ত কার্তি।
৭৩ বছর বয়সী পি চিদম্বরমের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি মনমোহন সিং সরকারের অর্থমন্ত্রী থাকার সময় বিধি ভেঙে বিদেশী বিনিয়োগের অনুমতি দিয়েছেন। সেজন্য কিকব্যাক পেয়েছেন কার্তি। ২০০৬ সালে সিঙ্গাপুরের সংস্থা ম্যাক্সিস এদেশে এয়ারসেল সংস্থায় বিনিয়োগ করতে চেয়েছিল। এই বিনিয়োগের প্রস্তাব অনুমোদন করতে পারত ক্যাবিনেট কমিটি অন ইকনমিক অ্যাফেয়ার্স। সেই কমিটির শীর্ষে আছেন প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং। অভিযোগ, সেই কমিটিতে ম্যাক্সিসের বিনিয়োগের প্রস্তাব পেশ না করে চিদম্বরম নিজেই অনুমতি দেন। তার পরে এয়ারসেল টেলিভেঞ্চার লিমিটেড কার্তি চিদম্বরমের এক কোম্পানিকে ২৬ লক্ষ টাকা দেয়।
চিদম্বরমের দাবি, তাঁর আমলে কোনও বেআইনি কাজ হয়নি। তিনি নরেন্দ্র মোদী সরকারের সবচেয়ে বড় সমালোচকদের একজন। রাজনৈতিক কারণেই ইডি তাঁকে ও তাঁর ছেলেকে হেনস্তা করছে।