৫৮ বছর বয়সে এক নারীর এমন লড়াই জীবনের প্রতিটি বাঁকেই প্রেরণা জাগায়। হাওড়ার বেলগাছিয়া থেকে ধর্মতলার পথে এখন নারীর সাহসিকতার এক নয়া উদাহরণ ডলি রানা।

ডলি রানা।
শেষ আপডেট: 2 July 2025 14:55
দ্য ওয়াল ব্যুরো: হাওড়া-বেলগাছিয়া (Howrah) থেকে ধর্মতলা (Dharmatala) রুটের ৫৭ নম্বর বাসে চড়েছেন? হয়তো মিহি গলায় ভাড়া চাওয়ার আওয়াজ শুনে চমকে গিয়েছেন। চমকানোরই কথা, কারণ এই রুটের একটি বাসের কন্ডাক্টর একজন ৫৮ বছরের মহিলা। নাম ডলি রানা (Dolly Rana)। শুধু কন্ডাক্টর (Bus Conductor) নন, বাসটির মালিকও তিনি।
ডলির প্রতিদিনের দিন শুরু হয় ভোরে। শাড়ির আঁচল কোমরে পেঁচিয়ে, কাঁধে ঝোলা ব্যাগ নিয়ে রাস্তায় নামেন। বাস চালক ফিরোজ খানের সঙ্গে শুরু হয় তাঁর দিনের প্রথম যাত্রা। যাত্রী তুলতে বাসের পাদানিতে দাঁড়িয়ে চিৎকার, টিকিট বিক্রি, আবার ভিড় ঠেলে বাসের ভিতর যাত্রী সামলানো—সব কাজ করেন অবলীলায়। যাঁরা তাঁকে চেনেন, তাঁদের সঙ্গে মজার গল্পে দিন কাটে।
ডলিদেবীর লড়াইয়ের গল্প আজ শুধু বাসের যাত্রীদের নয়, গোটা হাওড়ার কাছে অনুপ্রেরণার। ২০১৭ সালে ঋণ নিয়ে কেনেন নিজের বাস। কিন্তু লকডাউনে চাকা থমকে যায়। সংসারে স্বামীর সামান্য রোজগার আর ব্যাংকের ঋণের বোঝা নিয়ে আকাশ ভেঙে পড়েছিল। কিন্তু হাল ছাড়েননি তিনি। কন্ডাক্টরের ব্যাগ নিজের কাঁধে তুলে ফের শুরু করেন নতুন লড়াই।
ডলিদেবী বলেন, “কোনও কাজ সহজ নয়। কিন্তু জেদ আর ইচ্ছেশক্তি থাকলে সব কিছু সম্ভব।” তাঁর লড়াই আজ নারীশক্তির উদাহরণ। সহযাত্রীদের মধ্যে কেউ কেউ তাঁকে নারী কর্নেল বা উইং কমান্ডারের সঙ্গে তুলনা করেন।
তাঁর এই অদম্য লড়াই শুধু যাত্রীদের নয়, নিজের পরিবারেরও মুখ উজ্জ্বল করেছে। পরিবার বলতে স্বামী, ভাই-বোন আর বোনপো বুম্বা। সন্তান নেই। কিন্তু ডলির কথায়, “এই বাসটাই আমার সন্তান। বাড়ির পরিবারের মতো যাত্রীরাও আমার পরিবার।”
ডলির চোখে এখন নতুন স্বপ্ন। রাস্তায় আরও একটি বাস নামানোর পরিকল্পনা করছেন তিনি। প্রয়োজন নতুন পারমিটের। ডলির কথায়, “হার মানলে চলবে না। যতদিন বাঁচব, লড়াই করব।”
৫৮ বছর বয়সে এক নারীর এমন লড়াই জীবনের প্রতিটি বাঁকেই প্রেরণা জাগায়। হাওড়ার বেলগাছিয়া থেকে ধর্মতলার পথে এখন নারীর সাহসিকতার এক নয়া উদাহরণ ডলি রানা।