সদ্য সন্তানকে হারিয়েছেন রিঙ্কু মজুমদার। মঙ্গলবার দুপুরে খবর আসে, নিউটাউনের সাপুরজি আবাসনে উদ্ধার হয়েছে সৃঞ্জয় দাশগুপ্তর দেহ। তার পর থেকেই বয়ে যাচ্ছে ঝড়।

ছেলে প্রীতম ওরফে সৃঞ্জয়ের সঙ্গে রিঙ্কু মজুমদার।
শেষ আপডেট: 13 May 2025 21:28
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ছেলে যে সময়ে খাওয়া দাওয়া করছে না, সেটা বুঝতে পেরেছিল মায়ের মন। মঙ্গলবার বিকেলে আরজি কর হাসপাতালের সামনে সদ্য সন্তানহারা মায়ের দু'চোখ ছাপিয়ে জল উপচে পড়ছে। ভেতরে মর্গের মধ্যে শুয়ে রিঙ্কু মজুমদারের আদরের সন্তান সৃঞ্জয় ওরফে প্রীতমের নিথর দেহ!
কান্না ভেজা দলা পাকানো গলায় রিঙ্কু বলছিলেন, "গতকাল রাতেই ওঁর (দিলীপ ঘোষ) সঙ্গে কথা বলব ভেবেছিলাম ছেলেকে সঙ্গে এনে রাখা নিয়ে, কিন্তু বলা হয়নি। উনি ব্যস্ত ছিলেন।’
রিঙ্কুর আক্ষেপ, ‘ও মুখে বলত না। তবে মনে ইচ্ছে ছিল, আমার সঙ্গে থাকবে। মা তো, সেটা বুঝতে পারছিলাম। তাই আমি নিজেই বলেছিলাম নিয়ে আসব। ও বলেছিল, তোমাদের ঘর হলে তবে তো নিয়ে যাবে। তখনই বলি, কয়েকটা দিন অপেক্ষা কর, নিয়ে আসব তোকে আমার কাছে।’
পেশায় তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থার কর্মী সৃঞ্জয় যে নিজের যত্ন বিশেষ নিত না, সময়ে খাওয়া দাওয়া করছিল না, সেটা গত কয়েকদিন ধরে আন্দাজও করেছিলেন রিঙ্কুদেবী। ছেলের একা থাকা নিয়েও যথেষ্ট চিন্তা ছিল রিঙ্কুর। বললেন, ‘গতকাল ছেলের দুই সহকর্মী ছেলের ফ্ল্যাটে আসে, একজন রাত ১০টায় আসে আরেকজন রাত তিনটে নাগাদ আসে। ওরা ঘুম থেকে উঠে দেখে...’।
রিঙ্কু আরও বলেন, ‘আমার ছেলে একবার দেড় বছর আগে অজ্ঞান হয়ে গিয়েছিল, নিউরো ওষুধ খাওয়াতাম। ইদানীং সেই ওষুধগুলো ঠিকমতো খাচ্ছিল না। একাই থাকত, বাইরে বাইরে খেত। আমাকে বুঝতে দিত না, তবে বুঝতে পারতাম সব। না খেয়ে অফিস চলে যেত। খাওয়াদাওয়া ঠিক মতো করত না।’
বলতে বলতে কান্নায় গলা বুজে আসে রিঙ্কুর। ছেলে ভাল নেই, বুঝতে পেরেছিলেন মা, চেয়েওছিলেন কাছে এনে রাখতে, তবু সেটা করে ওঠার আগেই সব শেষ।
এদিন সৃঞ্জয়ের দেহ উদ্ধারের পরে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা জানান, প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে, ‘ড্রাগের ওভারডোজ’ই মৃত্যুর কারণ। তবে কী সেই ড্রাগ, কী করেই বা ওভারডোজ হল, তা এখনও জানা যায়নি। সবটা স্পষ্ট হবে ময়নাতদন্তের পরেই। এর মধ্যে প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানিয়েছে, আত্মহত্যা করেছেন সৃঞ্জয়।
মঙ্গলবার সকালে ফোন পাওয়া মাত্র নিজেই গাড়ি চালিয়ে সাঁপুরজি আবাসনে পৌঁছেছিলেন রিঙ্কু। বলছিলেন, "হাফ প্যান্ট পরে বিছানায় শুয়ে ছিল, দেখে মনে হচ্ছিল গভীর ঘুমোচ্ছে।"
নিজেই গাড়ি চালিয়ে সন্তানকে নিয়ে পৌঁছন বিধাননগর মহকুমা হাসপাতালে (সেবা)! ততক্ষণে অবশ্য আর চিকিৎসার কোনও সুযোগ ছিল না। চিকিৎসকরা জানান, কয়েক ঘণ্টা আগেই মৃত্যু হয়েছে তরুণের।
বিকেলে আরজি করের মর্গের সামনে দাঁড়িয়ে সদ্য সন্তানহারা মা বারে বারে একটা কথায় বলে চলেছেন, রবিবারই কেন ছেলেটাকে আটকে দিলাম না!
ওই দিন যে মাদার্স ডে তে মাকে শুভেচ্ছা জানিয়ে এসেছিল সৃঞ্জয় ওরফে প্রীতম। কে জানত, সেটাই মা-ছেলের শেষ দেখা!