দ্য ওয়াল ব্যুরো : বিজেপি শাসিত পুরসভাগুলির মেয়র ও অন্যান্য পদাধিকারীদের হত্যার চক্রান্ত হচ্ছে। এই অভিযোগে, আপ নেতা তথা দিল্লির উপমুখ্যমন্ত্রী মনীশ শিশোদিয়ার বাড়ির সামনে অনির্দিষ্টকালের ধরনায় বসেছিল বিজেপি। বৃহস্পতিবার আপ অভিযোগ করল, 'বিজেপির গুন্ডারা' মনীশ শিশোদিয়ার বাড়িতে হামলা করেছিল। পুলিশও তাদের সহায়তা করেছে। বিজেপি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, তাঁরা শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ দেখিয়েছে।
আপের মুখপাত্র সৌরভ ভরদ্বাজ সাংবাদিক বৈঠক করে বলেন, বিজেপি সমর্থকরা যখন মনীশ শিশোদিয়ার বাড়িতে ঢুকছিল, পুলিশ তাদের বাধা দেয়নি। উল্টে ব্যারিকেড সরিয়ে তাদের সাহায্য করেছে। আপের তরফে একটি ভিডিও দেখানো হয়। তাতে দেখা যায়, একদল লোক জোর করে উপমুখ্যমন্ত্রীর বাড়িতে ঢুকছে।
এর আগে তিনটি কৃষি আইনের বিরুদ্ধে কৃষক আন্দোলনকে সমর্থন করে আপ। সোমবার দিল্লিতে বিক্ষোভরত কৃষকদের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল। কৃষকদের ভারত বন্ধেও সমর্থন জানায় আম আদমি পার্টি। কেজরিওয়াল টুইট করে বলেন, “৮ ডিসেম্বর কৃষকদের ভারত বনধের দাবিকে পূর্ণ সমর্থন করছে আম আদমি পার্টি। গোটা দেশে ছড়িয়ে থাকা আপ কর্মীরা শান্তিপূর্ণ ভাবে এই বনধকে সমর্থন জানাবে। দেশের সবাইকে অনুরোধ, সবাই এই বনধ সমর্থন করুন ও কৃষকদের সমর্থনে এই বনধে অংশ নিন।”
এর পরে আম আদমি পার্টি অভিযোগ করে, মুখ্যমন্ত্রীকে গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছে। তাঁকে সব মিটিং বাতিল করতে বাধ্য করা হয়েছে। যদিও কেজরিওয়ালকে গৃহবন্দি করার অভিযোগ অস্বীকার করেছে দিল্লি পুলিশ।
আপ অভিযোগ করেছিল, কেজরিওয়ালের বাড়ির রাস্তা আটকে দিয়েছে পুলিশ। তাঁকে বেরোতে দেওয়া হচ্ছে না। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক দিল্লির তিন মেয়রকে নির্দেশ দিয়েছে পুরসভার কর্মীরা যেন মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির সামনে বিক্ষোভ দেখান। বিক্ষোভকারীদের ঠেকানোর নাম করে দিল্লি পুলিশ মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনের সামনের রাস্তা ব্যারিকেড করে দিয়েছে। কেউ বাড়িতে ঢুকতে বা বেরোতে পারছেন না। এই পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী তাঁর সবক'টি প্রশাসনিক বৈঠক বাতিল করতে বাধ্য হয়েছেন।
দিল্লি পুলিশের নর্থ ডিস্ট্রিক্টের ডেপুটি কমিশনার অ্যান্তো আলফানসো এই অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন, "আমরা সতর্ক আছি। অরবিন্দ কেজরিওয়াল সোমবার সন্ধ্যা আটটায় বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। ১০ টা নাগাদ ফিরে আসেন। তাঁকে কেউ আটকাতে যায়নি।"
গত বুধবার কৃষক সংগঠনগুলির নেতারা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, ১৪ ডিসেম্বরের মধ্যে কৃষক আন্দোলন হয়ে উঠবে আরও তীব্র। দিল্লি-জয়পুর হাইওয়ে বন্ধ করে দেওয়া হবে, রিলায়েন্সের মল বয়কট করা হবে এবং দখল করা হবে বিভিন্ন টোল প্লাজা। আন্দোলনকারী চাষিদের উদ্দেশে লিখিত প্রস্তাব পাঠিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার বলেছিল, নতুন কৃষি আইন সংশোধন করা হবে। কী কী সংশোধন করা হবে তাও জানানো হয়েছিল। কিন্তু কৃষকরা সেই প্রস্তাব একবাক্যে নাকচ করে দিয়েছেন।