দ্য ওয়াল ব্যুরো : ঘূর্ণিঝড় ফণী চলে গিয়েছে এক সপ্তাহের বেশি আগে। এখনও বিদ্যুৎহীন ওড়িশার বহু এলাকা। শনিবার বিদ্যুতের দাবিতে পথ অবরোধ করলেন জগৎসিংপুর জেলার চোপাড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের কয়েকশ মানুষ।
সাইক্লোনের আগে মানুষকে বাঁচানোর জন্য ওড়িশা সরকার যে পদক্ষেপ নিয়েছিল, তার প্রশংসা হয়েছে নানা মহলে। কিন্তু পরে দেখা যায়, ঘূর্ণিঝড়ে বিধ্বস্ত অঞ্চলের মানুষ এখনও ব্যাপক দুর্দশায় রয়েছেন। তাঁদের এলাকায় বিদ্যুৎ নেই। সেই সঙ্গে দেখা দিয়েছে খাদ্যাভাব।
সাইক্লোনের পরে এখন ওড়িশায় চলছে তাপপ্রবাহ। সরকার জানিয়েছে, রাজ্যের ৩৫ লক্ষ মানুষের বাড়িতে এখনও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন।
সাইক্লোনে পুরী, খুরদা, জগৎসিংপুর এবং জাজপুর জেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। রাজ্যের বিদ্যুৎ সচিব হেমন্ত শর্মা জানিয়েছেন, ঝড়ে বিদ্যুতের পরিকাঠামোর যা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা পূরণ করতে কয়েক মাস লাগার কথা। কিন্তু আমরা যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ করছি। প্রতিবেশী রাজ্যগুলির ৭ হাজার টেকনিশিয়ান আমাদের সাহায্য করছেন। শুক্রবার সন্ধ্যা অবধি ভুবনেশ্বরের অর্ধেক গ্রাহকের কাছে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়া গিয়েছে। মানুষ যেন আন্দোলনের পথে না যায়। তাদের উচিত সরকারের সঙ্গে সহযোগিতা করা।
যাঁদের বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়েছে, তাঁরা অভিযোগ করছেন, ভোল্টেজ খুব কম। মাঝে মাঝে পাওয়ার ট্রিপ করছে।
পুরীর নয়াপল্লী অঞ্চলে এখনও বিদ্যুৎ আসেনি। সেখানকার বাসিন্দা গিরিজা মিশ্র বলেন, গত কয়েকদিন আমাদের খুবই কষ্টে কেটেছে। আমার মেয়ের গরমের ছুটি যখন শুরু হয়, তখন রাজ্যে তাপপ্রবাহ চলছিল। তারপরে এল ঘূর্ণিঝড়। আমি ও আমার স্ত্রী এই আবহাওয়ার সঙ্গে কোনক্রমে মানিয়ে নিয়েছি। কিন্তু আমার ১২ বছরের মেয়ে এবং বয়স্ক মায়ের পক্ষে এত গরম সহ্য করা খুবই মুশকিল। ১৯৯৯ সালের সেই সুপার সাইক্লোনের পরে এত খারাপ অবস্থা আর কখনও হয়নি।
পুরীর গোপ ও কানাস ব্লকে মানুষ এখনও ত্রাণের জন্য অপেক্ষা করছেন। অভিযোগ, ত্রাণের ব্যাপারে দলিতদের সঙ্গে বৈষম্য করা হচ্ছে। অ্যাকশন এইড সংস্থার পক্ষ থেকে শুক্রবার বিধ্বস্ত এলাকায় গিয়েছিলেন দেবব্রত পাত্র। তিনি জানান, কানস অঞ্চলে ১০০-র বেশি দলিত পরিবার ত্রাণ পাননি। তাঁরা যখন ত্রাণ নিতে গিয়েছিলেন, উচ্চবর্ণের লোকজন মেরে তাড়িয়ে দেয়।
তিনি বলেন, দলিত পরিবারগুলি সাইক্লোন শেল্টারে আশ্রয় নিয়েছিল। তাদের এক কোণায় বসতে বাধ্য করা হয়েছিল। সেখানে আলাদাভাবে খাবার দেওয়া হয়েছে।