দ্য ওয়াল ব্যুরো: আক্রান্তের সংস্পর্শ কিংবা 'সারফেস ট্রান্সমিশন' নয়। গত বছর চিনের গুয়াংজুর একটি রেস্তোরাঁ থেকে কোভিড ছড়ানোর যে খবর সামনে এসেছিল, তার জন্য ভাইরাসের বাতাসে ভেসে যাওয়ার প্রবণতাই পুরোপুরি দায়ী। ঘটনার দিন রেস্তোরাঁর আড়াই ঘণ্টার ভিডিও ফুটেজ কাটাছেঁড়া করার পর এমনটাই জানালেন গুয়াংঝাও সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের একদল গবেষক।
২০২০ সালের ২৩ জানুয়ারি। উহানের একটি পরিবার গুয়াংঝাও বেড়াতে আসে। পরদিন তাঁদেরই এক সদস্য তিনজনকে নিয়ে ওই রেস্তোরাঁয় যান। সেই সময় দু'টো আলাদা পরিবার টেবিলের উলটোদিকে খেতে বসেছিলেন।
পরদিন ওই ভদ্রলোকের করোনার উপসর্গ ধরা পড়ে। আর এর ঠিক ১০ দিনের মাথায় রেস্তোরাঁয় খেতে আসা ন'জন কোভিডে আক্রান্ত হন। তাঁদের মধ্যে তিনজন উহানের ওই ব্যক্তির টেবিলে এবং পাঁচজন আশপাশের টেবিলে ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিলেন।
তখন করোনা সদ্য থাবা বসাতে শুরু করেছে। ভাইরাসের গঠন, সংক্রমণের মাধ্যম ইত্যাদি বিষয় নিয়ে গবেষণা চলছে। সেই সময় এই রেস্তোরাঁ-কাণ্ড দুনিয়াজুড়ে বিজ্ঞানী ও চিকিৎসক মহলের নজর কেড়েছিল। প্রাথমিক বিশ্লেষণের পর গবেষকেরা অবশ্য ভাইরাসের বায়ুবাহিত ক্ষমতার ওপরেই জোর দেন। যুক্তি হিসেবে বলা হয়, উদ্দিষ্ট প্রধান আক্রান্তের সংস্পর্শে আসা তিনজনের সংক্রামিত হওয়ার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। যেহেতু তাঁরা ওই ব্যক্তির পরিবারের সদস্য। ফলে তাঁদের প্রত্যেকে বাইরে কোনওভাবে নিবিড় সংস্পর্শে আসতেই পারেন।
কিন্তু বাকি পাঁচজনের ক্ষেত্রে তো তেমনটা হয়নি। গবেষকেরা দাবি করেন, সেদিন আক্রান্তের সর্দি-কাশির ড্রপলেট কোনওভাবে শীতাতপনিয়ন্ত্রিত রেস্তোরাঁর মধ্যে ঘুরপাক খেয়েছিল। আর ওই পাঁচ ব্যক্তি সেই সার্কুলেশনের বৃত্তে পড়ে যান। ফলে সরাসরি স্পর্শ কিংবা সারফেস ট্রান্সমিশন ছাড়াই তাঁরা কোভিডে সংক্রামিত হন।
যদিও এই সিদ্ধান্তে আসার পরেও তখন জানানো হয়, করোনার সংক্রমণের প্রধান পথ বাতাস নয়। বরং, আক্রান্ত ব্যক্তির কাছাকাছি আসা এবং তিনি ছুঁয়েছেন, এমন কঠিন বস্তু স্পর্শ করা।
কিন্তু সাম্প্রতিক গবেষণার পর শেষের তত্ত্বকে নস্যাৎ করে দেওয়া হয়েছে। ওই আক্রান্তের রেস্তোরাঁয় ঢোকা এবং রেস্তোরাঁ বন্ধ হওয়ার মধ্যেকার সময়টুকু সিসিটিভি ফুটেজে দেখার পর গবেষকরা জানান, বায়ুবাহিত হয়েই সেদিন ভাইরাস ছড়িয়েছিল। প্রায় ৪০ হাজার সারফেস টাচ এবং ১৩ হাজার কাছাকাছি সংস্পর্শের মুহূর্তকে তাঁরা আড়াই ঘণ্টার ফুটেজ থেকে ছেঁকে নেন। তারপর দেখা যায়, রেস্তোরাঁর কর্মী এবং খেতে আসা মানুষেরা ২০ শতাংশ সময় একে অপরের সংস্পর্শে এসেছেন। আর ৯০ শতাংশ সময় টেবিল, সোফা, চেয়ার কিংবা অন্যত্র হাত রেখেছেন।
এরপর আলাদা করে আক্রান্ত পাঁচজনের অবস্থান বিশ্লেষণ করা হয়। তখনই গবেষকেরা সিদ্ধান্তে আসেন, এয়ার কন্ডিশনিং ঘরে ড্রপলেট ঘোরাফেরা করার পথেই তাঁরা বসেছিলেন। ভাইরাস বাতাসের মাধ্যমে বেশ অনেকটাই যেতে পারে। যার জেরেই পাঁচ ব্যক্তি কোভিডে সংক্রামিত হন।