দ্য ওয়াল ব্যুরো : গত মাসে চাকরি ছেড়েছিলেন বিহারের পুলিশ প্রধান গুপ্তেশ্বর পাণ্ডে। তিনি ঘোষণা করেছিলেন, রাজনীতিতে যোগ দেবেন। মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারের দল জনতা দল ইউনাইটেডের হয়ে ভোটে দাঁড়ানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। নির্দিষ্ট করে বলেছিলেন, বক্সার থেকে প্রার্থী হতে চান। কারণ তাঁর বাড়ি ওই জেলাতেই। কিন্তু জেডি ইউয়ের প্রার্থী তালিকা প্রকাশ হতে দেখা গেল গুপ্তেশ্বর সিং-এর নাম নেই।
এনডিএ জোটের হয়ে বক্সার থেকে দাঁড়াচ্ছেন পুলিশের প্রাক্তন কনস্টেবল পরশুরাম চতুর্বেদি। অর্থাৎ প্রার্থী হওয়ার দৌড়ে প্রাক্তন কনস্টেবল হারিয়ে দিয়েছেন প্রাক্তন ডিজিকে। বৃহস্পতিবার চতুর্বেদি বলেন, আমাকে প্রার্থী করার জন্য বিজেপিকে ধন্যবাদ জানাই। ডিজি আমার বড়ভাই। আমি তাঁর পা ছুঁয়ে প্রণাম করেছি। তাঁর প্রতি আমার শ্রদ্ধা আছে।
পরে চতুর্বেদি বলেন, বিহার পুলিশে কাজ করার সময় আমি বেশ কয়েকটি দফতরে পোস্টেড ছিলাম। সিআইডিতেও একসময় কাজ করেছি। তাঁর কথায়, "যেখানেই কাজ করেছি, আমাকে সকলে সম্মান করেছে। আমি ভাল কর্মী হিসাবে পরিচিত ছিলাম।" তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, আপনি কি জয়ের ব্যাপারে নিশ্চিত? তিনি দুই আঙুল তুলে ভিকট্রি সাইন দেখান।
বিহার সরকারের হয়ে অভিনেতা সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যু নিয়ে তদন্তের জন্য সরব হন গুপ্তেশ্বর পাণ্ডে। তিনি স্বেচ্ছাবসর নিয়েছেন। তাঁর অবসরের দিন 'রবিনহুড পাণ্ডে' নামে একটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়। সেখানে তাঁকে 'পাবলিক হিরো' হিসাবে দেখানো হয়েছে।
ইউটিউবে রিলিজ হয়েছে সেই মিউজিক ভিডিও। তাতে অভিনয় করেছেন গুপ্তেশ্বর পাণ্ডে। সঙ্গে রয়েছেন দীপক ঠাকুর।
দীপকই এই গানের সুরকার এবং গীতিকার। নিজেই কম্পোজও করেছেন গানটি। বিগ বসের ঘরে প্রতিযোগী হয়ে আসা দীপক ঠাকুর ‘গ্যাংস অফ ওয়াসেপুর’-এর জন্যও গান কম্পোজ করেছিলেন। অনুরাগ কাশ্যপের ছবির পাশাপাশি হিট হয়েছিল দীপক ঠাকুরের গানও। এবার ‘রবিনহুড’ গুপ্তেশ্বর পাণ্ডেকে নিয়ে গান বেঁধেছেন তিনি। ইউটিউবে এর মধ্যেই ভাইরাল হয়েছে এই গান। রিলিজের পর থেকে প্রায় ১৩ হাজার লাইক পড়েছে এই ভিডিওতে। এর মধ্যেই দেখে ফেলেছেন প্রায় ৯২ হাজার মানুষ।
বৃহস্পতিবার ফেসবুকে গুপ্তেশ্বর লিখেছেন, "অনেক শুভাকাঙ্ক্ষী আমাকে ফোন করছেন। আমি তাঁদের উদ্বেগের কথা জানি। প্রত্যেকেই আশা করেছিলেন, আমি এবার ভোটে দাঁড়াব। কিন্তু আমি ভোটে দাঁড়াচ্ছি না। হতাশার কিছু নেই। ধৈর্য ধরুন।"
পরে তিনি লেখেন, "আমি সারা জীবন জনগণের সেবা করেছি। দয়া করে আপনারা ধৈর্য ধরুন। আমাকে ফোন করবেন না। আমি বিহারের জনগণের জন্য জীবন উৎসর্গ করেছি। আমার জন্মস্থান বক্সারের প্রত্যেক দাদা, দিদি, মা এবং তরুণের কাছে আমি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। আশা করি আপনারা আমাকে আগের মতোই আশীর্বাদ করবেন।"