
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
শেষ আপডেট: 9 December 2024 17:46
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কাজ শেষ হওয়ার আগেই ঠিকাদাররা কীভাবে টাকা পেয়ে যাচ্ছেন? এভাবে কাজ শেষের আগেই টাকা দিয়ে দিলে কেই বা কাজ করবে?
বাড়ি বাড়ি পানীয় জলে পৌঁছে দেওয়ার কাজের হাল হকিকত খতিয়ে দেখতে সোমবার জনস্বাস্থ্য কারিগরি দফতরের কর্তাদের নিয়ে বৈঠকে বসেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানেই এই প্রশ্ন তোলেন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান। ক্ষুব্ধ মমতা পিএইচ-র উদ্দেশে এও জানতে চান, "ঠিকাদারের কাছ থেকে পিএইচই কি টাকা নেয়?"
খানিক থেমে জবাবও দিয়েছেন নিজেই। ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "এ জিনিস আমি বরদাস্ত করব না। মনে রাখবেন, গর্ভমেন্টের টাকা নিয়ে যা খুশি করা যায় না। এটা জনগণের টাকা। এভাবে সেই টাকা আমি নয়ছয় হতে দেব না।"
বাড়ি বাড়ি পানীয় জল পৌঁছে দেওয়ার কাজে গাফিলতির নেপথ্যে ঠিকাদারদের সঙ্গে জনস্বাস্থ্য কারিগরি দফতরের একাংশ কর্মী-অফিসারও জড়িত রয়েছেন বলে আগেই অভিযোগ উঠেছিল। এ প্রসঙ্গে এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সবকিছুর মাঝে রয়েছে এই ঠিকাদার আর ইঞ্জিনিয়ররা। সবাই খারাপ তা বলছি না। কিন্তু কিছু তো রয়েছে। তাছাড়া কিছু ঠিকাদার ঠিক মতো কাজ না করেও টাকা পেয়ে গেছে। এটা কীভাবে হল?
মুখ্যমন্ত্রী জানান, কাউকে ছাড়া হবে না। এজন্য এলাকা ধরে ধরে রিপোর্ট তৈরি করা হবে। যাদের গাফিলতিতে মানুষ জল পাচ্ছে না, টাকা সেই সব ঠিকাদার এবং আধিকারিকের কাছ থেকেই আদায় করা হবে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ঠিকভাবে সার্ভে না করেই পানীয় জলের লাইন নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, ফলে জলের প্রেসার কম হচ্ছে, পাইপ লিকেজ হচ্ছে, কারা এগুলো করছে। এদের বিরুদ্ধে তো অ্যাকশন নিতে হবে। ডিএমদের বলব, এটা দেখতে।
দফতরের একাংশ কর্তার আর্শীবাদে এক একজন ঠিকাদার একই গ্রামের বিভিন্ন প্রকল্পের টেন্ডার ধরে বসে রয়েছেন বলেও এদিনের বৈঠকে অভিযোগ করেন মমতা। তিনি বলেন, "এটা কেন হবে? এর ফলে তো সঠিকভাবে কাজ হচ্ছে না, হযবরল অবস্থা হচ্ছে।" বিষয়টি মুখ্যসচিবকে দ্রুত খতিয়ে দেখার নির্দেশও দেন তিনি।