
শেষ আপডেট: 13 March 2023 05:20
দ্য ওয়াল ব্যুরো: লেম্যান ব্রাদার্সের স্মৃতি উস্কে ফের ব্যাঙ্ক বন্ধ মার্কিন মুলুকে। দেউলিয়া ঘোষণার পর ঝাঁপ বন্ধ হল আমেরিকার (United States of America) সিলিকন ভ্যালি ব্যাঙ্কের। বিশ্বজুড়ে স্টার্ট আপ তথ্য প্রযুক্তিতে বড় প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। এদিকে, প্রশ্ন উঠেছে মার্কিন মুলুকের এত বড় জনপ্রিয় ব্যাঙ্কে তলে তলে যে কারচুপি হল তা কি টেরই পেল না হিন্ডেনবার্গ রিসার্চ সংস্থা।
আমেরিকার লগ্নি সংক্রান্ত গবেষণাকারী সংস্থা হল ‘হিন্ডেনবার্গ রিসার্চ’। কোনও সংস্থার শেয়ার বিক্রিতে গলদ রয়েছে কি না, কিংবা বাজার থেকে সংস্থাগুলি যে ঋণ নিচ্ছে তাতে স্বচ্ছতা বজায় রয়েছে কি না, এই ধরনের বিভিন্ন বিষয় যাচাই করে দেখে এই সংস্থা। ভারতে আদানি গোষ্ঠীর শেয়ারের কারচুপি ধরেছিল এই হিন্ডেনবার্গই। তাহলে সিলিকন ভ্যালির মতো ব্যাঙ্কে যে নয়ছয় হল তা কি বুঝতে পারল না হিন্ডেনবার্গ গ্রুপ, উঠছে সেই প্রশ্নই।
সিলিকন ভ্যালি আমেরিকার ষোড়শ বৃহত্তম ব্যাঙ্ক। বিশ্বের বৃহত্তম কিছু টেক কোম্পানির ঋণদাতা সিলিকন ভ্যালি ব্যাঙ্ক ঝাঁপ বন্ধ করা বিশ্ববাজারে এর চরম প্রভাব পড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। ১৯৮৩ সালে প্রতিষ্ঠিত ক্যালিফোর্নিয়ার সিলিকন ভ্যালি ব্যাঙ্ক স্টার্টআপ এবং ভেঞ্চার ক্যাপিটালের (VC) অর্থ সাহায্যে তৈরি টেক ওয়ার্ল্ডকে পরিষেবা দেয়। একইসঙ্গে ভিসি এবং প্রাইভেট ইক্যুইটি ফার্মগুলিকে একাধিক পরিষেবা প্রদান করে তারা। সূত্রের খবর, প্রযুক্তি ভিত্তিক স্টার্টআপগুলিতে বিনিয়োগের মাধ্যমে অল্প সময়ে বিপুল অর্থ সঞ্চয় করেছিল সিলিকন ভ্যালি ব্যাঙ্ক। কিন্তু মুদ্রাস্ফীতির হার কমাতে ফেডারেল রিজার্ভ গত বছর সুদের হার বাড়াতে শুরু করে, যার ফলে বন্ডের দর কমে যায়। ব্যাঙ্ক থেকে গ্রাহকেরা সঞ্চিত অর্থ তুলে নেন। গ্রাহকদের টাকার জোগান দিতে ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষকে নিজেদের শেয়ার বিক্রি করতে হয়। ফলে অচিরেই ব্যাঙ্কের ভাঁড়ারে টান পড়ে।
অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, ব্যাঙ্কের শেয়ারে এত বড় ধস, এত বড় ক্ষতি, তা কীভাবে নজর এড়িয়ে গেল হিন্ডেনবার্গের। আর্থিক বিপর্যয় খুঁজে বার করা যে সংস্থার কাজ, তারা কী করছিল? বিভিন্ন সংস্থার বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ করে সরব হয়েছে হিন্ডেনবার্গ। আমেরিকার বৈদ্যুতিক ট্রাক নির্মাণকারী সংস্থা নিকোলা কর্পোরেশনের জালিয়াতি ধরে হইচই ফেলে দিয়েছিল হিন্ডেনবার্গ। সেখানে সিলিকন ভ্যালির দুর্নীতি নিয়ে হিন্ডেনবার্গ কুলুপ এঁটেছে। এর সঙ্গেও এ প্রশ্নও উঠেছে, ভারতের আদানি গোষ্ঠী নিয়ে এতটাই মেতে রয়েছে এই মার্কিন রিসার্চ সংস্থা, যে আর কিছু চোখেই পড়েনি তাদের।
শান্তনুর স্ত্রীর বুটিক ইডির আতস কাচের নীচে, পুলিশের বদলিতেও টাকা?