
শেষ আপডেট: 29 June 2020 18:30
বস্টন ইউনিভার্সিটির ল্যাবে ন্যানোস্পঞ্জ নিয়ে কাজ করছেন গবেষক আন্না হোনকো[/caption]
মানুষের কোষের নকল করতে পারে এমন ন্যানোপার্টিকলে তৈরি কোষের নাম ‘ন্যানোস্পঞ্জ’ । যদিও সংক্রামক রোগ ঠেকাতে এই ন্যানোস্পঞ্জ নিয়ে গবেষণা অনেকদিনের। এবার করোনা রুখতে নতুন করেই প্রযুক্তিতে কিছু বদল এনে ভাইরাস প্রতিরোধী করে তৈরি করা হয়েছে এই ন্যানোস্পঞ্জকে। এই গবেষণার দায়িত্বে রয়েছে ইউনিভার্সিটি অব সান দিয়েগোর লিয়াংফাং ঝ্যাং-এর রিসার্চ টিম। বস্টন ইউনিভার্সিটিতে এই ন্যানোস্পঞ্জের ক্লিনিকাল ট্রায়াল হয়েছে। এই ট্রায়ালের রিপোর্ট এবং ন্যানোস্পঞ্জের গবেষণার তথ্য প্রকাশিত হয়েছে ‘ন্যানোলেটার’ সায়েন্স জার্নালে।
এটা গেল ন্যানোস্পঞ্জের গঠন। এবার তাকে কৌশলী করে তুলতে কিছু অস্ত্রসস্ত্রও দিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। এই অস্ত্র হল মানুষের দেহকোষের রিসেপটর প্রোটিন, যাদের সঙ্গে ভাইরাস যুক্ত হয়ে কোষে ঢুকতে পারে। এই রিসেপটর প্রোটিনের একটি ACE-2 (অ্যাঞ্জিওটেনসিন কনভার্টিং এনজাইম-২), তাছাড়া করোনার পছন্দের অন্যান্য রিসেপটরও রয়েছে। বস্টন ইউনিভার্সিটির ন্যাশনাল ইমার্জিং ইনফেকশিয়াস ডিজিজ ল্যাবোরেটরি হল আধুনিক বায়োসেফটি লেভেল-৪ ল্যাবোরেটরি, সেখানেই এই ন্যানোস্পঞ্জের টেস্টিং করেছেন বিজ্ঞানীরা।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, ন্যানোস্পঞ্জের কোষ পর্দা মানুষের শরীর থেকে নেওয়া। তাই সার্স-কভ-২ ভাইরাস ভাববে আসলে জীবন্ত কোষ। পাশাপাশি, রিসেপটর প্রোটিনগুলোও হাতছানি দেবে ভাইরাসকে। সত্যিকারের দেহকোষের মায়া ছেড়ে ভাইরাস তখন ছুটবে নকল কোষের দিকে। ন্যানোস্পঞ্জের রিসেপটর প্রোটিনের সঙ্গে নিজেদের স্পাইক প্রোটিন মিলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করবে। আর এখানেই ‘চেকমেট’ করে দেবেন বিজ্ঞানীরা। ন্যানোস্পঞ্জ ভাইরাসকে জড়িয়ে নিয়ে তার প্রোটিন শুষে নিতে থাকবে। একেবারে অকেজো করে ছিবড়ে বানিয়ে ফেলে দেবে।
আরও একটা কাজ করবে এই ন্যানোস্পঞ্জ। সান দিয়েগোর ন্যানোইঞ্জিনিয়ার লিয়াংফ্যাং ঝ্যাং বলেছেন, অতিরিক্ত সাইটোকাইন প্রোটিনকেও শুষে নিতে পারবে এই ন্যানোস্পঞ্জ। এই সাইটোকাইন প্রোটিনের বেশি ক্ষরণেই কোষে তীব্র প্রদাহ বা সাইটোকাইন স্টর্ম শুরু হয়। এই প্রোটিনের মাত্রা কমিয়ে দিতে পারলেই রোগীর সংক্রমণ ও প্রদাহ একইসঙ্গে কমতে থাকবে।
ন্যানোস্পঞ্জের ল্যাবোরেটরি ট্রায়াল সফল হয়েছে বলে দাবি করেছেন বিজ্ঞানীরা। এপিথেলিয়াল কোষে মোড়া ন্যানোস্পঞ্জ ভাইরাল সংক্রমণ কমিয়েছে ৯৩%, আর ম্যাক্রোফাজে মোড়া ন্যানোস্পঞ্জ কাজ করেছে ৮৮%। এবার হিউম্যান ট্রায়ালের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।