
শেষ আপডেট: 10 December 2021 12:23
৭ নম্বর ওয়ার্ডে এবারে তৃণমূলের প্রার্থী বাপি ঘোষ। তিনিও দেওয়াল লিখেছেন। বললেন, 'দেওয়াল এবছর এমনিতেই কম লিখতে বলেছি। যে কটা লেখা হয়েছে, ভোট শেষ হলেই দ্রুত মোছানোর ব্যবস্থা করব। ওয়ার্ডে দৃশ্যদূষণ যাতে না হয় সেদিকে খেয়াল রাখছি। মোছার সময় বিরোধীদের প্রচারের দেওয়াল চোখে পড়লে, তাও মুছে দিতে বলব।'
৪৫ নম্বর ওয়ার্ডের কংগ্রেস প্রার্থী সন্তোষ পাঠকের কথায়, 'আমার ওয়ার্ডে এমনিতেই দেওয়াল লিখন হয় কম। আমার প্রচারেই কিছু দেওয়াল লেখা হয়েছে। ভোটের পর দশ-পনের দিনের মধ্যেই ওইসব দেওয়াল মুছে দেওয়া হয়।
একই কথা জানালেন তৃণমূল প্রার্থী মৌসুমী দাস, সন্দীপন সাহা। মৌসুমী বললেন, 'আমার ওয়ার্ডকে সুন্দর করে তোলার লক্ষ্যে এগোচ্ছি। ভোটের পর দেওয়ালে ওইসব প্রচারের লেখা রাখার প্রশ্নই ওঠে না। বিরোধীদের লেখাও দায়িত্ব নিয়ে মুছে দেব।' একই কথা শোনা গেল সন্দীপন সাহার গলাতেও। তিনিও জানালেন যে, ভোটের পর তাঁর ওয়ার্ডেরও সমস্ত দেওয়াল লিখন মুছে ফেলা হবে।
সিপিএম প্রার্থী চয়ন ভট্টাচার্য বললেন, 'দেওয়াল মুছে দেওয়া উচিত। আমার ওয়ার্ডে হোডিং আর পোস্টারেই প্রচার হয়েছে।' তাঁর অভিযোগ, 'তৃণমূল দেওয়াল মোছেনা। এখনও বিধানসভা ভোটের প্রচারে দেওয়াল ভরে আছে তাঁর ওয়ার্ডে।'
কংগ্রেস প্রার্থী প্রকাশ উপাধ্যায়ের দাবি, তাঁর ওয়ার্ডে নিজের সমর্থনে কোনও দেওয়াল লেখা হয়নি। 'বললেন দেওয়াল লেখা খুব দৃষ্টিকটু লাগে। তাই হেডিং আর ফ্লেক্সেই প্রচার চলছে।'
বিষয়টিতে বিখ্যাত শিল্পী ও রাজ্য হেরিটেজ কমিশনের চেয়ারম্যান শুভাপ্রসন্ন বললেন, 'প্রার্থীদের মধ্যে একটা অধিকারের লড়াই চলে। অনেকেই দেখাতে চান, কে কটা দেওয়াল দখল করতে পারে। গণতন্ত্রে প্রচারের অধিকার রয়েছে। কিন্তু সেজন্য ভাবনা-চিন্তা করা প্রয়োজন। কোনও নির্ধারিত এলাকার দেওয়ালকে ব্যবহার করা যেতে পারে। বা বেশি করে অস্থায়ী প্রচার, যেমন ফ্লেক্স বা হোর্ডিং ব্যবহার করা যেতে পারে।'
তিনি আরও বললেন, 'শহরের দেওয়ালগুলিকে কলুষিত না করে বিভিন্ন দলের প্রতিনিধিদের উচিত স্থপতি, শিল্পীদের সঙ্গে কথা বলে এবিষয়ে নির্দিষ্ট নীতি গ্রহণ করা। সেজন্য অবশ্য সেই চেতনা দরকার।'