করোনায় মানসিক অবসাদ বাড়ে, কিন্তু ভ্যাকসিন নেওয়ার পর কী হয়?
দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনা (Corona) কালে সংক্রমণের চেয়েও আতঙ্ক বাড়িয়েছে মানসিক চাপ ও অবসাদ। ভাইরাসের সংক্রমণ হতে পারে ভেবে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় যেমন ভুগছেন মানুষজন, তেমনি পোস্ট-কোভিড পর্যায়ে অর্থাৎ করোনা সারিয়ে ওঠা রোগীদের মধ্যেও দেখা দিচ্ছে তীব্র
শেষ আপডেট: 11 September 2021 08:27
দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনা (Corona) কালে সংক্রমণের চেয়েও আতঙ্ক বাড়িয়েছে মানসিক চাপ ও অবসাদ। ভাইরাসের সংক্রমণ হতে পারে ভেবে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় যেমন ভুগছেন মানুষজন, তেমনি পোস্ট-কোভিড পর্যায়ে অর্থাৎ করোনা সারিয়ে ওঠা রোগীদের মধ্যেও দেখা দিচ্ছে তীব্র মানসিক অবসাদ। ট্রমায় ভুগছেন অনেকেই। গবেষকরা তাঁদের সাম্প্রতিক একটি পরীক্ষায় দাবি করেছেন, করোনা প্রতিরোধে যে ভ্যাকসিন (covid Vaccine) দেওয়া হচ্ছে তা যেমন মৃত্যুর ঝুঁকি হ্রাসের পাশাপাশি, মানসিক চাপও (Mental Stress) কমিয়ে দিতে পারে অনেকটাই। এমনও নাকি দেখা গেছে, ভ্যাকসিনের ডোজ নেওয়ার পরে প্রচণ্ড মেন্টাল ট্রমায় থাকা রোগীর মানসিক স্বাস্থ্যের প্রভূত উন্নতি হয়েছে।
‘প্লস ওয়ান’ (PLOS One) বিজ্ঞানপত্রিকায় এই গবেষণার খবর ছাপা হয়েছে। সাউথ ক্যালিফোর্নিয়া ইউনিভার্সিটি বিজ্ঞানীরা বলছেন, কোভিড ভ্যাকসিনের ডোজ নিয়েছেন যাঁরা তাঁদের পর্যবেক্ষমে রেখে এই ব্যাপারটা বোঝা গেছে। দেখা গেছে, ভ্যাকসিনের ডোজ নেওয়ার পরেই স্ট্রেস কমেছে অনেকের।
ভাইরাস নিয়ে আতঙ্কের কারণে যে প্রচণ্ড উদ্বেগ তৈরি হচ্ছে মনে তাও কমেছে অনেকটাই। যদিও ভ্যাকসিন নিলেই যে স্ট্রেস, অবসাদ কমবে তা এখনও পরীক্ষিত সত্য নয়। প্রাথমিকভাবে পরীক্ষানিরীক্ষা করে এমন তথ্য দিয়েছেন বিজ্ঞানীরা।
গবেষকরা বলছেন, একদিকে ভাইরাসের সংক্রমণ ছড়াচ্ছে অন্যদিকে স্বাস্থ্য সঙ্কটের এই জটিল সময় আতঙ্কও বেড়ে চলেছে। এই দুইয়ের প্রভাবে মানুষের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য নানা বদল আসছে। ভাইরাসের সংক্রমণ সারিয়ে উঠছেন যে রোগীরা পরবর্তী পর্যায়ে গিয়ে অর্থাৎ পোস্ট-কোভিড পর্যায়ে শরীরে ও মনে নানা রোগ বাসা বাঁধছে। আবার সংক্রামিত হননি যাঁরা, ভাইরাসের আতঙ্কে তাঁরাও মানসিক উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠায় ভুগছেন। যার থেকে তীব্র মানসিক চাপ, অবসাদ, এমনকি ইনসমনিয়ার লক্ষণও দেখা যাচ্ছে। মানসিক অবসাদে বেশি ভুগছেন মহিলা ও কমবয়সী ছেলেমেয়েরা। বয়ঃসন্ধির তরুণ-তরুণীরাও মানসিক ট্রমার শিকার।
গবেষণা বলছে, দীর্ঘ লকডাউনের এই পর্যায়ে গার্হস্থ্য হিংসা যেমন বেড়েছে, তেমনি পাল্লা দিয়ে বেড়েছে মানসিক অবসাদ। কিছু ক্ষেত্রে দেখা গেছে, আত্মহত্যার প্রবণতা বেড়েছে কমবয়সীদের মধ্যে। সার্চ ইঞ্জিনে এই নিয়ে খোঁজাখুঁজিও হয়েছে। বিরক্তিভাব এবং অসহিষ্ণুতা অনেক বেড়েছে। মানুষ একে অপরের থেকে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে রয়েছে যার প্রভাব পড়েছে মানসিক স্বাস্থ্যে।
লকডাউনের প্রভাব পড়েছে নানা বয়সের মানুষের উপরে। ‘জেন জেড’ অর্থাৎ ১৮ থেকে ২৫ বছর বয়সীরাও নানা কারণে মানসিক চাপ ও অবসাদের শিকার। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যার কারণ অনেক। যেমন, মেলামেশা বন্ধ, সারাদিন বাড়িতে ইন্টারনেটে ডুবে থেকে মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি হচ্ছে অনেকেরই। সামান্য কারণেই বিরক্ত হতে দেখা যাচ্ছে তরুণ, তরণীদের। এই অসহিষ্ণুতা কাটাতে ভ্যাকসিন কতটা কাজে দেবে সেটাই এখন পরীক্ষা করে দেখার।
পড়ুন দ্য ওয়ালের সাহিত্য পত্রিকা 'সুখপাঠ'