দ্য ওয়াল ব্যুরো: সরকার অর্ডার দিলেই টিকার সরবরাহ শুরু হয়ে যাবে। এমনটাই জানালেন সেরাম ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়ার কর্ণধার আদর পুনাওয়ালা। সেরামের কোভিশিল্ড টিকাকে দুদিন আগেই ছাড়পত্র দিয়েছে কেন্দ্রীয় ড্রাগ নিয়ামক সংস্থা। বস্তুত, কোভিশিল্ডই দেশের তৈরি প্রথম টিকা যা সবচেয়ে আগে অনুমোদন পেয়েছে। অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রজেনেকার টিকার ফর্মুলা অনুসরণ করলেও কোভিশিল্ড টিকা পুরোপুরি পুণের সেরাম ইনস্টিটিউট ভ্যাকসিন রিসার্চ সেন্টারেই বানানো। আদর বলেছেন, এই টিকার প্রথম পাঁচ কোটি ডোজ শুধুমাত্র দেশের জন্যই বরাদ্দ থাকবে। এর পর থেকে বিশ্বের অন্যান্য দেশে টিকা পাঠানো শুরু হবে।
মার্চ-এপ্রিলের মধ্যে টিকার দশ কোটি ডোজ তৈরি হয়ে যাবে বলে জানিয়েছেন আদর। তিনি বলেন, সরকার আগে থেকেই এই টিকার ডোজ কেনার জন্য কথাবার্তা বলে রেখেছে। অর্ডার এলেই তার সাত থেকে দশ দিনের মধ্যে টিকা সরবরাহ শুরু করে দেওয়া হবে। এই টিকা সংরক্ষণেও কোনও ঝামেলা নেই। খুব ঠান্ডার দরকার পড়বে না। কোল্ড-স্টোরেজের স্বাভাবিক তাপমাত্রা ২ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসেই টিকা ভাল থাকবে। তাই ভ্যাকসিনে ট্রান্সপোর্টে কোনও সমস্যা হবে না।
কোভিশিল্ড টিকা খুব সস্তাতেই সরকারকে বিক্রি করা হবে বলে জানিয়েছেন আদর। শুরুতে ঠিক ছিল ডোজ প্রতি ২৫০ টাকা দামে সরকারকে কোভিশিল্ড টিকা বেচবে সেরাম। তবে এখন সেরাম সিইও জানিয়েছেন, টিকার প্রতি ডোজের দাম পড়বে ২০০ টাকা। তবে এই দাম সরকারের জন্যই। প্রথম পাঁচ কোটি ডোজের প্রতি ডোজ ২০০ টাকা দামেই সরকারকে দেওয়া হবে। বেসরকারি সংস্থাগুলিকে টিকা সরবরাহ করা হবে এর পর থেকে। সেক্ষেত্রে ডোজ প্রতি দাম পড়বে ১০০০ টাকার কাছাকাছি। তবে টিকার উৎপাদন ও বাদবাকি পরিস্থিতি বিচার করে ডোজ প্রতি দাম ৬০০-৭০০ টাকাও রাখা হবে পারে বলে জানিয়েছেন আদর পুনাওয়ালা।
অক্সফোর্ডের টিকার ডোজ একদমই সুরক্ষিত, জানিয়েছেন আদর। ভারত বায়োটেকের কোভ্যাক্সিন টিকার সুরক্ষা নিয়ে ইতিমধ্যেই সংশয় তৈরি হয়েছে। তৃতীয় পর্যায়ের ট্রায়ালের আগে কীভাবে টিকা ছাড়পত্র পেল সে নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। আদর এই প্রসঙ্গে বলেছেন, সেরামের টিকার কার্যকারিতা প্রমাণিত। যেহেতু অক্সফোর্ডের সঙ্গে চুক্তির ভিত্তিতে এই টিকা তৈরি, তাই এতদিন ব্রিটেনের ভ্যাকসিন রেগুলেটরি কমিটির অনুমোদনের অপেক্ষা করা হচ্ছিল। ব্রিটেনে অক্সফোর্ডের টিকা পুরোপুরি ছাড় পাওয়ার পরে আর কোনও সংশয়ের প্রশ্নই ওঠে না। অক্সফোর্ডের টিকা ৯৫ শতাংশ কার্যকরী বলে ঘোষণা করা হয়েছে। আদর বলেছেন, ভারতে কোভিশিল্ড টিকার ট্রায়ালে কোনও সমস্যা হয়নি। টিকার ডোজে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার যে অভিযোগ উঠেছিল তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ছিল। কোভিশিল্ড টিকার ডোজ নিয়েও কোনও বিভ্রান্তি নেই। টিকার ডোজে স্বেচ্ছাসেবকদের শরীরে পর্যাপ্ত অ্যান্টিবডিও তৈরি হয়েছে। কাজেই টিকাকরণ সুরক্ষিত ও নিরাপদ হবে।