
শেষ আপডেট: 27 October 2019 20:58
ক্যালিফোর্নিয়ায় গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহকারী সংস্থা 'প্যাসিফিক গ্যাস অ্যান্ড ইলেকট্রিক' জানিয়েছে, বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে প্রায় ১০ লক্ষ পরিবার। ৩৬টি প্রদেশের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানেও বিপর্যয় নেমে আসতে পারে। ক্যালিফোর্নিয়ার ইতিহাসে এর আগে কখনও এত মানুষ একসঙ্গে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হননি। ফলে দাবানল নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের এই বিশাল মাপের অসুবিধা নিয়েও সমস্যার মুখে প্রশাসন। সেই সঙ্গে ঘর ছেড়ে আসা মানুষদের নিরাপদ আশ্রয় দেওয়ার চিন্তা তো আছেই।
এ সবের মধ্যেই আগুনের লেলিহান শিখা আর কালো ধোঁয়ায় আরও বেশি করে ছেয়ে গেছে ক্যালিফোর্নিয়ার আকাশ। এই অবস্থায় সান ফ্রান্সিসকোর উত্তরে উইন্ডসোর ও হেল্ডসবার্গ শহর থেকে আরও ৫০ হাজার বাসিন্দাকে দ্রুত সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন কর্তৃপক্ষ।
বিদ্যুৎ নেই। টেলিভিশন চলছে না, মোবাইল সেবা বন্ধ। বাইরের দুনিয়ার সঙ্গে কোনও যোগাযোগ নেই বললেই চলে। এই অবস্থায় পরিস্থিতি ঠিক কতটা খারাপ, কোন দিকটা নিরাপদ, কিছুই জানা সম্ভব হচ্ছে না স্থানীয় বাসিন্দাদের। ফলে আগে থেকে তেমন প্রস্তুতিও নিতে পারছেন না অনেকেই। হঠাৎই একদম কাছে আগুন চলে আসতে দেখে বিনা প্রস্তুতিতে পালাতে হচ্ছে বহু মানুষকে। বয়স্ক মানুষ ও শিশুদের নিয়ে বিপদে পড়ছেন অনেকে।
আগুন নেভানোর জন্য কয়েক হাজার সরকারি কর্মী দিন-রাত এক করে কাজ করে চলেছেন। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় চলছে উদ্ধারকাজ। কিন্তু প্রতি ঘণ্টায় ৮০ থেকে ১০০ কিলোমিটার বেগে বাতাস বইছে। এই তীব্র বাতাসে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া দাবানল কিছুতেই নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না। লস অ্যাঞ্জেলেস ও সোনোমা কাউন্টিতে জরুরি অবস্থা জারি করেছে স্থানীয় সরকার।
ফলে চরম আতঙ্ক আর অনিশ্চয়তায় ভুগছেন ক্যালিফোর্নিয়াবাসী। সূত্রের খবর, একটি বিদ্যুৎ লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনা থেকে সূত্রপাত হয় আগুলের। যার জেরে ছড়িয়ে পড়ে দাবানল। এতেই ভুক্তভোগী লক্ষ-লক্ষ পরিবার।