বন দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় দশ লক্ষ হরিণের মধ্যে এমন একটি কালো হরিণের জন্ম হয়ে থাকে।

শেষ আপডেট: 9 January 2026 12:42
সায়ন সাহা, দার্জিলিং: পাহাড়ি জঙ্গলে প্রায়ই দেখা মিলছিল কালো চিতাবাঘের (Leopard)। এবার শৈলরানির জঙ্গলে দেখা মিলল কালো হরিণের (Black Deer)। বন দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় দশ লক্ষ হরিণের মধ্যে এমন একটি কালো হরিণের জন্ম হয়ে থাকে।
বৃহস্পতিবার সকালে ওই হরিণটির দেখা মিলতেই উচ্ছ্বসিত বন দফতর (Forest Department)। জঙ্গলের মধ্যে ওই কালো হরিণের ঘুরে বেড়ানোর ছবি ক্যামেরা বন্দি করতে সক্ষম হয়েছেন খোদ কার্শিয়াং (Kurseong) বনবিভাগের ডিএফও দেবেশ পান্ডে।
জেনেটিক ত্রুটির কারণে সাধারণ চিতাবাঘের গায়ে কালো রঙের পরিমাণ বেড়ে যায়। তখন তাকে ম্যালানেস্টিক লেপার্ড বলা হয়। সেই একই কারণেই কোনও কোনও হরিণের গায়েও কালো রঙের পরিমাণ বেড়ে যায়। তা সম্পূর্ণ কালো হরিণ হিসেবে দেখায়। এই হরিণ মূলত বার্কিং ডিয়ার। পাহাড়ের গভীর জঙ্গলে এই হরিণের দেখা মেলে হামেশাই। এর আগে বন দফতরের গবেষণায় কালো হরিণের অস্তিত্বের কথা জানানো হয়েছিল। তবে রাজ্যের ইতিহাসে এই প্রথমবার কালো হরিণ প্রকাশ্যে দেখা গেল।
এদিন সকালে কার্শিয়াং বনবিভাগের ডাউহিল ফরেস্টে ওই কালো হরিণের দেখা মিলেছে। ওই হরিণের দেখা মিলতেই গোটা জঙ্গলে নজরদারি বাড়িয়েছে বন বিভাগ। কারণ এই ধরণের হরিণের উপর চোরাশিকারিদের নজর থাকে। যাতে হরিণটিকে কোনওভাবেই চোরাশিকারীদের নজরে না পড়ে তার জন্য গোটা জঙ্গলে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
গত বছরও ডাউহিল, বাগোরা ও মিরিকের জঙ্গলে কালো চিতাবাঘ বা ম্যালানিস্টিক লেপার্ডের দেখা মিলেছিল। এই প্রথমবার ম্যালানিস্টিক হরিণের দেখা মিলল। এই বিষয়ে কার্শিয়াং বনবিভাগের ডিএফও দেবেশ পান্ডে বলেন, "এটা আমাদের জন্য দারুণ সুখবর। এর আগে কালো চিতাবাঘের দেখা মিলেছে একাধিকবার। এবার প্রথম ম্যালানিস্টিক হরিণের দেখা মিলল। এইধরণের হরিণ খুব অল্প জন্মায়। একে বাঁচিয়ে রাখার জন্য আমরা গোটা জঙ্গলে বাড়তি সতর্কতা নিয়েছি। বাড়ানো হয়েছে নজরদারি।"