দ্য ওয়াল ব্যুরো : শুক্রবার অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার ভ্যাকসিন অনুমোদন করেছে বিশেষজ্ঞদের প্যানেল। শনিবার সন্ধ্যায় ওই প্যানেল ভারত বায়োটেকের করোনা ভ্যাকসিন 'কোভ্যাকসিন' অনুমোদন করল। বিশেষজ্ঞরা ড্রাগ কন্ট্রোলার জেনারেল অব ইন্ডিয়াকে বলেছেন, 'জনস্বার্থে জরুরি পরিস্থিতিতে কোভ্যাকসিন নিয়ন্ত্রিতভাবে ব্যবহার করা যেতে পারে।' এরপরে ওই ভ্যাকসিন মানুষের শরীরে প্রয়োগ করার ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন ড্রাগ কন্ট্রোলার।
কোভ্যাকসিন ইতিমধ্যে কেবল তিনটি পর্যায়ে ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল শেষ করেছে। গত নভেম্বরে ভারত বায়োটেক তৃতীয় পর্যায়ের পরীক্ষা শুরু করে। ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে পরীক্ষা শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু উপযুক্ত সংখ্যক স্বেচ্ছাসেবকের অভাবে রেজিস্ট্রেশনের তারিখ পিছিয়ে গিয়েছে।
প্রথম দফার পরীক্ষায় দেখা গিয়েছিল, কোভ্যাকসিন মানুষের দেহে করোনার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ শক্তি তৈরি করে। তার গুরুতর কোনও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই। দ্বিতীয় দফার পরীক্ষায় দেখা যায়, ওই ভ্যাকসিন নিলে মানুষের শরীরে যে অ্যান্টিবডি দেখা যায়, তা ছয় থেকে ১২ মাস পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।
কোভ্যাকসিন তৈরির প্রক্রিয়ায় যুক্ত ছিলেন পিজিআইএমএসের ফার্মাকোলজির প্রফেসর সবিতা বর্মা। তিনি বলেন, কোভ্যাকসিনের এক কোটি ডোজ তৈরি হয়েছে।
শনিবার বিকালে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী হর্ষবর্ধন জানান, প্রথম দফায় বিনামূল্যে ভ্যাকসিন দেওয়া হবে ৩ কোটি মানুষকে। তাঁদের মধ্যে আছেন ১ কোটি স্বাস্থ্যকর্মী ও ২ কোটি সামনের সারির কোভিডযোদ্ধা। এদিন বিকালে হর্ষবর্ধন টুইট করে বলেন, "প্রথম দফায় জরুরি ভিত্তিতে ১ কোটি স্বাস্থ্যকর্মী ও ২ কোটি ফ্রণ্টলাইন ওয়ার্কারকে টিকা দেওয়া হবে। আরও ২৭ কোটি মানুষকে টিকা দেওয়া হবে জুলাইয়ের মধ্যে। এক্ষেত্রে কারা অগ্রাধিকার পাবেন, জানানো হবে পরে।"
ভারতে প্রায় ১ কোটি মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। মারা গিয়েছেন ১ লক্ষ ৪৯ হাজার মানুষ। হর্ষবর্ধন টুইটারে লিখেছেন, "ভ্যাকসিনের নিরাপত্তা নিয়ে কোনও গুজব যেন না ছড়ায়। সবকিছুই পরীক্ষা করে দেখা হয়েছে। এর আগে যখন পোলিও ভ্যাকসিন দেওয়া শুরু হয়েছিল, তখনও অনেকে গুজব ছড়াত। কিন্তু সেই ভ্যাকসিন দেওয়া শুরু হলে সভাই দেখল, তা নিরাপদ।"
টিকার বিতরণ কীভাবে হবে, ইঞ্জেকশন কীভাবে দেওয়া হবে, সংরক্ষণের ব্যবস্থা কেমন সেসব বিষয়ে চূড়ান্ত প্রস্তুতি খতিয়ে দেখে নিতে শনিবার সকাল থেকেই দেশের সমস্ত রাজ্যে শুরু হয়েছে টিকাকরণের মহড়া তথা ড্রাই-রান।
এখনও অবধি জানা গিয়েছে, ১১৬টি জেলায় ড্রাই-রান শুরু হয়ে গেছে। ২৫৯টি শিবিরে টিকাকরণের মহড়া চলছে। জেলায় জেলায় পৌঁছে গেছে কেন্দ্রের টাস্ক ফোর্স।
পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রামের ইউপিএইচসি ৪, আমডাঙা ও সল্টলেকের দত্তাবাদে টিকার ড্রাই-রান হবে। কতজন স্বাস্থ্যকর্মী টিকাকরণের এই মহড়ায় যোগ দেবেন, সে বিষয়ে এখনও বিস্তারিত তথ্য মেলেনি। করোনা টিকার প্রথম ড্রাই রান হয়েছে গত ২৮ ও ২৯ ডিসেম্বর। ওই দু’দিন অসম, পাঞ্জাব, অন্ধ্রপ্রদেশ ও গুজরাতে টিকাকরণের পরীক্ষামূলক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। আজ প্রায় ৫১৭টি জেলায় ড্রাই-রান চলবে বলে খবর।