প্রায় দেড় ঘণ্টা বিক্ষোভ চলার পর রেলকর্মীরা গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। চলে বোঝানো, তারপরই উঠে যান হকারেরা।

মানকুণ্ডু স্টেশনে বিক্ষোভ।
শেষ আপডেট: 27 August 2025 17:01
দ্য ওয়াল ব্যুরো: চলন্ত ট্রেনে হকারদের উপর ‘জুলুমবাজি’র অভিযোগে বুধবার দুপুরে অচল হয়ে পড়ে হাওড়া-ব্যান্ডেল শাখা। আরপিএফ-এর বিরুদ্ধে বাঙালি হকারদের টার্গেট করার অভিযোগ তুলে মানকুণ্ডু স্টেশনে রেললাইনে বসে পড়েন শতাধিক হকার। ঘটনার জেরে প্রায় দেড় ঘণ্টা ট্রেন চলাচল সম্পূর্ণ স্তব্ধ হয়ে যায়।
এই ঘটনায় চূড়ান্ত ভোগান্তিতে পড়েন হাওড়া-বর্ধমান মেন লাইনের যাত্রীরা। স্টেশন প্ল্যাটফর্মে তখন হাহাকার—কখন আসবে ট্রেন, উঠবে কী করে, বাড়ি ফেরা হবে তো?
বিক্ষোভের নেতৃত্বে ছিল ‘জাতীয় বাংলা সম্মেলন’ নামে এক হকার সংগঠন। সংগঠনের পক্ষে হিমাদ্রি বটব্যালের বিস্ফোরক অভিযোগ, “শ্যাওড়াফুলি স্টেশনে আমাদের রীতিমতো হেনস্থা করেছে আরপিএফ। শুধু তাই নয়, খারাপ ভাষায় গালিগালাজ, এক মহিলাকে মারধর, এমনকী বলা হয়েছে—এই লাইনে কোনও বাঙালি হকারকে কাজ করতে দেবে না। ব্যান্ডেলে ১৫ জন, শ্যাওড়াফুলিতে ১২ জনকে আটক করেছে।”
সিমলাগড়ের তারক পরামাণিক, যিনি দীর্ঘদিন ধরে রেলে হকারি করেন, বলছেন, “আমরা তো যাত্রীদেরও সাহায্য করি। অথচ তিনজন আরপিএফ জওয়ান এসে আমাকে ঘিরে মারধর করে। আমরা কি মানুষ নই?”
প্রায় দেড় ঘণ্টা বিক্ষোভ চলার পর রেলকর্মীরা গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। চলে বোঝানো, তারপরই উঠে যান হকারেরা।
তবে প্রশ্ন উঠছে—আরপিএফ-এর ভূমিকা নিয়ে। আদৌ কি ভাষা-ভিত্তিক বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন হকারেরা? এ ব্যাপারে রেল কর্তৃপক্ষর প্রতিক্রিয়া এখনও জানা যায়নি। তবে যাত্রী এবং হকারদের যৌথ অসন্তোষ আগামী দিনে আরও বড় সমস্যা ডেকে আনতে পারে বলেই মনে করছেন অনেকেই।