দ্য ওয়াল ব্যুরো : বাইরে ঘোরাফেরা করতে হলে আর মাস্ক পরার প্রয়োজন নেই। শুক্রবার এমনই জানাল চিনের রাজধানী বেজিং-এর পুর প্রশাসন। গত ১৩ দিন ধরে বেজিং-এ একজনও করোনায় আক্রান্ত হননি। তাই এই সিদ্ধান্ত। যদিও সাধারণ মানুষ এদিনও পথেঘাটে মাস্ক পরেই বেরিয়েছেন। অনেকে বলছেন, মাস্ক পরলে তাঁরা নিরাপদ বোধ করছেন। কেউ কেউ বলছেন, সামাজিক চাপে তাঁরা মাস্ক পরতে বাধ্য হচ্ছেন।
বেজিং-এর বাসিন্দা কাও নামে এক মহিলা বলেন, "আমি যে কোনও সময় মুখোশ খুলে ফেলতে পারি। কিন্তু অন্যেরা তাতে কিছু মনে করবে না তো? আমার ধারণা, অনেকে ভয় পাবে।"
করোনা প্রতিরোধে ইতিমধ্যে দু'বার লকডাউন করা হয়েছে বেজিং-এ। এপ্রিলের শেষে শহরের সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল থেকে বলা হয়, বাসিন্দারা মাস্ক ছাড়া বাইরে ঘোরাফেরা করতে পারবেন। জুনে শহরের দক্ষিণে পাইকারি বাজারে ফের করোনা সংক্রমণ দেখা দেয়। তখন পুর কর্তৃপক্ষ ফের মাস্ক প্রতে বলে।
চিনের মূল ভূখণ্ডে গত পাঁচদিনে নতুন করে কেউ করোনায় আক্রান্ত হননি। বিশেষজ্ঞদের মতে, চিন কঠোরভাবে মাস্ক পরার নিয়ম কার্যকর করেছে। কারও শরীরে ওই রোগের লক্ষণ দেখা দিলে সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে কোয়ারান্টাইনে পাঠিয়েছে। টেস্টও করেছে ব্যাপক হারে। এর ফলেই করোনা নিয়ন্ত্রণে সাফল্য পেয়েছে ওই দেশ।
চিন সরকার জানিয়েছে, ২০ অগাস্ট বিদেশ থেকে আগত ২২ জনের শরীরে করোনা ধরা পড়েছে। অতিমহামারী শুরু হওয়ার পরে চিনে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৮৪ হাজার ৯১৭ জন।
ভারতে এখনও ব্যাপক হারে ছড়াচ্ছে সংক্রমণ। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন প্রায় ৬৯ হাজার মানুষ। মৃতের সংখ্যা হাজারের দোরগোড়ায়। সুস্থও হয়েছেন ৬২ হাজারের বেশি। কোভিড-১৯ সংক্রমণে মৃত্যু হয়েছে ৯৮৩ জনের। সংক্রমণ সারিয়ে সুস্থ হয়ে উঠেছেন ৬২,২৮২ জন। ভারতে এখন সুস্থতার হার ৭৪.২৯ শতাংশ এবং মৃত্যুহার ১.৮৯ শতাংশ।
কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের বুলেটিন অনুসারে, আজ ২১ অগস্ট শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ভারতে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা মোট ২৯,০৫,৮২৩। এখনও পর্যন্ত সংক্রমণে মৃত্যু হয়েছে ৫৪,৮৪৯ জনের। সুস্থ হয়েছেন ২১,৫৮,৯৪৬ জন। ভারতে এখন অ্যাকটিভ কেস ৬,৯২,০২৮।
ভারতের কোভিড পরিসংখ্যানে শীর্ষে রয়েছে মহারাষ্ট্র। দেশে নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণের প্রাথমিক পর্যায় থেকেই মহারাষ্ট্রে কোভিড-১৯-এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি। করোনা আক্রান্ত এবং সংক্রমণে মৃতের সংখ্যাও মহারাষ্ট্রেই সর্বাধিক। মারাঠা প্রদেশে এখন করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৬,৪৩,২৮৯। মৃত্যু হয়েছে ২১,৩৫৯ জনের। সংক্রমণ সারিয়ে সুস্থ হয়েছেন ৪,৫৯,১২৪ জন। মহারাষ্ট্রে এখন অ্যাকটিভ কেসের সংখ্যা ১,৬২,৮০৬।
দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে তামিলনাড়ু। এখানে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৩,৬১,৪৩৫। সংক্রমণে মৃত্যু হয়েছে ৬২৩৯ জনের। সুস্থ হয়ে উঠেছেন ৩,০১,৯১৩। তামিলনাড়ুতে অ্যাকটিভ কেস ৫৩,২৮৩।