
শেষ আপডেট: 27 February 2024 20:11
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নতুন ঘটনা অনেক সময়েই পুরনো ঘটনাকে প্রাসঙ্গিক করে দেয়। সন্দেশখালি কাণ্ডেও তাই ঘটল। সন্দেশখালি ২ নম্বর ব্লকের ব্লক ডেভেলপমেন্ট অফিসার ছিলেন কৌশিক ভট্টাচার্য। কাটমানি আদায়ে আপত্তি করায় পাঁচ বছর আগে তাঁর দফতরে ঢুকে তাঁকে বেধড়ক মারধর করেছিলেন পঞ্চায়েতের দুই প্রধান ও তাঁদের শাগরেদরা। হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছিল কৌশকবাবুকে।
সন্দেশখালিতে শেখ শাহজাহান বাহিনীর উৎপাত নিয়ে যখন অসন্তোষ দলা পাকিয়ে উঠছে, তখন ফের সজীব হয়ে উঠল কৌশিক ভট্টাচার্যকে মারধরের স্মৃতি। সন্দেশখালি থানায় শাসক দলের কিছু নেতার নাম করে অভিযোগ জানিয়েছিলেন কৌশিকবাবু। কিন্তু প্রশাসনে তাঁর সহকর্মীরাই বলছেন, অভিযুক্তদের কিছুই হয়নি।
সন্দেশখালি থানায় কৌশিক অভিযোগ করেছিলেন যে ঘটনাটি ঘটেছিল উনিশ সালের ৬ জুন। বেড়মজুর ২ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান হাজি সিদ্দিকি মোল্লা, সন্দেশখালি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান দিলীপ মল্লিক এবং সন্দেশখালি ২-এর পঞ্চায়েত সমিতির সহকারি সভাপতি রাফসের আলি মোল্লা দলবল নিয়ে ঢুকে পড়েছিলেন তাঁর অফিসে।
পুলিশকে জমা দেওয়া সেই অভিযোগপত্রে কৌশিক ভট্টাচার্য জানিয়েছিলেন, দু-চারটে কথাবার্তার পরই তাঁকে কিল, চড়, ঘুষি মারা শুরু হয়। যতক্ষণ না তিনি অজ্ঞান হয়ে যান ততক্ষণ মারতেই থাকে।
সেই সময়ে প্রশাসনে কৌশিকবাবুর সহকর্মীরা জানিয়েছিলেন, সন্দেশখালিতে নদী পার হতে গেলে পঞ্চায়েত সমিতি থেকে ফেরিঘাটে ১ টাকা দেওয়ার নিয়ম ছিল। কিন্তু যাত্রীদের দিতে হত তিন টাকা। ওই বাড়তি টাকা যেত এলাকার নেতাদের কাছে। তাতে রাতারাতি ফুলে ফেঁপে উঠেছিলেন এক শ্রেণির নেতা।
২০১৭ সালে সন্দেশখালির ২ নম্বর ব্লকে বিডিও পদে যোগ দিয়ে এর প্রতিবাদ করেছিলেন কৌশিক ভট্টাচার্য। আবাস যোজনা, একশ দিনের কাজ, আধুনিক ফেরিঘাট তৈরি, আয়লার চাল বন্টন ইত্যাদিতে অনিয়ম নিয়ে আপত্তি করেছিলেন। তাতেই চক্ষুশূল হয়ে যান অনেকের।
ঘটনা হল কৌশিকবাবুর কাজে জেলা প্রশাসন সন্তুষ্ট ছিল। কারণ প্রশাসনের কর্তাদের মনে হয়েছিল কৌশিক যেভাবে অনিয়মে বাধা দিচ্ছেন তাতে তাঁর উপর হামলা হতে পারে। তাই জেলাশাসকের উদ্যোগে সাব ডিভিশনের একমাত্র বিডিও হিসাবে কৌশিক দেহরক্ষী পেয়েছিলেন। কিন্তু ঘটনার দিন বিডিওর সঙ্গে মার খেয়েছিলেন ওই দেহরক্ষীও। তাঁর নাম বিদ্যুৎ সরকার।
অনেকের মতে, সন্দেশখালিতে শাহজাহান-সিরাজউদ্দিনদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ শোনা যাচ্ছে, তাতে বোঝা যাচ্ছে সেখানে ট্র্যাডিশন অব্যাহত রয়েছে। এমন নয় যে তৃণমূল জমানাতেই এটা শুরু হয়েছিল। বরং এর জন্মও সেই বাম জমানা থেকেই। কৌশিক ভট্টাচার্যের উপর হামলা তাই কোনও বিক্ষিপ্ত ঘটনা ছিল না। বরং সেটাই সিস্টেমের অংশ হয়ে উঠেছিল।
তবে এও ঠিক যে সন্দেশখালিতে সাম্প্রতিক ঘটনার পর ভাবমূর্তি উদ্ধারে নেমেছে সরকার ও শাসক দল। সেখানকার মানুষের সঙ্গে বিচ্ছিন্নতা দূর করার চেষ্টা হচ্ছে। একদিকে দুয়ারে সরকার ক্যাম্প বসিয়ে মানুষকে পরিষেবা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। অন্যদিকে গ্রেফতার করা হচ্ছে শাসক দলেরই একাংশ নেতাকে।