দ্য ওয়াল ব্যুরো: নারীঘটিত কেলেঙ্কারির জেরে কি আত্মহত্যা নরেন্দ্র গিরির (narendra giri) ? উত্তরপ্রদেশের এই শীর্ষ ধর্মীয় নেতার (seer) দেহ সোমবার প্রয়াগরাজে তাঁর আশ্রমে (ashram) পাওয়া যায়। দাবি করা হয়, তিনি আত্মহত্যা করেছেন (suicide)। এবার পুলিশ জানাল, নরেন্দ্রর দেহের পাশে পড়ে থাকা একটি নোট পেয়েছে তারা। তাতে তিনি লিখেছেন, ‘এক মহিলার সঙ্গে তাঁর মর্ফ করা ছবি’ (morphed photo) বেরনোর পর থেকে তিনি প্রবল চাপে পড়ে ছিলেন।
নোটে নাম থাকা নরেন্দ্রর তিন শিষ্য আনন্দ গিরি, আদ্যা তিওয়ারি, সন্দীপ তিওয়ারিকে গতকালই গ্রেফতার করা হয়। নোটে তিনজিনের বিরুদ্ধে তাঁকে হেনস্থা, হয়রানির অভিযোগ করেছেন অখিল ভারতীয় আখড়া পরিষদের প্রধান নরেন্দ্র। নোটটি একটি মিডিয়া গ্রুপে শেয়ার করেছেন জনৈক সরকার অফিসার।
নোটে দুবার শীর্ষ ধর্মীয় নেতা উল্লেখ করেছেন, আনন্দ গিরি এক মহিলার সঙ্গে তাঁর মর্ফ করা ছবি শেয়ার করার চেষ্টা করছেন যাতে সেটি ভাইরাল হয়। ব্ল্যাকমেল করার চেষ্টা হচ্ছে তাঁকে। এতে তাঁর দুর্নাম হবে। লজ্জা, অপমানের বোঝা মাথায় নিয়ে বেঁচে থাকার চেয়ে মরে যাওয়া ভাল, নোটে নাকি লিখেছেন নরেন্দ্র। আনন্দ গিরির তাঁর বিরুদ্ধে তোলা মিথ্যা আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগেও তিনি অত্যন্ত বিচলিত বলে নোটে লিখেছেন নরেন্দ্র।
ধর্মীয় নেতার মরদেহ উদ্ধার হওয়ার পরপরই আনন্দ গিরি অভিযোগ করেন, নরেন্দ্র গিরির থেকে যারা তোলা আদায় করত, তারাই চক্রান্ত করছে। চিঠিতে তাঁর নাম দিয়েছে। গুরুজি সারা জীবনে একটিও চিঠি লেখেননি, তিনি আত্মহত্যা করতেই পারেন না। সুতরাং চিঠিটি নিয়ে তদন্ত হোক। গুরুজির হাতের লেখা কিনা, তাও পরীক্ষা করা হোক। আমি আজীবন ওখানে কাটিয়েছি, কখনও কোনও টাকা নিইনি। গুরুজি, আমার মধ্যে সবসময় ভাল সম্পর্ক ছিল। তাই সরকারের কাছে আবেদন, গোটা বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হোক।
শোনা যাচ্ছে, আনন্দ গিরিকে নাকি মৃত ধর্মীয় নেতা জালিয়াতি, অর্থ তছরূপের অভিযোগে বহিষ্কার করেছিলেন। যদিও পরে আপস-মীমাংসা হয় সম্ভবতঃ। একটি ভিডিওতে দেখা যায়, আনন্দ তাঁর গুরুর পায়ের কাছে বসে ক্ষমা চাইছেন। নরেন্দ্র গিরির নোটের ব্যাপারে প্রয়াগরাজের শীর্ষ পুলিশকর্তা কে পি সিং বলেন, নোটটা পড়ে দেখছি। উনি বলেছেন, হতাশায় ভুগছিলেন। তাঁর প্রয়াণের পর আশ্রমের ভবিষ্যত্ কী হবে, সে ব্যাপারে উইল করে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া উচিত, নোটে তাও বলেছেন নরেন্দ্র।
গতকালই প্রয়াগরাজের আশ্রমে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ জানিয়ে দেন, দোষীরা রেহাই পাবে না। নরেন্দ্রর মৃত্যু নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিস্তারিত তদন্ত দাবি করেন সমাজবাদী পার্টি নেতা অখিলেশ যাদবও।