দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনাভাইরাসের (coronavirus) আসন্ন তৃতীয় ঢেউয়ের (third wave) জল্পনার মধ্যেই স্বস্তির খবর। ৬ মাসের বেশি সময়কালে দেশে অ্যাকটিভ কোভিড ১৯ (covid 19) সংক্রমণ কেস (active case) তিন লাখের নীচে নামল। এই প্রথম। সোমবার সংখ্যাটা ছিল ২ লাখ ৯৪ হাজার ৪৯৭। গত মে মাসে যখন করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ (second wave) সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছয়, তখন অ্যাকটিভ কেসের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছিল ৩৭.৪৫ লাখে।
মে মাসের মাঝামাঝি থেকেই সারা দেশে অ্যাকটিভ কেসের সংখ্যা কমছিল। তবে ব্যতিক্রম ছিল কেরল। দক্ষিণ ভারতের বামশাসিত রাজ্যে অল্প কিছুদিনের জন্য কেসের সংখ্যা অস্বাভাবিক বেড়ে গিয়েছিল। ঠিক এখন সারা দেশের মোট অ্যাকটিভ কেসের প্রায় ৫৫ শতাংশ বা ১.৬৩ লাখের বেশি নথিভুক্ত হয়েছে কেরলে। তারপরই অ্যাকটিভ কেসের সংখ্যার বিচারে আছে মহারাষ্ট্র। সেখানে সংখ্যাটা প্রায় ৩৭ হাজার।
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, বর্তমানে দেশে কোভিড ১৯ সংক্রমণ পরিস্থিতি ঠিক গত ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময়কে মনে করাচ্ছে, সেকেন্ড ওয়েভ আসার প্রাক্কালে যেমন ছিল, তেমন। তখনকার মতো এখন প্রতিদিন ২০টির ওপর রাজ্য থেকে ১০০র কম কেসের খবর আসছে। তখনও অর্ধেকের ওপর কেসের খবর আসছিল কেরল, মহারাষ্ট্র থেকে। এবার অবশ্য কেরল থেকে বেশি সংক্রমণ নথিভুক্ত হচ্ছে।
সেসময়ও মোট অ্যাকটিভ কেসের সংখ্যা কমে হয়েছিল প্রায় ১.৩৫ লাখ। দৈনিক কেসও ১২ থেকে ১৫ হাজারের ঘরে নেমে এসেছিল। বর্তমান পর্বে অবশ্য দৈনিক কেস ২৫ হাজারের নীচে নামেনি এখনও।
রবিবার সারা দেশে নতুন সংক্রমণের সংখ্যা ছিল ২৬০৪১। তার মধ্যে ১৫,৯৫১টিই শুধু কেরলের। মহারাষ্ট্রে সংখ্যাটা ৩২০০।
বিহার, রাজস্থান, ঝাড়খন্ড-এই তিন রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ, দমন, দিউ ও চণ্ডীগড়ে অ্যাকটিভ কেসের সংখ্যা ১০০র নীচে নেমেছে। রবিবার ১৮টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে একটিও কোভিড ১৯ এ মৃত্যুর খবর নেই। এক সপ্তাহের ওপর হয়ে গেল এই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। যদিও গোটা দেশের বিচারে দৈনিক মৃত্য়ুসংখ্যা ২০০র বেশি রয়েছে, যার প্রায় ৬০ শতাংশই কেরলের।
তবে উল্লেখ করার মতো ব্যাপার হল, প্রায় ১২ লাখ জনসংখ্যার মিজোরাম দেশের ৫টি সবচেয়ে বড় কোভিড প্রভাবিত রাজ্যের তালিকায় রয়েছে। গড়ে ১৫০০ এর বেশি সংক্রমণ হচ্ছে রাজ্যে। অ্যাকটিভ কেস বেড়ে হয়েছে প্রায় ১৬ হাজার। কেরল, মহারাষ্ট্র, তামিলনাড়ুর পরই চতুর্থ সর্বোচ্চ স্থানে আছে উত্তরপূর্বের এই রাজ্য।