বাসের কনডাক্টর থেকে আইএএস অফিসার হওয়ার দোরগোড়ায়! ইউপিএসসি-উত্তীর্ণকে কুর্নিশ করছেন নেটিজেনরা
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিদ্যেবতী সরস্বতীর বরপুত্র যেন তিনিই। নইলে কি আর বাসে কন্ডাক্টর হিসেবে উদয়াস্ত পরিশ্রম করেও ইউপিএসসি পরীক্ষার মতো কঠিন বাধা টপকে যেতে পারেন! গল্প হলেও এমনটাই সত্যি। পরিশ্রম আর মেধার জোরে সফল হয়েছে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে যাত
শেষ আপডেট: 29 January 2020 06:20
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিদ্যেবতী সরস্বতীর বরপুত্র যেন তিনিই। নইলে কি আর বাসে কন্ডাক্টর হিসেবে উদয়াস্ত পরিশ্রম করেও ইউপিএসসি পরীক্ষার মতো কঠিন বাধা টপকে যেতে পারেন! গল্প হলেও এমনটাই সত্যি। পরিশ্রম আর মেধার জোরে সফল হয়েছে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে যাত্রা। তিনি বেঙ্গালুরুর যুবক, মধু এনসি। তাঁর ইচ্ছাশক্তি এখন বহু মানুষের অনুপ্রেরণা।
২৯ বছরের মধু পেশায় সরকারি বাসের এক জন কনডাক্টর। পরিবারের অভাবের তাড়নায় অনেক ছোট বয়স থেকেই কাজ করতে শুরু করেন পড়াশোনার পাট চুকিয়ে দিয়ে। আর পাঁচ জন কনডাক্টরের মতোই দিনের আটটা-ন'ঘণ্টা বাসেই কেটে যায় তাঁর। কিন্তু প্রথাগত পড়াশোনার পাট চুকিয়ে কাজে নামলেও, আদতে তো তিনি এক জন মেধাবী ছাত্র। আর সেই মেধাই এনে দিল সাফল্য। ইউপিএসসি-র মূল পরীক্ষা পাশ করে গেছেন তিনি। ২৫ মার্চ ডাক পেয়েছেন ইন্টারভিউ দেওয়ার জন্য।
ইউপিএসসি পরীক্ষা দিয়ে ভাল সরকারি চাকরি পাওয়ার স্বপ্ন এ দেশের লক্ষ-লক্ষ তরুণ-তরুণী দেখেন। কিন্তু এ স্বপ্ন পূরণের জন্য মেধা ছাড়াও প্রয়োজন কঠোর পরিশ্রম, একাগ্রতা। সে সব মিলিয়ে স্বপ্ন সত্যি করতে পারেন হাতে-গোনা ছেলেমেয়ে। তাও হয়তো একাধিক বারের চেষ্টায়। অনেকে আবার বারবার চেষ্টা করেও হাল ছেড়ে দেন। লক্ষ্যপূরণ হয় না।
কিন্তু মধু যা করে ফেললেন, তা যেন চমকে দিয়েছে সকলকে। প্রতিদিন আট ঘণ্টা কন্ডাক্টরের কাজ করার পরেও পার করা যায় ইউপিএসসির কঠিন হার্ডল! মধু জানিয়েছেন, তাঁর মনে বিশ্বাস ছিল, তিনি এই পরীক্ষা পাশ করবেনই। আত্মবিশ্বাস হারাননি কখনও। আর কাজের শেষে রোজ পাঁচ ঘণ্টা করে সময় দিতেন পড়াশোনার জন্য। তাতেই পূরণ হল স্বপ্ন।
মধু তাঁর পরিবারের মধ্যে প্রথম স্কুলের গণ্ডি টপকেছেন। পড়াশোনা করতে বরাবরই ভাল লাগত। স্কুলের পরে কলেজ। ভাল রেজাল্ট নিয়ে পাশ করার পরে আরও পড়ার ইচ্ছে থাকলেও, সাংসারিক অভাবের কারণে তা হয়ে ওঠেনি। কিন্তু তাতে কী? ইচ্ছে থাকলেই উপায় হয়। একটানা প্রস্তুতি নিয়েছেন তিনি। তারপরে গত বছর জুনে প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় পাশ করে নিজেই চমকে যান।
এর পরে দ্বিগুণ উদ্যোগে শুরু হয় প্রস্তুতি। মূল পরীক্ষায় পাশ করার তাগিদটা আরও বেড়ে যায়। পাশ করেও গেলেন সেই তাগিদের জোরে। নিজের ফলাফলে খুশি মধু বলেন, “আমি জীবনে বড় কিছু করার স্বপ্ন দেখতাম সব সময়। তাই অল্প বয়সে কাজ শুরু করলেও, লেখাপড়াটা বন্ধ করিনি। ভোর চারটে থেকে উঠে পড়তাম। তার পরে কাজে যেতাম। কাজ সেরে এসে আবার পড়তাম।"
কনডাক্টর থেকে আইএএস অফিসার হওয়ার দোরগোড়ায় এসে দাঁড়িয়েছেন মধু। গোটা দেশ তাঁকে কুর্নিশ করছে।