দ্য ওয়াল ব্যুরো: আর দুই মিনিট বাঁচিয়ে রাখলেই জয়ের হ্যাটট্রিক হয়ে যেত এটিকে মোহনবাগানের। কিন্তু হল না শেষমেশ, দুটি জয়ের পরে ড্র করল তারা। হায়দরাবাদ এফসি-র বিপক্ষে ২-২ খেলা শেষ হওয়ায় পয়েন্ট তালিকায় বদল হল না, সেই তিনেই থাকল জুয়ান ফার্নান্দোর দল। তাদের অর্জিত পয়েন্ট ১৫। শীর্ষে থাকল হায়দরাবাদই, তারা এক পয়েন্ট বেশি পেয়েছে।
খেলার ১২ সেকেন্ডের গোলে এগিয়ে গিয়েছিল এটিকে মোহনবাগান। হুগো বুমোসের পাস থেকে দূরপাল্লার জোরালো শটে বল জালে রাখেন ডেভিড উইলিয়ালস। সেইসময় ভাবা গিয়েছিল আরও গোলের বন্যা বইবে, কিন্তু সেটি হয়নি। ১৮ মিনিটে বিপক্ষ দলের হয়ে গোল করে সমতা ফেরান ওগবেচে। বিরতিতে দুই দলের পক্ষে ফল ১-১।
https://twitter.com/IndSuperLeague/status/1478757136259698688
তার মধ্যে অবশ্য দলের আইরিশ মিডিও কার্ল ম্যাকহুগ বিপক্ষ দলের একজনের সঙ্গে সংঘর্ষে মাঠের বাইরে চলে যান। তাঁর বদলে মাঠে নামেন জনি কাউকো। এই ফিনল্যান্ডের তারকা মাঠে নামতে আরও সচল হয় দল। দ্বিতীয়ার্ধে গোলও পেয়ে যায় উইলিয়ামস ও কাউকোর যুগলবন্দীতে। উইলিয়ামস কাট করে বিপক্ষ বক্সে প্রবেশ করে কাউকোকে দিলে তিনি শট নেন, আর সেটি বিপক্ষের আশিস রাইয়ের পায়ে লেগে জালে জড়িয়ে যায়। গোলটি আত্মঘাতী হয়।
ইনজুরি টাইমে হায়দরাবাদ দলের পক্ষে সিভিরিও দুরন্ত গোল করে খেলায় সমতা ফেরান, আর জয়ের মুখ থেকে ফেরায় এটিকে মোহনবাগানকে।
https://twitter.com/IndSuperLeague/status/1478767378888421377
এদিন ম্যাচ চমক দিয়েছিলেন বাগানের স্প্যানিশ কোচ ফার্নান্দো। তিনি দলের প্রাণভোমরা রয় কৃষ্ণকে বসিয়ে প্রথম একাদশে রেখেছিলেন ডেভিড উইলিয়ামসকে। তিনি নামের সুবিচার করেছেন সারা ম্যাচে ভাল খেলে। তাঁকেই ম্যাচের সেরা দেওয়া উচিত ছিল, কিন্তু কারা যে সেরা বাছেন, সেই নিয়ে রহস্য থেকে যায়।
উইলিয়ামস নিজে তো দ্রুততম গোল করেছেন, পাশাপাশি আবার দ্বিতীণ গোলের ক্ষেত্রেও তিনি নিজের দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। আই লিগে ১৪ সেকেন্ডে গোল করেছিলেন সুদানের বিদেশি স্ট্রাইকার জেমস মোগা। তখন তিনি পুণে এফসি-র খেলোয়াড়। বুধবার ১২ সেকেন্ডে উইলিয়ামসের বাঁ পায়ের জোরালো শট খুঁজে নেয় হায়দরাবাদের জাল।
গোলটির আগে একাধিক দৃষ্টিনন্দন পাস খেলেন সবুজ-মেরুন ফুটবলাররা। বক্সের অনেকটা বাইরে থেকে বাঁ পায়ে কামান দাগেন উইলিয়ামস। তার জবাব ছিল না হায়দরাবাদের গোলরক্ষক কাট্টিমানির কাছে। শরীর ছুড়ে দিয়েছিলেন তিনি। উইলিয়ামসের জোরাল শট কাট্টিমানির হাতে লেগে জড়িয়ে যায় জালে।
তার মধ্যে অমরিন্দরের বিশ্রী গোলকিপিং বাগানকে আতঙ্কে রাখছে। কোচ ফার্নান্দোকে শেষ প্রহরীর জন্য ভালমানের কাউকে তৈরি করতে হবে। শেষ গোলের ক্ষেত্রেও লাইনে ছিলেন না অমরিন্দর। তিরি ও প্রীতম সারা ম্যাচে রক্ষণে ভরসা দিলেও শেষ মুহূর্তে আর আগলাতে পারেননি। কোচ এদিন শুভাশিস বসুকে বাইরে রেখে শুরু থেকে খেলান প্রবীর দাসকে, তিনি নিজের দক্ষতার পরিচয় দিলেও আসল কাজটি দল করতে পারেনি।