দ্য ওয়াল ব্যুরো: গত তিন সপ্তাহ ধরেই দেশের এফেক্টিভ রিপ্রোডাকশন নম্বর তথা আর নম্বর একের নিচে নেমে গেছে। দেশে এখন আর নম্বর ০.৯৫। গত সপ্তাহে আর নম্বর ছিল ০.৯৭। চেন্নাইয়ের ইনস্টিটিউট অব ম্যাথেমেটিক্যাল সায়েন্সের গবেষকরা বলেছেন, এফেক্টিভ রিপ্রোডাকশন নম্বর কমে যাওয়ার অর্থ হল সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার হার কমবে।
ইনস্টিটিউট অব ম্যাথেমেটিক্যাল সায়েন্সের অধ্যাপক সীতাভ্র সিনহা বলেছেন, আর নম্বর কমলে করোনা ট্রান্সমিশন রেট তথা সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার হার কমবে। একের নিচে নেমে গেলে অ্যাকটিভ করোনা রোগীর সংখ্যাও কমে যাবে। পাশাপাশি, একজন আক্রান্তের থেকে বেশিজনের মধ্যে সংক্রমণ ছড়ানোর হারও কমবে। ট্রান্সমিশন রেটও একটা স্থিতিশীল পর্যায়ে চলে আসবে। যে মুহূর্তে দেশের কোভিড ট্রান্সমিশন রেট স্থিতিশীল হবে, আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধিও কমতে থাকবে।
গবেষকরা বলছেন, গত ১৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কেরলে আর নম্বর ছিল ১.৩। এখন কমে হয়েছে ১.২৯। কর্নাটকে আর নম্বর ১.১১ পয়েন্ট থেকে ১.০৭ পয়েন্টে নেমে গেছে। মহারাষ্ট্র ও অন্ধ্রপ্রদেশে আর নম্বর একের নিচে নেমে গেছে। পরিসংখ্যাণ বলছে, মারাঠা রাজ্যে আর নম্বর ০.৯৪, অন্ধ্রে ০.৮৭। সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি থেকেই মহারাষ্ট্রে আর নম্বর একের নিচে নেমে গেছে। তামিলনাড়ুতেও এফেক্টিভ রিপ্রোডাকশন নম্বর একের কম, ০.৯৬, উত্তরপ্রদেশে ০.৮৭ পয়েন্ট থেকে কমে হয়েছে ০.৮৫।
এই আর নম্বর এবং কোভিড ট্রান্সমিশন রেট একে অপরের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। সেটা কীভাবে? গবেষক বলেছেন সেটা বুঝতে হলে আগে আর নম্বর জানতে হবে। এই আর নম্বর হল এমন একটা গাণিতিক হিসেব যার মাধ্যমে সংক্রমণের হার মাপা হয়। একজন করোনা রোগীর থেকে কতজনের মধ্যে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ছে সেটা মাপা হয় আর নম্বর দিয়ে। এই হিসেবের মাপকাঠিতেই নির্ণয় করা হয় সংক্রমণ কতটা ছড়িয়ে পড়ল এবং কতজনের মধ্যে ছড়াল। শুরুতে এই সংক্রমণের হার মাপার জন্য রিপ্রোডাকশন নম্বর তথা ‘আর-নট’ স্কেলের হিসেব প্রয়োগ করছিল ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিক্যাল রিসার্চ (আইসিএমআর)।
গবেষক ডক্টর সীতাভ্র সিনহা বলেছেন, গত ৪ মার্চ দেশের আর নম্বর ছিল ১.৮৩। ওই সময় উহানের আর নম্বর ছিল ২.১৪ এবং ইতালির ২.৭৩, যা ভারতের থেকে অনেক বেশি। অর্থাৎ সংক্রমণ ছড়ানোর হার বেশি। ভারতে ২৫ মার্চ থেকে লকডাউন শুরু হওয়ার পরে এই নম্বর কমতে থাকে। ৬ এপ্রিল থেকে ১১ এপ্রিল পর্যন্ত আর নম্বর নেমে আসে ১.৫৫-এ। জুনের প্রথমে সেটাই পৌঁছয় ১.৪৯ পয়েন্টে। জুনের মাঝামাঝি আরও কমে আর নম্বর থিতু হয় ১.১২ পয়েন্টে। আর নম্বরের এই ধারাবাহিক পতন দেখেই লকডাউন শিথিল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। দ্বিতীয় পর্যায়ে আনলক শুরুর পরেই জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহেই ফের আর নম্বর বেড়ে পৌঁছে যায় ১.১৯-এ। এখন ফের কমে একের নিচে নেমে গেছে।