
শেষ আপডেট: 27 February 2024 20:26
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ধৃত অর্পিতা মুখোপাধ্যায়কে রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ বান্ধবী হিসেবে আদালতে দাবি করেছিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। মঙ্গলবার ওই মামলার শুনানিতে আদালতে পার্থর আইনজীবীর দাবি, অর্পিতা পার্থর বান্ধবী ছিলেন না। তাঁদের মধ্যে কাকা-ভাইঝির মতো সম্পর্ক ছিল!
নিজের যুক্তির সপক্ষে পার্থর আইনজীবীর আদালতে আরও দাবি, অর্পিতার বাড়ি থেকে তদন্তকারীরা বিমা সংক্রান্ত যে নথি উদ্ধার করেছে, সেখানেও ‘নমিনি’ হিসাবে পার্থর পরিচয় রয়েছে ‘কাকু’ হিসাবে!
২০২২ সালের ২৩ জুলাই। ১৯ ঘণ্টা ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদের পর নাকতলার বাড়ি থেকে রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যয়কে গ্রেফতার করেছিল ইডি। সেই সূত্রে পার্থর ‘ঘনিষ্ঠ’ বলে পরিচিত অর্পিতার টালিগঞ্জ ও বেলঘরিয়ার ফ্ল্যাটে হানা দিয়ে নগদ প্রায় ৫০ কোটি টাকা উদ্ধার করেন তদন্তকারীরা। গ্রেফতার করা হয় অর্পিতাকেও।
ওই ঘটনায় সেই সময় হইচই পড়ে গিয়েছিল রাজ্য রাজনীতিতে। সেই থেকে প্রেসিডেন্সি জেলে বন্দি রয়েছেন প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী।
মঙ্গলবার কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের এজলাসে এই মামলার শুনানি ছিল। সেখানেই পার্থ ও অর্পিতার 'সম্পর্কে'র প্রসঙ্গ ওঠে। তখনই এই দাবি করেন পার্থর আইনজীবী।
একই সঙ্গে তাঁর দাবি, অর্পিতার সঙ্গে মন্ত্রীর ব্যবসায়িক সম্পর্ক ছিল। এছাড়া তাঁদের মধ্যে অন্য কোনও সম্পর্ক ছিল না।
আদালতে পার্থর আইনজীবীর আরও অভিযোগ, তাঁর মক্কেলের বিরুদ্ধে ইডি বা সিবিআইয়ের কাছে সুনির্দিষ্টভাবে কোনও নথি নেই। তা সত্ত্বেও টানা ১৯ মাস ধরে আটকে রাখা হয়েছে পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে।
বুধবার ফের এই মামলার শুনানি হবে বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের এজলাসে।
প্রসঙ্গত, ইডির পাশাপাশি নিয়োগ মামলার তদন্ত করছে সিবিআইও। সম্প্রতি নিয়োগ মামলায় আদালতে জমা দেওয়া রিপোর্টে পার্থ চট্টোপাধ্যায়কেই দুর্নীতির অন্যতম মাথা হিসেবে উল্লেখ করেছিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।
সিবিআইয়ের দাবি, কাকে নিয়োগ করা হবে আর কাকে বাদ দেওয়া হবে সবটাই চলত পরিকল্পনা মাফিক। যাঁরা সঙ্গ দিতেন না তাঁদের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হত। ২০২০ সালের জানুয়ারি মাসে পার্থর বাড়িতে বৈঠক হয়। সেই বৈঠকে এক আধিকারিককে পদত্যাগ পর্যন্ত করানো হয়েছিল। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, দুর্নীতিতে পুরোপুরি যুক্ত থেকেও পার্থ এমনভাবে অপরাধ করতেন যাতে তার নাম সামনে না আসে।