
শেষ আপডেট: 23 December 2023 11:35
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিশ্বজুড়ে নতুন করে করোনার বাড়বাড়ন্তে উদ্বিগ্ন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের তরফে ইতিমধ্যে রাজ্যগুলিকে সতর্ক বার্তা পাঠানো হয়েছে। এ ব্যাপারে বুধবার রাজ্যের মুখ্যসচিব ও স্বরাষ্ট্রসচিবের সঙ্গে আলোচনায় বসেন স্বাস্থ্যসচিব। সেখানে করোনা আক্রান্তদের আরটি-পিসিআর টেস্টের ওপর জোর দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
এবার রাজ্যগুলিকে পাঠানো কেন্দ্রের নির্দেশিকায় পরিষ্কারভাবে জানানো হল, পজেটিভ কোভিড স্যাম্পেল জিনোম সিকোয়েন্সিংয়ের জন্য পাঠাতে হবে।পরিস্থিতির উপরে কড়া নজরদারির জন্যই এই পদক্ষেপ বলে স্বাস্থ্য মন্ত্রক থেকে জানানো হয়েছে।
জানা গেছে, আরটি-পিসিআর পরীক্ষায় যে সমস্ত নমুনার রিপোর্ট পজেটিভ আসবে, তার স্যাম্পেল জিনোম সিকোয়েন্সিংয়ের জন্য আইএনএসএসিওজি ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হবে।
বিশ্বজুড়ে ফের চোখ রাঙাচ্ছে করোনা। গত দু'সপ্তাহে দেশে ১৬ জনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। আক্রান্তের সংখ্যা ৭০০ ছুঁই ছুঁই। শুক্রবার পশ্চিমবঙ্গেও তিনজন নতুন করে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, করোনার নয়া ভ্যারিয়েন্ট জেএন.১ অতি সংক্রামক। এই সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তাই সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে থাকলেও গা-ছাড়া মনোভাব দেখাতে নারাজ কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক।
সূত্রের খবর, এ ব্যাপারে কলকাতা এবং জেলার হাসপাতালগুলিকে বাড়তি পদক্ষেপের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে স্বাস্থ্য ভবনের তরফে। এই মুহূর্তে রাজ্যে সেভাবে করোনার বিশেষ বাড়বাড়ন্তের ঘটনা না ঘটলেও আপৎকালীন পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে কলকাতা এবং জেলার হাসপাতালগুলিতে কিছু বেড কোভিড রোগীদের জন্য নির্দিষ্ট করে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে করোনা সংক্রমণ নিয়ে শুক্রবার গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করতে দেখা যায় কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি টিএস শিবজ্ঞানমকে । রাজ্যের তরফে কোনও গাইডলাইন এলেই তা রেজিস্টার জেনারেলকে জানানোর নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
শুক্রবার একটি মামলা চলাকালীন প্রধান বিচারপতির এজলাসে উপস্থিত ছিলেন গভর্নমেন্ট প্লিডার। তাঁকে দেখে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রধান বিচারপতি টিএস শিবজ্ঞানমজানতে চান, "পশ্চিমবঙ্গে তিনজন নতুন করে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। কেরলেও ৫০০র বেশি মানুষ করোনার নতুন স্ট্রেনে আক্রান্ত। রাজ্যের তরফে কি কোনও গাইডলাইন প্রকাশ করা হয়েছে? এখন থেকেই কি মাস্ক পরা জরুরি?" জবাবে সরকারি আইনজীবী জানান, রাজ্যের তরফে এখনও নিষেধাজ্ঞামূলক কোনও গাইডলাইন জারি করা হয়নি। তবে রাজ্য পরিস্থিতির দিকে কড়া নজর রাখছে।