
শেষ আপডেট: 14 February 2023 06:36
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মোদী-আদানি, বিবিসি তথ্যচিত্র বিতর্কে অবশেষে মুখ খুললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)। তাঁর বক্তব্য, গুজরাত দাঙ্গা নিয়ে চলতি বিতর্ক নতুন কিছু নয়। ২০০২ সাল থেকে কিছু লোক অনর্থক নরেন্দ্র মোদীকে (Narendra Modi) তাড়া করে বেড়াচ্ছে।
তবে অমিত শাহ কড়া অবস্থান নিয়েছেন আদানি ইস্যুতে (Adani Issue)। কংগ্রেসকে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন তারা প্রধানমন্ত্রীর দিকে আঙুল তোলায়। সোমবার থেকে ১৩ মার্চ পর্যন্ত সংসদের দুই কক্ষের অধিবেশন স্থগিত হয়ে গিয়েছে। ফলে সংসদে বিরোধীদের আক্রমণ সোমবার থেকেই রাজপথে নেমে এসেছে। কেরলে নিজের সংসদীয় কেন্দ্র ওয়ানাডে রাহুল গান্ধী জনসভা করে জানিয়ে দিয়েছেন, কংগ্রেস মোদী-আদানি ইস্যুতে বিরোধী দলগুলিকে পাশে নিয়ে লড়াই চালিয়ে যাবে। রাজ্যসভায় বিরোধী দলনেতা মল্লিকার্জুন খাড়্গেও জানিয়ে দিয়েছেন, এবার লড়াই হবে সংসদের বাইরে।
এই পরিস্থিতিতে বিরোধীদের, বিশেষ করে কংগ্রেসকে নিশানা করতে এগিয়ে এসেছেন অমিত শাহ। তাৎপর্যপূর্ণ হল, বিবিসির তথ্যচিত্র বিতর্ক এবং শেয়ার কেলেঙ্কারিতে অভিযুক্ত গৌতম আদানির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘বিশেষ সম্পর্ক’ নিয়ে কংগ্রেসের তোলা অভিযোগের ব্যাপারে এতদিন চুপ ছিলেন শাহ। এমনকী প্রধানমন্ত্রী লোকসভা এবং রাজ্যসভায় রাষ্ট্রপতির ভাষণের উপর বিতর্কের জবাবি বক্তৃতার দিনেও অধিবেশন কক্ষে অনুপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। অমিতের নীরবতা নিয়ে বিভিন্ন মহলে জল্পনাও শুরু হয়।
মঙ্গলবার সংবাদসংস্থাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কংগ্রেসকে আদানি প্রশ্নে তীব্র আক্রমণ করেন শাহ। বলেন, ‘আমরা ভয় পাইনা। কংগ্রেসের কাছে আদানিদের নিয়ে যদি কোনও প্রমাণ থাকে তো তারা আদালতে যাক।’ কেন্দ্রের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘এর আগে পেগাসাস সফটওয়্যার, রাফাল বিমান কেনার বিষয়ে আদালতে মামলা হয়েছিল। আদালত তো সরকারের হাতে নেই। আদালত বলুক কোথায় অনিয়ম হয়েছে।’
প্রসঙ্গত, ফ্রান্সের কাছ থেকে রাফাল বিমান, ইজরায়েলের কাছ থেকে ফোনে আড়িপাতার সফটওয়্যার পেগাসাস কেনা সংক্রান্ত মামলায় সুপ্রিম কোর্ট শেষ পর্যন্ত সরকারকে স্বস্তি দিয়েছে। নোটবন্দির সিদ্ধান্ত নিয়ে মামলাতেও সরকারের মুখরক্ষা হয়েছে আদালতে।
মোদী-আদানি সম্পর্ক নিয়ে বিরোধীদের প্রধান দাবি, সংসদের দুই কক্ষের সদস্যদের নিয়ে তদন্ত কমিটি গড়ুক সরকার। অথবা সুপ্রিম কোর্টের কোনও বিচারপতিকে মাথায় রেখে কমিটি গড়া হোক। সরকার দ্বিতীয় রাস্তায় হাঁটতে চলেছে। অর্থাৎ শীর্ষ আদালতের বিচারপতিকে মাথায় রেখে কমিটি গড়ার কথা বলেছে। তবে সেটা বিরোধীদের দাবি মেনে নয়। সুপ্রিম কোর্টে হওয়া মামলায় আদালতই এমন কমিটি গড়ার প্রস্তাব দিয়েছিল। তবে বিচারপতি মাথায় থাকলেও বাকি সদস্যদের সরকারই মনোনীত করতে চায়, এমনই আদালতে বলা হয়েছে সরকারের তরফে।
অমিত শাহ বলছেন, বিরোধীদের বক্তব্যে সরকার ভীত নয়। তাই যদি হবে তাহলে সংসদের যৌথ তদন্ত কমিটি গড়তে আপত্তি কেন। কমিটিতে তো বিজেপির সদস্যরাই সংখ্যাগরিষ্ঠ থাকবেন। বিরোধীদের বক্তব্য, আসলে সরকার ভয় পেয়েছে। সংসদের কমিটিকে দিয়ে তদন্ত করালে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আদানির বিশেষ সম্পর্ক ফাঁস হয়ে যাবে।
আদালতে ভার্চুয়াল শুনানি চলবে, বার্তা প্রধান বিচারপতির, কলকাতায় কি চলছে