সোমবার সন্ধ্যায় রাজনৈতিক দলগুলিকে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, মঙ্গলবার অর্থাৎ আজ বিকেল ৪টেয় ওই বৈঠক হবে সিইও-র দফতরে।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 28 October 2025 07:52
দ্য ওয়াল ব্যুরো: জাতীয় নির্বাচন কমিশনের (Election Commission) নির্দেশ মেনে আজ থেকেই পশ্চিমবঙ্গে শুরু হচ্ছে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (SIR West Bengal) কাজ। এই ঘোষণার পরই সর্বদল বৈঠক ডেকেছে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (CEO West Bengal) মনোজকুমার আগরওয়ালের দফতর। সোমবার সন্ধ্যায় রাজনৈতিক দলগুলিকে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, মঙ্গলবার অর্থাৎ আজ বিকেল ৪টেয় ওই বৈঠক হবে সিইও-র দফতরে।
সিইও দফতর জানিয়েছে, এই বৈঠকে মূলত জাতীয় নির্বাচন কমিশনের নির্দেশিকা বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করা হবে। এজন্য বিশেষ অনুবাদকদেরও নিযুক্ত করা হয়েছে, যাতে কমিশনের ব্যাখ্যা বাংলায় অনুবাদ করে রাজনৈতিক প্রতিনিধিদের সামনে উপস্থাপন করা যায়।
উল্লেখ্য, সোমবারই দিল্লির বিজ্ঞান ভবনে সাংবাদিক বৈঠক করে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমার এসআইআর-এর দ্বিতীয় পর্বের ঘোষণা করেন। প্রথম পর্ব হয়েছিল বিহারে, আর দ্বিতীয় পর্বে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে পশ্চিমবঙ্গ, তামিলনাড়ু, কেরল, উত্তরপ্রদেশ, রাজস্থান, ছত্তীসগড়, গোয়া, গুজরাত, মধ্যপ্রদেশ-সহ লাক্ষাদ্বীপ, পুদুচেরি ও আন্দামান-নিকোবরের মতো কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল।
নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, সোমবার রাত ১২টা থেকে এই ১২টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের ভোটার তালিকা ‘ফ্রিজ’ হয়ে গিয়েছে। অর্থাৎ, নতুন নাম অন্তর্ভুক্ত করা, সংশোধন বা পরিবর্তনের মতো কোনও কাজ আর করা যাবে না।
২৮ অক্টোবর থেকে শুরু হবে এনুমেরেশন ফর্ম (সংখ্যা যাচাই সংক্রান্ত ফর্ম) ছাপার কাজ এবং সেই দিনই বিএলওদের প্রশিক্ষণ শুরু হবে, যা চলবে ৩ নভেম্বর পর্যন্ত। পরের ধাপে ৪ নভেম্বর থেকে ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের হাতে এনুমেরেশন ফর্ম তুলে দেওয়া হবে। প্রবাসী বা রাজ্যের বাইরে থাকা নাগরিকরা অনলাইনেও ফর্ম পূরণ করতে পারবেন।
খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশিত হবে ৯ ডিসেম্বর। কেউ তালিকায় ভুল বা বাদ পড়া নাম নিয়ে অভিযোগ জানাতে পারবেন ৯ ডিসেম্বর থেকে ৮ জানুয়ারি পর্যন্ত। এরপর ৯ ডিসেম্বর থেকে ৩১ জানুয়ারির মধ্যে সেই অভিযোগ খতিয়ে দেখার প্রক্রিয়া চলবে। সবশেষে ৭ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত হবে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা।
বাংলায় এসআইআর নিয়ে পশ্চিমবঙ্গ তথা তৃণমূলের আপত্তি নিয়ে সোমবার কমিশনের সাংবাদিক বৈঠকেই প্রশ্ন উঠেছিল। তবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার কোনও চাপানউতোর বা বিতর্কে ঢুকতে চাননি। শুধু আইনের একটি ধারার কথা মনে করিয়ে দেন।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার বলেন, "পশ্চিমবঙ্গের ব্যাপারে প্রশ্ন নিয়ে একটা কথাই বলতে চাই— ভারতের সংবিধানের ৩২৪(৬) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি বা রাজ্যের রাজ্যপাল নির্বাচনের জন্য প্রয়োজনীয় কর্মী নির্বাচন কমিশনের কাছে সরবরাহ করতে বাধ্য। এই কর্মীরা নির্বাচন পরিচালনা, ভোটার তালিকা প্রস্তুত ইত্যাদি কাজে নিয়োজিত থাকেন। আবার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখার দায়িত্ব রয়েছে রাজ্য সরকারের। আমি মনে করি, পশ্চিমবঙ্গ সরকার সেই দায়বদ্ধতার কথা জানে, এবং তা পালন করবে।"