দ্য ওয়াল ব্যুরো: লকডাউন উঠলে কবে থেকে বিমান চলাচল শুরু হবে তা এখনও নিশ্চিত নয়। একই ভাবে ঠিক নয় বিমান সফরের সময়ে এবার কী ধরনের নিয়ম লাগু হবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, লকডাউন উঠে গেলেও এখনও অনেক দিন সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। সেই কথা মাথায় রেখেই বিমানের মাঝের আসন খালি রাখার কথা বলেছিল কেন্দ্র। কিন্তু তাতে রাজি নয় অনেক বিমান সংস্থাই। প্রশ্ন হচ্ছে, শুধু মাঝের আসন খালি রাখলেই কি প্রয়োজনীয় সামাজিক দূরত্ব রাখা যাবে? দ্বিতীয় যে প্রশ্ন উঠেছে, তাতে বলা হচ্ছে, কম যাত্রী তুললে বিমান সংস্থাগুলি লাভ করতে পারবে কি?
কিছুদিন আগেই কেন্দ্রের তরফে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল যে, মাঝের আসনগুলি খালি রাখা হোক। কিন্তু সেটা হলে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা রক্ষা তো হবেই না তার বদলে বিমান সংস্থাগুলি ক্ষতির মুখ দেখবে বলে দাবি উঠেছে। লকডাউনের ফলে এমনিতেই বিমান চলাচল বন্ধ থাকার জন্য ক্ষতির মুখ দেখছে সংস্থাগুলি। এর পরে কম যাত্রী নিয়ে বিমান চলাচল করলে আরও ক্ষতি হবে বলেই তাঁদের বক্তব্য।
বিমান সংস্থাগুলির বক্তব্য এর পরিবর্তে, এখন থেকে বিমানে সফরের সময়ে যাত্রী এবং কর্মীদের পার্সোন্যাল প্রোটেক্টিভ ইকুইপমেন্টের মতো স্যুট, গ্লাভস এবং মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করা হোক। কম খরচের বিমান সংস্থা স্পাইসজেটের ম্যানেজিং ডিরেক্টর বলেন, "মাঝের আসন খালি রাখলে যথেষ্ট নিরাপত্তা বজায় থাকবে না। জানলার পাশের আসন এবং ধারের আসনে যাত্রী বসলে পর্যাপ্ত দূরত্ব বজায় থাকবে না। বরং, মহামারীর ধাক্কায় ক্ষতিগ্রস্ত বিমান সংস্থাগুলি আরও ক্ষতির মুখে পড়বে।" তাঁর দাবি, এর চেয়ে সব যাত্রীর গ্লাভস ও মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করা বেশি কাজে দেবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দু'জন ব্যক্তির মধ্যে কমপক্ষে দু'মিটার দূরত্ব রাখা উচিত। সেটা শুধু মাঝের আসন খালি রাখলে সম্ভব নয়। একটা এ-৩২০ বিমানে যে জায়গা থাকে তাতে দু'টি জানলার পাশের আসনে যাত্রী বসলেই সেই দূরত্ব রাখা যাবে। অর্থাৎ, একটি রোতে ছ'জনের জায়গায় দু'জন যাত্রী নেওয়া যাবে। আবার একই সঙ্গে পিছনের দিকে দু'মিটারের দূরত্ব বজায় রাখতে হলে একটি অন্তর একটি রো খালি রাখতে হবে। এক ইন্ডিগো কর্তার বক্তব্য, এটা মানতে হলে সামান্য কিছু আসনে যাত্রী নিয়ে বিমান চালাতে হবে। এর জন্য ভাড়াও বাড়াতে হবে তিন গুণ। আর তাতে আবার যাত্রী পাওয়ায় সমস্যা হবে।
বিমান সংস্থাগুলির এই আপত্তির কথা শুনে এক সরকারি কর্তা অবশ্য বলেছেন, এতটা কম যাত্রী নিয়েও যেতে হবে না। চিন যে নীতি নিয়েছে তাতে প্রতি তিনটি আসনে একজন করে যাত্রী নেওয়া যাবে। এটা তো আর দীর্ঘদিন ধরে চলবে না। কিছু দিনের জন্য এই ক্ষতিটা মেনে নিতে হবে।
তবে এটাও ঠিক যে, শুধু মাঝের আসন খালি রাখলেই একটি ১৮০ আসনের বিমানে যাত্রী নেওয়া যাবে ৬০ জন। এমনিতেই ৯০ শতাংশ যাত্রী না হলে কম ভাড়ার বিমান সংস্থাগুলি বিশেষ লাভ করতে পারে না। হিসেব বলছে খরচ তুলতেই ৮০ শতাংশ আসন ভর্তি হওয়া দরকার পড়ে। তাই নতুন নিয়ম মেনে কম যাত্রী নিয়ে বিমান চালাতে হলে দিল্লি থেকে মুম্বইয়ের ভাড়া ৫ হাজারের জায়গায় কমপক্ষে ১০ হাজার টাকা করতে হবে। এত ভাড়া কি যাত্রীরা দেবেন? প্রশ্ন কম ভাড়ার বিমান সংস্থাগুলির।
বিভিন্ন বিমান সংস্থার কর্তারা বলছেন, এর পরিবর্তে তারা যাত্রীদের জন্য মাস্ক ও গ্লাভস দিতে পারেন। বিমানে খাবার পরিবেশনও করা হবে না। এর ফলে যাত্রীরা মাস্ক খুলবেন না।