
কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ও ডোনাল্ড ট্রাম্প।
শেষ আপডেট: 7 November 2024 20:28
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ওয়াকফ নিয়ে যৌথ সংসদীয় কমিটির সিদ্ধান্তের বিরোধিতায় বৃহস্পতিবার কলকাতা প্রেসক্লাবে ইন্ডিয়া জোটের তরফে সাংবাদিক বৈঠক ডেকেছিলেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানেই অযাচিতভাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থীর জয়ের প্রসঙ্গ টেনে কল্যাণ এদিন বলেন, "ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রমাণ করে দিয়েছেন রাজনীতিতে বয়স কোন ফ্যাক্টর নয়। কর্মদক্ষতা এবং মানুষের ভালবাসা থাকলে ৭৮ বছর বয়সেও ভোটে জিতে ক্ষমতায় আসা যায়।"
হঠাৎ কেন ট্রাম্পের বয়সের ব্যাপারটা কল্যাণের মাথায় এল?
কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বয়স এখন ৬৭। ৭৮ পৌঁছতে মেলা বাকি। তবে কি কল্যাণ বোঝাতে চাইলেন, তিনি লম্বা রেসের ঘোড়া? লোকসভায় এই তাঁর শেষ ইনিংস নয়?
তৃণমূলের নবীন-প্রবীণ বিতর্ক নতুন নয়। মাঝে মধ্যেই তা নিয়ে তোলপাড় হয়। এ বার লোকসভা ভোটের আগেও যেমন হয়েছিল। সত্তরোর্ধ্বদের লোকসভা ভোটে টিকিট দেওয়ার পক্ষে ছিলেন না অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। দলে সত্ত্বরোর্ধ্ব সাংসদ বলতে ছিলেন দু’জন। সৌগত রায় ও সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিষেকের আপত্তি থাকলেও শেষমেশ অবশ্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁদের প্রার্থী করেন। তবে অভিষেকও কম যান না। তিনি যা বলেন, তাতে অনড় থাকেন। রাজ্যের ৪২টি আসনের মধ্যে একমাত্র দমদম ও উত্তর কলকাতায় প্রচারে যাননি অভিষেক।
এখন প্রশ্ন হল, এ যাত্রায় হয়তো বেঁচে গিয়েছেন সৌগত বা সুদীপ, কিন্তু পরের ভোটে সত্তরোর্ধ্বরা কি আদৌ টিকিট পাবেন? কারণ, এক, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় একবার যে কথা বলেন, সেই অবস্থান থেকে সহসা নড়েন না। আর দুই, চব্বিশের লোকসভা ভোটে অভিষেকের মত ও অবস্থানের যতটা প্রভাব ছিল, আগামী পাঁচ বছরে তা বাড়বে বই কমার কথা নয়।
লোকসভা ভোটের মুখে গত বছরের ডিসেম্বরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অভিষেক বলেছিলেন, “সব পেশায়, যেমন বয়সের উর্ধ্বসীমা থাকে, তেমনই রাজনৈতিক দলেও থাকা উচিত। কারণ, বয়স বাড়লে মানুষের প্রোডাক্টিভিটি কমে যায়। তিরিশ চল্লিশ বছর বয়সে একটা মানুষ যতটা দৌড়ে কাজ করতে পারেন, সত্তর বছরে পৌঁছে তা করা যায় না।”
যার জবাবে সে সময় অভিষেকের নাম না করে সৌগত বলেছিলেন, “আমরা কেউ কারখানার শ্রমিক নই যে প্রোডাক্টিভিটি মাপা যাবে। আমাদের অবদান হল ইন্টালেকচুয়াল। তা এভাবে মাপা যায় না। সুতরাং নবীন-প্রবীণ বিতর্ক আসলে অসাড়।” সৌগত আরও বলেছিলেন, “আমি পদার্থবিদ্যার অধ্যাপক ছিলাম। তাই আইনস্টাইন বুঝি, আইসেনহাওয়ার বুঝি। আইনস্টাইনের বয়স হয়েছিল বলে কি তাঁকে বাদ দেওয়া হয়েছিল?”
তবে এ ব্যাপারে তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষের একটা মন্তব্য নিয়েও সোরগোল পড়েছিল। কুণাল বলেছিলেন, “দল আগের মতো নেই। অনেক বড় হয়েছে। অথচ এক শ্রেণির নেতা মনে করেন, তাঁরা দেহত্যাগ না করা পর্যন্ত পদত্যাগ করবেন না। আর তাঁর জেলায়, তাঁর লোকসভা বা বিধানসভা এলাকায় পরবর্তী প্রজন্মের পর প্রজন্মের কাজ হবে শুধু তাঁর হয়ে দেওয়াল লেখা। তাঁরা কোনওদিন বিধায়ক হবেন না, সাংসদ হবেন না, শুধু বৃদ্ধ সাংসদের জন্য দেওয়াল লিখে যাবেন”।
পর্যবেক্ষকদের অনেকের মতে, তৃণমূলে বৃদ্ধতন্ত্রের অবসান এখন সময়ের অপেক্ষামাত্র। আগামী কয়েক বছরের মধ্যে নবীনরাই সব গুরুত্বপূর্ণ পদ দখল করে নেবেন। কারণ, পারফরমেন্স ও কার্যকারিতার নিক্তিতে সব মাপা হলেই সেটাই অনিবার্য। আবার এও ঠিক, বৃদ্ধতন্ত্র শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তাঁদের দূর্গ আগলে রাখার চেষ্টা করবেন। কল্যাণ ও ট্রাম্পের আখ্যানের সীমিত তাৎপর্য এখানেই।