দ্য ওয়াল ব্যুরো : আগে বিহারের বিরোধী নেতা তেজস্বী যাদব যে বাংলোয় থাকতেন, সম্প্রতি তার দখল নিয়েছেন উপমুখ্যমন্ত্রী সুশীল মোদী। বাংলোর ভিতরে ঢুকে সুশীল মোদীর মনে হইয়েছিল, কোনও সেভেন স্টার হোটেলে ঢুকেছেন। জনগণের অর্থে এইভাবে রাজনীতিকদের বিলাসিতা করা উচিত নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন। তেজস্বী তার জবাবে বলেছেন, বিজেপি নেতারা যখন বাংলো ছেড়ে যান, তখন খুঁটিনাটি সবকিছুই নিয়ে যান। আমি তো তা করিনি।
তেজস্বী যাদবের সঙ্গে দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পরে সরকার বাংলোটি উদ্ধার করতে পারে। বাংলোর ভিতরে ঢুকে সুশীল মোদী দেখেন ইটালিয়ান টাইলস, উডেন ফ্লোরিং, লেদার সোফা এবং পুল টেবিল দিয়ে চারদিক সাজানো হয়েছে। ড্রয়িং রুম, ওয়াশ রুম ও অন্যত্র দামি জিনিসপত্রের ছড়াছড়ি। বাংলোর সাজসজ্জা কোনও সেভেন স্টার হোটেলের চেয়ে কোনও অংশেই কম নয়। তিনি জানতে পারেন, ২০১৬ সালে বাংলোটিকে ওইভাবে সাজানো হয়েছিল। তাতে খরচ হয়েছিল পাঁচ কোটি টাকার বেশি।
সুশীল মোদী বলেন, এমন বিলাসবহুল বাংলোয় থাকার ইচ্ছা তাঁর নেই। তিনি রাজেন্দ্র নগরে নিজেদের বাড়িতে থাকতেই পছন্দ করবেন। তাঁর বাড়িতে তিনটি ঘর আছে। সেখানে তাঁর মা-বাবাও থাকেন।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে তেজস্বী ওই বাংলো ছাড়তে বাধ্য হন। সুশীল মোদীর কথা শুনে তিনি ক্ষমা চাননি। উলটে বলেছেন, সুশীলজি আপনার কি মনে আছে, নীতীশ কুমার যখন আপনাদের মন্ত্রীদের বরখাস্ত করেছিলেন তখন কী হয়েছিল? আপনার দলীয় সহকর্মীরা বাংলোর খুঁটিনাটি জিনিসপত্র পর্যন্ত নিয়ে গিয়েছিলেন।
তেজস্বী আরও যুক্তি দেখিয়ে বলেন, আমি যদি গরিবের জন্য রাজনীতি করি তার মানে এই নয় যে কোনও সাজানো গোছানো বাংলোয় আমার থাকা চলবে না। আপনার বাবা ও ঠাকুরদারই কি কেবল ভালোভাবে থাকার অধিকার আছে? আমি বাংলোয় সব সময় চৌপল অর্থাৎ মিটিং করি। আমার বাড়ির দরজা সকলের জন্য খোলা থাকে।
সুশীল কুমার মোদীর বয়স নিয়েও কটাক্ষ করেন তেজস্বী। তিনি বলেন, সুশীলজি, আপনার সঙ্গে আমার বয়সের ব্যবধান অন্তত ৪০ বছর। কাজেই রুচি, স্টাইল, জীবনযাত্রা, সব আলাদা তো হবেই। আমি নতুন জেনারেশনের ছেলে। আমার চিন্তাভাবনা আপনার সঙ্গে মিলবে কেন? আমার ভাবনা বিহারকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। কিন্তু আপনার মতো লোক সব কিছু নিয়ে জটিলভাবে চিন্তা করেন। আপনাদের মন সংস্কারাচ্ছন্ন।