
শেষ আপডেট: 3 March 2023 07:49
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আফ্রিকা থেকে অবৈধভাবে নিজের এস্টেটে ৪টি জলহস্তী (hippopotamus) আনিয়েছিল কুখ্যাত মাদক-মাফিয়া পাবলো এস্কোবার (Pablo Escobar)। পুলিশের এনকাউন্টারে এস্কোবারের মৃত্যুর পর থেকে একপ্রকার 'অনাথ' হয়ে পড়েছিল সেগুলি। তবে অনাথ হলেও প্রজনন তো আর বন্ধ থাকেনি। তাই গত কয়েক বছরে জলহস্তীর সংখ্যা বাড়তে বাড়তে এমন জায়গায় গিয়ে পৌঁছেছে যে তাদের দৌরাত্ম্যে জেরবার কলম্বিয়া সরকার। এই পরিস্তিতিতে ৭০টি জলহস্তীকে ভারত এবং মেক্সিকোতে পাঠানোর পরিকল্পনা করছে সেদেশের সরকার।
কুখ্যাত এই ড্রাগ লর্ড নিজের বিলাসবহুল এস্টেট হ্যাসিয়েন্দা নেপলসে (Hacienda Napoles) এনে রেখেছিল জলহস্তীগুলিকে। কিন্তু ১৯৯৩ সালে তার মৃত্যুর পর সেগুলি শুধুমাত্র এস্কোবারের এস্টেটে আটকে থাকেনি, ছড়িয়ে পড়েছে দেশের বিভিন্ন রাজ্যে। স্থানীয় নদীগুলিতে গিয়ে থাকতে শুরু করে সেগুলি, এবং বিপুল সংখ্যায় বংশবৃদ্ধি করতে শুরু করে। শুধুমাত্র এন্টিওকুইয়া প্রদেশেই তাদের সংখ্যা বর্তমানে হয়ে দাঁড়িয়েছে ১৩৫টি। আগামী ৮ বছরে সেই সংখ্যা ৪০০ ছাড়িয়ে যাবে বলে অনুমান করা হচ্ছে।
বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, কলম্বিয়াতে জলহস্তীদের শিকার করে খাওয়ার মতো কোনও প্রাণী নেই। তাদের সংখ্যা বৃদ্ধি জীবনবৈচিত্রের জন্যও খুব একটা ভাল না, কারণ তাদের মল নদীর জলকে শুধু দূষিত করছে তাই-ই নয়, তা নদীর জলের গঠনও পাল্টে দিচ্ছে। গত বছর কলম্বিয়া সরকার জলহস্তীদের একটি বিষাক্ত আক্রমণকারী প্রজাতি বলে ঘোষণা করেছিল। এই পরিস্থিতিতে গত এক বছর ধরেই বেশ কিছু জলহস্তীকে ভারত সহ বিভিন্ন দেশে পাঠিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করছিল কলম্বিয়া।
সূত্রের খবর, খাবারের লোভ দেখিয়ে লোহার খাঁচায় ভরে আকাশপথে বিদেশে পাঠানো হবে প্রাণীগুলিকে। গুজরাতের গ্রিন্স জুলজিক্যাল রেসকিউ এন্ড রিহ্যাবিলিটেশন কিংডমে পাঠানো হবে ৬০টি জলহস্তীকে। বাকি ১০টি জলহস্তীকে পাঠানো হবে মেক্সিকোতে।
কলম্বিয়া সরকার জানিয়েছে, তাদের মূল লক্ষ্য হল হ্যাসিয়েন্দা নেপলস এস্টেটের বাইরে নদীতে থাকা জলহস্তীগুলিকে অন্যত্র পাঠানো। এস্টেটের ভিতরে থাকা প্রাণীগুলি যেহেতু নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে থাকে, তাই সেগুলি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার ক্ষেত্রে সমস্যা সৃষ্টি করছে না।
ভারত ছাড়াও ইকুয়েডর, ফিলিপিন্স এবং বতসওয়ানাও কয়েকটি জলহস্তীকে নিজেদের দেশে আনতে চেয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছে বলে জানিয়েছে কলম্বিয়া সরকার।
পথের পাঁচালীতে দ্রৌপদীর অবমাননা! হাস্যকর দাবিতে চলচ্চিত্র উৎসব বন্ধ করল ওড়িশা বিশ্ববিদ্যালয়