দ্য ওয়াল ব্যুরো: একেই বলে নিয়তি! ক্লাস বাঙ্ক করে পিকনিক করতে জলপ্রপাতের ধারে চলে গিয়েছিলেন চার কলেজ ছাত্রী। পাহাড় থেকে নেমে আসা জলস্রোত লাগাতার বৃষ্টিতে তখন খরস্রোতা। সামান্য অসতর্কতা, আর তাতেই জলের তোড় ভাসিয়ে নিয়ে গেল চার জনকে।
নভি মুম্বইয়ের খারগর টাউনে এই ঘটনা ঘটেছে শনিবার। পুলিশ জানিয়েছে, খারগরের পাণ্ডবকাড়া জলপ্রপাত বর্ষার সময় এমনিতেই ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠে। লাগাতার বৃষ্টিতে জেরে জলের তোড় আরও বেড়েছিল। পর্যটকদের জলপ্রপাতের ধারেকাছে যেতে মানা করা হয়েছিল। সব জেনেও ছবি তোলার টানে ক্লাস কেটে এই এলাকায় এসেছিল ছ'জন কলেজ পড়ুয়া। তাদের মধ্যে চার জন ছাত্রী তলিয়ে গেছে। তিন জনের দেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
ডিসিপি অশোক দুধে (নভি মুম্বই, জোন-২) জানিয়েছেন, ছ'জনের এই দলের সকলেরই বয়স ১৮ থেকে ১৯ বছরের মধ্যে। যে তিন জনের দেহ উদ্ধার হয়েছে তারা এসআইইএস কলেজ অব আর্টস, সায়েন্স অ্যান্ড কমার্সের ছাত্রী। কলেজের অধ্যাপক ও কর্তৃপক্ষেরা তাদের সনাক্ত করেছেন। নাম আরতি নায়ার, নেহা দামা ও শ্বেতা নন্দ। এখনও নিখোঁজ স্নেহা জৈন। সে কোন কলেজের ছাত্রী সেটা এখনও জানা যায়নি।
দলের বাকিরা জানিয়েছে, গতকাল বেলা ১১ টা নাগাদ প্রত্যেকেই তাদের কলেজের ক্লাস বাঙ্ক করে খারঘরে যাওয়ার পরিকল্পনা করে। সতর্কতার ব্যাপারটা জানলেও সাবধানেই ছবি তুলবে বলে তাদের মধ্যে চার জন এগিয়ে যায় জলপ্রপাতের খুব কাছে। আচমকাই জলের স্রোত ভাসিয়ে নিয়ে যায় তাদের। চোখের সামনে এমন ভয়াবহ ঘটনা দেখে পালিয়ে যায় বাকিরা। তারাই খবর দেয় কলেজে। পরে কলেজ থেকেই খবর যায় পুলিশ কাছে।
কলেজ প্রিন্সিপাল মিলিন্দ বৈদ্য বলেছেন, "বৃষ্টির জন্য কলেজ একটু আগেই শুরু হয়েছিল। সকাল সাড়ে ৭টা থেকে। তবে ওই তিন জন ছাত্রীকে আমি ক্লাসে দেখিনি। পরে পুলিশ ও সংবাদমাধ্যমের কাছ থেকে পুরো ব্যাপারটা জানতে পারি।"
মৃত ছাত্রীদের পরিবারের দাবি, খারঘরের ওই জলপ্রপাত খুবই বিপজ্জনক। ওই এলাকায় আগেও দুর্ঘটনা হয়েছে। তাই নিরাপত্তা রক্ষী মোতায়েন করা হয়েছে। নিষিদ্ধ এলাকা হিসেবে ওই জলপ্রপাত ও তার সংলগ্ন এলাকাকে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাহলে কী ভাবে মেয়েরা সেখানে গিয়ে পৌঁছল। নিরাপত্তা রক্ষীরা কোথায় ছিলেন? পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।