দ্য ওয়াল ব্যুরো : অভিযোগ, উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের ভাবমূর্তি কলঙ্কিত করতে চেয়েছিলেন দিল্লির সাংবাদিক প্রশান্ত কানোজিয়া। গত শুক্রবার তিনি গ্রেফতার হয়েছেন। এই নিয়ে প্রতিবাদ শুরু হয়েছে নানা মহলে। তার মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হলেন সাংবাদিকের স্ত্রী। তাঁর দাবি, আইনি নির্দেশিকা মেনে প্রশান্তকে গ্রেফতার করা হয়নি। এই গ্রেফতার অবৈধ।
সাংবাদিকের স্ত্রীর আইনজীবী সুপ্রিম কোর্টে বলেন, কাউকে না জানিয়ে প্রশান্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। উত্তরপ্রদেশ পুলিশ বেআইনি কাজ করেছে। সুপ্রিম কোর্টে সোমবারই এই মামলার শুনানি হোক। যদিও সুপ্রিম কোর্ট সিদ্ধান্ত নিয়েছে, শুনানি হবে মঙ্গলবার।
গত শুক্রবার উত্তরপ্রদেশ পুলিশ মোট তিনজন সাংবাদিককে গ্রেফতার করে। তাঁরা হলেন প্রশান্ত কানোজিয়া, ঈশিতা সিং ও অনুজ শুক্লা। তাঁদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, যোগী আদিত্যনাথের মানহানি করেছেন। ধৃতদের মধ্যে প্রশান্ত ছিলেন ফ্রিলান্স সাংবাদিক। টুইটারে যোগীর বিরুদ্ধে 'আপত্তিকর' কিছু পোস্ট করার জন্য তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। অন্য দিকে ঈশিতা সিং ও অনুজ শুক্লার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, তাঁরা এক বেসরকারি টিভি চ্যানেলে যোগীর বিরুদ্ধে আপত্তিকর খবর সম্প্রচার করেছেন।
এডিটরস গিল্ড ওব ইন্ডিয়া থেকে বলা হয়েছে, পুলিশ বাড়াবাড়ি করছে। আইনের অপব্যবহার করা হয়েছে। গিল্ডের বিবৃতিতে বলা হয়, প্রেসকে ভয় দেখানোর চেষ্টা হচ্ছে। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা খর্ব করা হচ্ছে। তাদের দাবি, মানহানি আইনটাই পরিবর্তন করা হোক।
নেটওয়ার্ক অব উইমেন ইন মিডিয়া নামে এক সংগঠনও তিন সাংবাদিকের পক্ষ নিয়ে বলেছে, তাঁদের অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে। তাদের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সপ্তাহের শেষে, যখন আদালত বন্ধ, তখনই তিনজনকে তুলে এনেছে পুলিশ। এর ফলে তাঁদের জামিন পেতে সমস্যা হচ্ছে। পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে, পুলিশের উদ্দেশ্য ছিল ধৃতদের হেনস্থা করা। তারা চেষ্টা করেছিল যাতে অভিযুক্তরা ন্যায়বিচার না পায়।
বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠন, যথা ইন্ডিয়ান উইমেনস প্রেস কোর, প্রেস ক্লাব অব ইন্ডিয়া, সাউথ এশিয়ান উইমেন ইন মিডিয়া এবং প্রেস অ্যাসোসিয়েশান থেকে তিন সাংবাদিককে গ্রেফতারের নিন্দা করে বলা হয়েছে, প্রশাসন বাড়াবাড়ি করছে। আমরা মনে করি, সাংবাদিকদের দায়িত্বশীল হতে হবে। একইসঙ্গে আমরা মনে করি, মানহানি সংক্রান্ত আইন থেকে ফৌজদারী ধারাগুলি বাদ দেওয়া উচিত।