দ্য ওয়াল ব্যুরো : কমবয়সী মহিলাদের শবরীমালা মন্দিরে ঢোকা নিয়ে কিছুদিন আগেই ব্যাপক অশান্তি হয়েছিল কেরলে। তাতে প্রাণও গিয়েছে একজনের। এর মধ্যে ৩৬ বছর বয়সী এক মহিলা দাবি করলেন, তিনি ঢুকেছিলেন শবরীমালা মন্দিরে। ‘রেনেসাঁস কেরল টুওয়ার্ডস শবরীমালা’ এক সংগঠন এই দাবির সমর্থনে ফেসবুকে কয়েকটি ভিডিও এবং স্টিল ফটো পোস্ট করেছে। তাতে দেখা যাচ্ছে মহিলার চুলের রং সাদা। তাঁকে বেশ বয়স্ক মনে হচ্ছে। তিনি চুলে রং করে বৃদ্ধা সেজেছেন যাতে ভক্তরা বাধা না দেয়।
যে মহিলা ছদ্মবেশে শবরীমালা মন্দিরে ঢুকেছিলেন বলে দাবি করেছেন, তাঁর নাম মঞ্জু। একটি ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, মঞ্জু বলছেন, গত ৮ জানুয়ারি শবরীমালা মন্দিরে প্রবেশ করেছিলাম। আমি ত্রিচুর থেকে বাসে মন্দির অবধি গিয়েছিলাম। পথে কোনও বাধার মুখে পড়িনি। কমবয়সী হওয়া সত্ত্বেও মন্দিরে ঢুকছি বলে কেউ আপত্তি করেনি। মন্দিরের মধ্যে প্রায় দু’ঘণ্টা ছিলাম। প্রথামতো দেবতার পূজা করেছি।
একটি সূত্রের খবর, মঞ্জু মন্দিরে ঢোকার জন্য পুলিশের সাহায্য চাননি। তিনি গত অক্টোবরেও মন্দিরে ঢুকতে চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু পম্বায় পৌঁছনোর পরে পুলিশ তাঁকে বলে, এখন প্রবল বৃষ্টি হচ্ছে। এর মধ্যে মন্দিরে না যাওয়াই ভালো। তিনি তখন ফিরে আসতে বাধ্য হন।
দীর্ঘকাল ধরে শবরীমালা মন্দিরে ১০ থেকে ৫০ বছর বয়সী মহিলাদের প্রবেশ নিষিদ্ধ। গতবছর সুপ্রিম কোর্ট রায় দেয়, ওই নিষেধাজ্ঞা অসাংবিধানিক। তারপরেই একাধিক মহিলা মন্দিরে ঢুকতে চেষ্টা করেন। প্রথমে ভক্তদের বাধায় পিছিয়ে এলেও পরবর্তীকালে কয়েকজন মহিলা মন্দিরে ঢুকেছেন বলে জানা যায়।
সম্প্রতি রাজ্য সরকারকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, ঠিক কতজন মহিলা ওই মন্দিরে ঢুকেছেন? মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন বলেন, নির্দিষ্ট সংখ্যা আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে দেখব। একটি রিপোর্টে জানা যায়, চলতি বছরে এখনও পর্যন্ত ১০ জন মহিলা মন্দিরে ঢুকেছেন। বিজয়ন এসম্পর্কে মন্তব্য করতে অস্বীকার করেন। প্রথম যে দুই মহিলা মন্দিরে ঢুকেছিলেন, তাঁদের নাম বিন্দু ও কনক দুর্গা। তাঁদের বয়স ৪০-এর কোটার শুরুর দিকে। এখনও তাঁরা আত্মগোপন করে আছেন।
বিন্দু এক সাক্ষাৎকারে বলেন, আমি সাংবিধানিক অধিকারে বিশ্বাস করি। মহিলা হিসাবে নিজের অধিকার প্রয়োগ করে আমি শবরীমালা মন্দিরে ঢুকেছিলাম। কনক দুর্গা বলেন, আমার পরিবার মন্দিরে ঢোকার বিরোধী ছিল। কিন্তু আমি আয়াপ্পান দেবতার ভক্ত। আমরা দু’জন মন্দিরে ঢুকে অন্য কমবয়সী মেয়েদের ঢোকা সহজ করে দিয়েছি।