দ্য ওয়াল ব্যুরো : টুলকিট মামলায় বেঙ্গালুরু থেকে গ্রেফতার হয়েছেন পরিবেশকর্মী দিশা রবি। তাঁর আরও দুই সঙ্গীকে খুঁজছে পুলিশ। অভিযোগ, প্রজাতন্ত্র দিবসের আগে তাঁরা তিনজন জুমে মিটিং করেছিলেন। তাঁরা চাইছিলেন, কৃষকদের ট্র্যাক্টর মিছিলের কথা ব্যাপকভাবে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ুক। সোমবার পুলিশ সাংবাদিকদের একথা জানায়।
দিশা রবি গ্রেফতার হওয়ার পরে নানা মহল থেকে দিল্লি পুলিশের কড়া সমালোচনা হয়। ওই মামলায় অপর দুই অভিযুক্ত হলেন নিকিতা জ্যাকব ও শান্তনু মুলুক। নিকিতা জ্যাকব ইতিমধ্যে বম্বে হাইকোর্টে আর্জি জানিয়েছেন যাতে তাঁকে চার সপ্তাহ গ্রেফতার না করা হয়।
পুলিশ এদিন জানায়, পুনিত নামে এক কানাডাবাসী মহিলা দিশা রবি, নিকিতা জ্যাকব ও শান্তনুর সঙ্গে পোয়েটিক জাস্টিস নামে একটি সংগঠনের পরিচয় করিয়ে দেয়। ১১ জানুয়ারি তাঁরা জুম কলের মাধ্যমে বৈঠক করেন। পুলিশের বক্তব্য, দিশা রবির মোবাইল থেকে যথেষ্ট আপত্তিকর তথ্যপ্রমাণ পাওয়া গিয়েছে। দিশা, নিকিতা ও শান্তনু যৌথভাবে টুলকিট তৈরি করেছিলেন। ওই টুলকিট তাঁরা অন্যদের সঙ্গে শেয়ার করেন। শান্তনুর ই-মেল অ্যা কাউন্ট টুলকিট গুগল ডক-এর মালিক।
রবিবার দিশাকে দিল্লির একটি আদালতে পেশ করা হয়। তাঁর হয়ে লড়ার জন্য কোনও আইনজীবী পাওয়া যায়নি। আদালতে দাঁড়িয়ে দিশা জানান, তিনি ওই টুলকিট তৈরি করেননি। তিনি শুধুমাত্র কৃষক আন্দোলনের সমর্থনে নিজের মত রাখতে গিয়ে ওই টুলকিট ব্যবহার করেছিলেন। টুলকিটের দু-তিনটে লাইন তিনি এডিট করেছিলেন বলেই জানিয়েছেন।
এই ঘটনার তীব্র প্রতিক্রিয়া এসেছে বিরোধীদের কাছ থেকে। কংগ্রেসের জয়রাম রমেশ, পি চিদম্বরম, শশী থারুর, শিবসেনার প্রিয়ঙ্কা চতুর্বেদি, সিপিএমের সীতারাম ইয়েচুরি প্রমুখ নিজেদের ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। তাঁদের অভিযোগ, নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে এই সমস্ত কাজ করছে নরেন্দ্র মোদী সরকার। যাঁরা সমাজের কাজ করছেন, যাঁরা সত্যি বলার চেষ্টা করছেন, তাঁদের আওয়াজ দমিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। আগামী দিনে যাতে কেউ আর সরকার বিরোধী মন্তব্য না করতে পারে তার জন্য আগে থেকেই ভয় দেখিয়ে রাখা হচ্ছে। দেশের গণতন্ত্রকে নষ্ট করার চেষ্টা মোদী সরকার করছে বলেই তাঁদের অভিযোগ। শুধু রাজনীতিবিদরাই নন, সমাজকর্মী, শিল্পী, কবি ও সমাজের নানা স্তর থেকে প্রতিবাদ হয়েছে এই ঘটনার।
বেঙ্গালুরুতে ‘ফ্রাইডে ফর ফিউচার’ নামের একটি ক্যাম্পেন চালান দিশা। তিনি বেঙ্গালুরুর মাউন্ট কারমেল কলেজের ছাত্রী। তাঁর গ্রেফতারির পরে দিল্লি পুলিশের স্পেশ্যাল ফোর্সের কমিশনার প্রবীর রঞ্জন বলেছিলেন, “২৬ জানুয়ারির ঘটনা বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে আগে থেকেই এর পরিকল্পনা হয়েছিল। ভারতের বিরুদ্ধে আর্থিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক লড়াইয়ের আহ্বান করা হয়েছিল ওই টুলকিটে। সরকারের বিরুদ্ধে চক্রান্ত ও ধর্মে ধর্মে বিভেদ সৃষ্টি করার অভিযোগে আমরা আগেই মামলা দায়ের করেছিলাম।”