
অন্নপূর্ণা মন্দির, প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 26 November 2024 16:47
প্রতীতি ঘোষ
বাধার পাহাড় পেরিয়ে দক্ষিণেশ্বরের ভবতারিণী মন্দির তৈরি করেছিলেন রানি রাসমণি। শ্রী রামকৃষ্ণ ও সারদামায়ের পদস্পর্শে ধন্য এই মন্দিরের মাটি। আজও এই মন্দিরের আকর্ষণে দেশবিদেশ থেকে ছুটে আসেন মানুষ।
ব্য়ারাকপুরের গান্ধীঘাটের কাছেই আছে এমনই আরেকটি মন্দির। শিবশক্তি অন্নপূর্ণা মন্দির। দেখলে মনে হবে দক্ষিণেশ্বরের ভবতারিণী মন্দিরের রেপ্লিকা যেন। জানেন এই মন্দিরটি কে তৈরি করেছিলেন? রানি রাসমণিরই ছোট মেয়ে জগদম্বা। তাঁর স্বামী মথুরামোহন বিশ্বাস ছিলেন শ্রীরামকৃষ্ণদেবের অত্যন্ত স্নেহভাজন।
কথিত, দেবী অন্নপূর্ণার স্বপ্নাদেশ পেয়েছিলেন জগদম্বা। তারপরেই মন্দির গড়ার সিদ্ধান্ত নেন। পাশে পেয়েছিলেন স্বামী মথুরবাবুকে। কিন্তু জমি খুঁজতে গিয়ে হয়রান হতে হয়। কারণ গঙ্গার ধারে মনমতো জমি মিলছিল না কিছুতেই। শেষমেষ ব্যারাকপুরের গান্ধীঘাটের কাছে জমির সন্ধান মেলে। কিন্তু সেই পর্বটিও মোটেই সহজ হয়নি। ওই জমিতে নাকি ছিল এক সাহেবের বাগানবাড়ি। স্ত্রীকে গুলি করে মেরে আত্মঘাতী হয়েছিলেন তিনি। তারপর থেকেই সেখানে ভারী ভূতের উপদ্রব। এদিকে গঙ্গার দারে সে জমি ভারী পছন্দ হয় জগদম্বার।
জগদম্বাদেবীর বংশধর অজয়কুমার বিশ্বাস জানান, জমি পছন্দ হলেও সেখানে ভূতের উপদ্রব জানতে পেরে রামকৃষ্ণদেব স্বয়ং গিয়ে সেখানে পুজো করেন। জমির সমস্ত কালিমা দূর হওয়ার পর শুরু হয় মন্দির তৈরির কাজ। দক্ষিণশ্বরে মন্দির যাঁরা তৈরি করেছিলেন তাঁদের হাতেই শুরু হয় অন্নপূর্ণা মন্দির নির্মাণ। মন্দির প্রতিষ্ঠা হয় ১৮৭৫ সালে।
জনশ্রুতি রয়েছে, দেবী অন্নপূর্ণা রোজ রাতে এই মন্দির থেকে ঘুরে বেড়ান। স্থানীয়রা অনেকেই সোনার অলংকারে ভূষিতা এক নারীকে মন্দির থেকে বেরিয়ে গঙ্গায় মিলিয়ে যেতে দেখেছেন। অজয়বাবু জানান,দেবী অন্নপূর্ণা জমিদার বাড়ির মেয়ে হিসেবে পূজিতা হন এই মন্দিরে। তাই মাছ দিয়ে প্রতিদিন ভোগ নিবেদন করা হয় দেবীকে।
সময় এগিয়েছে। বদলেছে আশপাশের অনেক কিছু। কিন্তু জগদম্বার সময়কার রীতি ও প্রথা থমকে গিয়েছে আজকের অন্নপূর্ণা মন্দিরে।