‘ছুটে পালাতে পারল না, গুলি ফুঁড়ে দিল শরীর’, হান্দওয়ারায় সেনা-জঙ্গি লড়াইয়ের মাঝে মৃত প্রতিবন্ধী কিশোর
দ্য ওয়াল ব্যুরো: তখন দুপুর। উত্তর কাশ্মীরের খাইপোরা গ্রাম তখন আসন্ন বিপদের কথা জানে না। কুপওয়ারা জেলার হান্দওয়ারা তেহসিলেরই ছোট্ট গ্রাম খাইপোরা। দুপুরে গ্রামেরই একটি আপেল বাগানে তখন ডজন খানেক বাচ্চার জটলা। আচমকাই কান ফাটানো গুলির আওয়াজ। সেই
শেষ আপডেট: 4 May 2020 18:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: তখন দুপুর। উত্তর কাশ্মীরের খাইপোরা গ্রাম তখন আসন্ন বিপদের কথা জানে না। কুপওয়ারা জেলার হান্দওয়ারা তেহসিলেরই ছোট্ট গ্রাম খাইপোরা। দুপুরে গ্রামেরই একটি আপেল বাগানে তখন ডজন খানেক বাচ্চার জটলা। আচমকাই কান ফাটানো গুলির আওয়াজ। সেই সঙ্গে সিআরপিএফ জওয়ানদের ছুটোছুটি। এমন পরিস্থিতির সঙ্গে পরিচিত কাশ্মীরের শিশুরাও। বিপদ আঁচ করে নিমেষেই ফাঁকা হয়ে গেল বাগান। কিন্তু পালাতে পারল না একজন। জটিল স্নায়বিক রোগে আক্রান্ত কিশোর যতক্ষণে পরিস্থিতি বুঝে পালানোর চেষ্টা করে, ততক্ষণে দুরন্ত গতিতে ছুটে আসা বুলেট এফোঁড় ওফোঁড় করে দিয়েছে তার শরীর।
১৫ বছরের হাজিম ভাট। হান্দওয়ারা এনকাউন্টারে সেনা-জঙ্গির গুলির লড়াইয়ে প্রাণ গিয়েছে এই কিশোরেরও। মঙ্গলবার বারামুলায় হাজিমের দেহ সমাহিত করা হয়। “ঠিকমতো চলাফেরা করতে পারত না। শারীরিক প্রতিবন্ধকতাই ওর মৃত্যু কারণ হল। গুলি চলতে দেখেও তাড়াতাড়ি পালাতে পারল না ছেলেটা”, হাহাকার পরিবারের।
জটিল স্নায়বিক রোগ বাসা বেঁধেছিল কিশোরের শরীরে, জানিয়েছে পরিবার। তবে গত কয়েকবছরে চিকিৎসায় একটু একটু করে সেরেও উঠছিল হাজিম। চার ভাইবোনের মধ্যে সেই বড়। পাঁচ, নয় ও বারো বছরের আরও তিন বোন রয়েছে হাজিমের। পড়াশোনায় বরাবরই ভাল ছিল কিশোর। পরিবার জানিয়েছে, স্কুলের মেধাবী ছাত্রদের মধ্যে সে ছিল একজন। প্রতিবন্ধকতা শরীরকে দুর্বল করলেও, মেধা ছিল তুখোড়। লকডাউনে বাড়িতে আটকে থাকা খুব একটা পছন্দ ছিল না হাজিমের। সেদিন কিছুক্ষণের জন্য বন্ধুদের সঙ্গে খেলতে যাওয়ার অনুমতি পেয়েছিল। তাড়াতাড়িই ফিরে আসবে বলেছিল, কিন্তু ফেরা আর হল না।
হাজিমের পরিবার জানিয়েছে, ঘটনার দিন বেলা ২টো নাগাদ বাড়ি থেকে বেরিয়েছিল সে। বিকেলের আগেই ফিরবে বলেছিল। এদিকে সেদিন দুপুর থেকেই অশান্ত হয়ে উঠেছিল হান্দওয়ারা। প্রথম সিআরপিএফ জওয়ানদের লক্ষ্য করে গুলি চালাতে শুরু করে লস্কর জঙ্গিরা। পাল্টা জবাব দেয় সেনাও। কিন্তু জঙ্গিরা গুলি চালাতে চালাতেই রাজওয়ারার জঙ্গলে গা ঢাকা দেয়। তাদের ধরতে পরে নামানো হয় কম্যান্ডো। পুলিশ জানিয়েছে, এই গুলির লড়াইয়ের মাঝেই পড়ে যায় কিশোর হাজিম। বাকিরা পালাতে পারলেও সে পারেনি।
“আমরা দুপুরে বাড়ি ছিলাম না। বিকেলে বাড়ি ফিরে ইফতারের প্রস্তুতি শুরু করি। হাজিম বলেছিল বিকেলের আগেই ফিরে আসবে। কিন্তু সন্ধে অবধি না ফেরায় আমরা পুলিশকে জানাই। ওই দিন রাতেই আপেল বাগানের বাইরে ছেলের গুলিবিদ্ধ দেহটা উদ্ধার হয়”, বলেছেন সন্তানহারা বাবা শফি ভাট। জানিয়েছেন, রাস্তায় দীর্ঘক্ষণ পড়ে ছিল হাজিমের দেহ। পাশেই পড়েছিল আরও একজনের দেহ। সন্ধের পরে উদ্ধার করে পুলিশ। শফির কথায়, পুলিশ জানিয়েছে আরও একজনকে শনাক্ত করছে পুলিশ। জঙ্গি না স্থানীয় লোক সেটা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
“হাজিম বিশ্বাস করত সে একদিন আবার দৌড়োদৌড়ি করতে পারবে। আমার মনে হয় ও ভেবেছিল ছুটে বাড়ি ফিরতে পারবে, কিন্তু পারল না। ওরা আমাদের থেকে কেড়ে নিল মিষ্টি ছেলেটাকে”, মন ভারাক্রান্ত হাজিমের প্রতিবেশীদেরও।