দ্য ওয়াল ব্যুরো: সেফটি পিন, পেরেক, চুলের কাঁটা থেকে ব্রেসলেট, মঙ্গলসূত্র— পাকস্থলীর ভিতর ঠাসা এই সব জিনিস দেখে চিকিৎসকদের চোখ তো কপালে। এ কী করেছেন মহিলা? খাদ্যনালী দিয়ে গলে পাকস্থলীতে জমা হয়েছে সোনা, রুপো, লোহার নানা সামগ্রী। সব মিলিয়ে ওজন প্রায় দেড় কিলোগ্রাম। ফলে গোটা পাকস্থলীটাই জমে পাথর হয়ে গেছে।
আমদাবাদের সিভিক হসপিটালে ঘণ্টাখানেকের অস্ত্রোপচারে মহিলার পাকস্থলী খালি করে হাঁফ ছেড়ে বেঁচেছেন চিকিৎসকরা। মধ্য চল্লিশের মহিলার নাম সঙ্গীতা। মানসিক রোগে আক্রান্ত সঙ্গীতা দীর্ঘদিন ভর্তি ছিলেন আমদাবাদের একটি সরকারি হাসপাতালে। পরে তাঁকে নিয়ে আসা হয় সিভিক হসপিটালে। সেখানেই মানসিক রোগের চিকিৎসা চলছিল তাঁর।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, দিনকয়েক ধরেই সঙ্গীতার পেটে ব্যথা হচ্ছিল। সেই সঙ্গে শ্বাসকষ্ট। কোনও কিছু খেলেই বমি হয়ে যাচ্ছিল তাঁর। পেট রীতিমতো ফুলে উঠেছিল। ডঃ নিতিন পারমার জানিয়েছেন, এক্স-রে করে দেখা যায় তাঁর পাকস্থলীতে একটা শক্ত মণ্ড তৈরি হয়েছে। ফুসফুসের মধ্যে আটকে রয়েছে কয়েকটি সেফটি পিন। ডাক্তারের কথায়, “সঙ্গীতার পাকস্থলী ও ফুসফুসের অবস্থা দেখে আমরা চমকে উঠি। পাকস্থলী ভর্তি ছিল নানা ধাতব জিনিসে। একটি পেরেক তাঁর পাকস্থলীর ফুঁড়ে খানিকটা বেরিয়েছিল। সেখান থেকে রক্তক্ষরণ হচ্ছিল। তড়িঘড়ি অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নিই আমরা।”

তৈরি হয় মেডিক্যাল টিম। ডঃ পারমারের সঙ্গে টিমে ছিলেন ডঃ গজেন্দ্র, ডঃ লোমেশ ও ডঃ শশাঙ্ক। পারমারের কথায়, আড়াই ঘণ্টার জটিল অস্ত্রোপচারের পর বার হয় ওই সব ধাতব জিনিস। সেফটি পিন, নানা রকম চুলের কাঁটা, পেরেক, ব্রেসলেট, কানের দুল, মঙ্গলসূত্র, রুপোর চেন-সহ নানা জিনিস গিলেছিলেন সঙ্গীতা। পারমার জানিয়েছেন, ধাতব জিনিস গিলে ফেলা একরকম মানসিক রোগ, একে বলা হয় ‘অ্যাকুফ্যাগিয়া’ (Acuphagia)। অনেক মানসিক রোগীর মধ্যেই এই প্রবণতা দেখা যায়। মাসের পর মাস ধরে একটু একটু করে তারা এই সব জিনিস খেতে থাকে। সঙ্গীতাও সেটাই করছিলেন।
মহারাষ্ট্রের সিরডির বাসিন্দা সঙ্গীতা। মানসিক রোগ ধরা পড়ে যখন তাঁর বছর ত্রিশ বয়স। বাড়ি থেকে বেরিয়ে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়াতেন তিনি। কোনওভাবে চলে আসেন আমদাবাদে। পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করে দেয়। সেখান থেকে স্থানান্তরিত করা হয় সিভিক হসপিটালে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, অস্ত্রোপচারের পর মহিলার অবস্থা এখন স্থিতিশীল। মহারাষ্ট্রে তাঁর এক ভাই রয়েছে। সেখানে তাঁকে পাঠিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা হচ্ছে। আপাতত ২৪ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে তাঁকে। কোনও রকম ধাতব জিনিস যাতে তাঁর সংস্পর্শে না আসে সেদিকে কড়া নজর রাখা হচ্ছে।