
শেষ আপডেট: 9 October 2023 15:37
দ্য ওয়াল ব্যুরো: একশো দিনের কাজ নিয়ে রাজ্য-কেন্দ্র তরজার পারদ ক্রমশ চড়ছে। ইতিমধ্যেই একশো দিনের কাজ এবং আবাস যোজনার টাকার দাবিতে গত ৫ দিন ধরে রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করার জন্য রাজভবনের উত্তর গেটের সামনে মঞ্চ বেঁধে ধর্নায় বসেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সহ তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। উত্তরবঙ্গ থেকে ফেরার পর আজ সোমবার বিকেলে রাজ্যপাল তৃণমূলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলবেন বলে জানিয়েছেন। তার মধ্যে এই সংক্রান্ত একটি মামলায় কলকাতা হাইকোর্টের তোপের মুখে পড়ল কেন্দ্র।
এদিন কেন্দ্রের তরফে দাবি করা হয়েছে, ২০২১-২০২২ সালে রাজ্য খরচের কোনও নথি দেয়নি কেন্দ্রকে। সেই কারণেই তার পর থেকে রাজ্য সরকারকে তহবিল দেওয়া বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রের আইনজীবী বিল্বদল ভট্টাচার্য। তারপরেই কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ প্রশ্ন তোলে, রাজ্য যে কেন্দ্রের টাকা নয়ছয় করেছে, রাস্তা তৈরি করেনি, ব্রিজ তৈরি করেনি, খালি টাকা নিয়ে দুর্নীতি করেছে, তার সপক্ষে প্রমাণ কই?
'রাজ্য একটা কমল্পায়েন্স রিপোর্ট দিয়েছে। সেটা খতিয়ে দেখার ব্যবস্থা আছে আপনাদের?' কেন্দ্রকে প্রশ্ন করেন প্রধান বিচারপতি। তার জবাবে কেন্দ্রের অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল অশোক চক্রবর্তী জানান, রাজ্যজুড়ে প্রচুর ভুয়ো জব কার্ড পাওয়া যাওয়ার পর কেন্দ্র ফাণ্ড বন্ধ করেছে।একটা ট্রেড ইউনিয়ন (খেতমজুর) জনস্বার্থ মামলা দায়ের করে এইভাবে ফান্ড রিলিজ করার দাবি জানাতে পারে কি, পাল্টা প্রশ্ন তোলেন তিনি।
এতে মামলাকরীদের আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য জানান, অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেলের বক্তব্যের কোনও ভিত্তি নেই। 'যারা মামলা করেছে তারা খেতমজুর, এটা রুটিরুজির বিষয়। তাদের দাবি নিয়ে কারা মামলা করবে? এরা বেঁচে থাকবে কীভাবে? রাজ্য কেন্দ্র দেখুক, যাতে এরা না দুর্ভোগের শিকার হয়,' জানান তিনি।
জবাবে অশোক চক্রবর্তীর দাবি, রাজ্য আগে খতিয়ে দেখুক যাদের জব কার্ড দেওয়া হয়েছে সেগুলো ভুয়ো কিনা।
তখনই প্রশ্ন তোলেন প্রধান বিচারপতি টিএস শিবজ্ঞানম। 'এক হাজার লোক যদি জেনুইন হয় তাহলে তাদের টাকা বন্ধ থাকবে কেন?' জানতে চান তিনি।
তাঁর প্রশ্নের জবাবে অশোক চক্রবর্তী জানান, গত ৬ জুন প্রধান বিচারপতি নির্দেশ দেওয়ার পর কেন্দ্র চিঠি দিয়ে জানিয়েছে, তারা টাকা দিয়ে দিয়েছে। প্রত্যুত্তরে বিচারপতি বলেন, শ্রমিকদের টাকা দেওয়া যেমন রাজ্যের দায়িত্ব, কেন্দ্রের দায়িত্ব ফান্ড দেওয়া। এটা শুধু রাজ্যের দায়িত্ব নয়।
আগামীকাল এই মামলার পরবর্তী শুনানি রয়েছে।