দ্য ওয়াল ব্যুরো: ফতোয়া বলে ফতোয়া। একেবারে মধ্যযুগীয় ফতোয়া। দিনের আলোয় নাইটি পরে রাস্তায় বার হয়েছিলেন এক মহিলা। রে রে করে ছুটে এলেন গ্রামের মাতব্বরেরা। ফরমান জারি হল দিনের বেলা এত পুরুষের চোখের সামনে রাত পোশাক? নৈব নৈব চ। নাইটি পরতে হবে রাতেই। দিনে পরলেই জরিমানা। কড়কড়ে দু'হাজার টাকা।
এমন ফরমান কস্মিনকালেও যাঁরা শোনেননি, তাঁদের জন্য জানিয়ে রাখা ভাল এই ঘটনা গত ছ'মাস ধরে ঘটে চলেছে অন্ধ্রপ্রদেশের পশ্চিম গোদাবরী জেলার তোকালাপল্লি গ্রামে। গ্রামেরই এক মহিলা নিদামারু মণ্ডল প্রথম এই ফতোয়ার শিকার। ধীরে ধীরে গ্রামের সব মহিলার উপরই লাগু হয় এই ফতোয়া। ভিতরে রাগে ফুঁসলেও মোড়ল ও মাতব্বরদের রক্তচক্ষুর সামনে টুঁ শব্দটি করেননি কেউ।
এমন ফতোয়া তাই বেশ নির্বিঘ্নেই চলছিল গ্রামের ঘরে ঘরে। পুলিশের কানেও যে পৌঁছয়নি এমনটা নয়। নিছক কৌতুহল বশেই গ্রামে টহল দিতে এসে এই ফতোয়ার সত্যতার কথা জানতে পারেন দুই পুলিশ অফিসার এম সুন্দররাজু ও এম বিজয় কুমার। গ্রামবাসীরা পুলিশকে জানান, বর্ষীয়াণ গ্রামের মাতব্বর ও মোড়লের যুক্তি, নাইটি হল রাত পোশাক। দিনের বেলা ঢলঢলে ওই পোশাক নাকি মহিলাদের জন্য অশোভনীয়। অনেক মহিলাই নাইটি পড়ে দোকানে যান, রাস্তায় ঘোরেন, প্রতিবেশীদের সঙ্গে গল্প করতে যান। দিনমানে পুরুষদের সামনে এমন রাত পোশাক পরে উস্কানি দেওয়া বন্ধ করতেই এমন ফতোয়া। নির্দেশ ঠিকঠাক পালন হচ্ছে কি না সেটা জানতে চুপিচুপি নাকি একটা কমিটিও গঠন করা হযেছে। যদিও গ্রামের প্রাক্তন মোড়ল গনশালা মহালক্ষ্মী এই কমিটি গঠনের কথা অস্বীকার করেছেন।
মহালক্ষ্মীর কথায়, "আমাদের বর্ষীয়াণরা যে নির্দেশ দিয়েছেন সেটা তো পালন করতেই হবে। শুনছি মেয়েদের আপত্তি রয়েছে, কিন্তু দিনের কিছুটা সময় শুধু নাইটি পরতে বারণ করা হয়েছে। এর জন্য কোনও কমিটি তৈরি করা হয়নি। "
তা ফতোয়ার ধরনটা ঠিক কী রকম? মহিলারাই জানালেন, সকাল সাতটা থেকে সন্ধে সাতটা পর্যন্ত নাইটি পরলে ২০০০ টাকা জরিমানা দিতে হবে। লুকিয়ে যদি কেউ সেই পোশাক পরেন এবং সেটা কেউ দেখে ফেলে খবর দিয়ে দেন, তাহলে তাঁকে পুরস্কার দেওয়া হবে ১০০০ টাকা। তোকালাপল্লি গ্রামে বর্তমানে মহিলার সংখ্যা প্রায় ১৮০০। এমন ফতোয়া থেকে বাঁচতে তাঁরা এখন প্রশাসন ও সোশ্যাল মিডিয়াকেই হাতিয়ার করেছেন।