তুখোড় স্মৃতিশক্তির জন্য ১২ বছরেই সোনার মেডেল জিতে খবরের শিরোনামে এই কিশোর
দ্য ওয়াল ব্যুরো: স্মৃতিশক্তি বাড়ানোর জন্য কি রোজ আমন্ড খান? নিরালায় বসে মেডিটেশনে অভ্যস্ত আপনি? যদি এ সব কিছুই না করেন, তাহলে মরচে পড়া স্মৃতিশক্তিতে শান দিতে এখন থেকেই তৈরি হন। কারণ স্মৃতিশক্তির দৌড়ে সকলকে পিছনে ফেলে দিয়েছে ১২ বছরের এই
শেষ আপডেট: 1 January 2019 18:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: স্মৃতিশক্তি বাড়ানোর জন্য কি রোজ আমন্ড খান? নিরালায় বসে মেডিটেশনে অভ্যস্ত আপনি? যদি এ সব কিছুই না করেন, তাহলে মরচে পড়া স্মৃতিশক্তিতে শান দিতে এখন থেকেই তৈরি হন। কারণ স্মৃতিশক্তির দৌড়ে সকলকে পিছনে ফেলে দিয়েছে ১২ বছরের এই খুদে। তার মনে রাখার ক্ষমতা চমকে দিয়েছে বিশ্ববাসীকে।
ভারতীয় বংশোদ্ভূত এই কিশোর বর্তমানে সিঙ্গাপুরের বাসিন্দা। নাম ধ্রুব মনোজ। হংকং-এর ‘ওয়ার্ল্ড মেমরি চ্যাম্পিয়নশিপ’ প্রতিয়োগিতায় সেরার শিরোপা জিতে নিয়েছে ধ্রুব। ভারত, চিন, রাশিয়া, তাইওয়ান এবং মালয়েশিয়ার ২৬০ জন প্রতিযোগিকে পিছনে ফেলে দু’টো সোনার মেডেল ইতিমধ্যেই ঝুলিতে পুড়ে ফেলেছে সে।
মেমরি চ্যাম্পিয়নশিপের শিশু বিভাগে অংশগ্রহণ করেছিল ধ্রুব। মাত্র ১৫ মিনিটে ৮৭টা নাম ও মুখ, ১,১৫৫টা বাইনারি নম্বর, এবং কার্ডের সিকোয়েন্স মনে রেখে বাজিমাত করে দিয়েছে সে।

এই ধারালো বুদ্ধির রহস্যটা কী? ধ্রুব জানিয়েছে, স্মৃতিশক্তি বাড়ানোর জন্য ‘রোমান মেমরি টেকনিক’ অভ্যাস করে সে। চটপট মনে রাখার সহজ উপায় হিসেবে এই পদ্ধতি দীর্ঘদিন ধরেই বেশ জনপ্রিয়। এর অভ্যাস শুরু হয় ঘর থেকেই। চোখের সামনে যা কিছু দেখা যাচ্ছে সেটা মনে রাখা দিয়েই শুরু হয় স্মৃতিশক্তি বাড়ানোর প্রাথমিক পাঠ। ধীরে ধীরে ঘরের চৌহদ্দি পেরিয়ে বাইরের রাস্তাঘাট, মানুষজনের নাম ও মুখ মনে রাখা শুরু করতে হয়। কিশোর জানিয়েছে, স্কুলের পড়া শেষ করে প্রতিদিন এক ঘণ্টা করে রোমান মেমরি টেকনিক অভ্যাস করে সে। আর সেটাই কাজ করে মন্ত্রের মতো।
‘‘অক্টোবর থেকে এই পদ্ধতিতে স্মৃতিশক্তি বাড়ানোর চেষ্টা করছি। স্কুলের পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর আরও বেশি করে অভ্যাসে মন দিই আমি। দিনে তিন-চার ঘণ্টা অভ্যাস করি। বাইনারি নম্বর মনে রাখার জন্য দিনে ছ’ঘণ্টার বেশি অভ্যাস করেছি,’’ সোনার মেডেল জিতে বিজয়ীর গর্বে জানাল ধ্রুব।
ছেলের সাফল্যে খুশি ধ্রুবর বাবা মনোজ প্রভাকরও। একটি বেসরকারি সংস্থার ম্যানেজারের পদে রয়েছেন তিনি। বললেন, ‘‘আমি দেখেছি ধ্রুব এই কাজটা করতে ভালোবাসে। ওর আনন্দ দেখেই আমরা আরও বেশি উৎসাহ দিই।’’