দ্য ওয়াল ব্যুরো: অবাক করা তথ্য, অলিম্পিকের ইতিহাসের সঙ্গে বাংলার কৃষ্ণনগরের নাম জড়িয়ে গিয়েছে একেবারে কাকতালীয়ভাবেই।
আধুনিক অলিম্পিকের জনক পিয়ের দ্য কুবার্তিন। ১৮৯৬ সালে এথেন্স দিয়ে শুরু হয় অলিম্পিক যাত্রা। গ্রেট ব্রিটেনের ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যাবে তাদের প্রথম পদক জিতেছিলেন চার্লস হেনরি স্ট্রুয়ার্ট গেমলিন। তিনি জন্মেছিলেন কৃষ্ণনগরে। চার্লসের বাবা ছিলেন খ্রিস্টান মিশনারি, সেইসময় কৃষ্ণনগরে ঔপনিবেশিক ছিল। ওই নামী অ্যাথলিটের প্রথম স্কুল ছিল কৃষ্ণনগরের মিশনারি কলেজিয়েট স্কুল।
জন্মসূত্রে কৃষ্ণনাগরিক বললেও তিনি বেশি দিন ছিলেন না নদীয়ায়। ১৮৭২ সালের ২৮ মে জন্ম। ছোটবেলাতেই চার্লস চলে গিয়েছিলেন ইংল্যান্ডে। ম্যাগডালেন কলেজ স্কুল এবং পরে অক্সফোর্ডের কেবল কলেজে পড়াশোনা।
চার্লস তারপরে বেশদিন যদিও থাকেননি বাংলার ওই পুরনো শহরে। প্রথম অলিম্পিকে অবশ্য গ্রেট ব্রিটেনের হয়ে নাম লিখিয়েছিলেন চার্লস। ১০০ মিটার দৌড়ে প্রথম হিট পেরিয়েছিলেন। দ্বিতীয় হিটে তিনি তৃতীয় হয়েছিলেন, তাই ১০০ মিটার ফাইনালে দৌড়তে পারেননি। ৪০০ মিটার দৌড়ে ফাইনালে গিয়েছেন বলেই তিনি পদক পেয়েছিলেন। সেইসময় ফাইনালে গেলেই ব্রোঞ্জ পদক দেওয়ার নিয়ম ছিল।
বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় অ্যাথলেটিক্স এবং ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। যদিও ‘ইউনিভার্সিটি ব্লু’ বলতে যা বোঝায়, সেই সম্মান পাননি কখনও। ১৮৯৫ সালে কলাবিভাগে স্নাতক হয়েছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়ে সামারফিল্ডস স্কুলে সহকারী শিক্ষক এবং সাউথপোর্টের কাছে ফ্রেশফিল্ড-এর হোমউড স্কুলে ‘হেডমাস্টার’-ও ছিলেন তিনি। এর মাঝে ১৯০৩ সালে ধর্মযাজকও হয়েছিলেন।
ভারতের খেলার ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যাবে, বহু ইংরেজের জন্ম হয়েছিল ভারতে, তারপর তাঁরা চলে যান লন্ডনে। কলিন কাউড্রের জন্ম ভারতের বেঙ্গালুরু-তে, টেড ডেক্সটারের জন্মস্থানও ভারতে, পরে তিনি চলে যান ইতালির মিলানে। নর্ম্যান প্রিচার্ডও বহুদিন ছিলেন কলকাতায়। শিকড় কলকাতায় হলেও তাঁরা নিজেদের দেশে ফিরে তাদের হয়েই প্রতিনিধিত্ব করেন বিভিন্ন ক্ষেত্রে।